

বারীনের গর্ভধারিণী মা পাগল। পাগল মায়ের সঙ্গে বারীন থাকত রোহিণী গ্রামের একটা বড় বাড়িতে। ওই বাড়িতে সামনে পেছনে দুটো লম্বা বারান্দা। বাড়ির ভেতরে পাঁচটা বড় বড় ঘর। রোহিণী গ্রামে থাকলেও বারীনের জন্ম এখানে নয়। দশ বছর আগে বারীনের জন্ম হয়েছিল সাত সাগর আর তেরো নদীর পাড়ে, লন্ডনের উপকণ্ঠে ক্রিস্টাল প্যালেসের কাছে। লন্ডনে থাকতে বারীনের মা স্বর্ণলতা ঘোষ পুরোপুরি পাগল হয়ে যায় নি। স্বর্ণলতার চিকিৎসা করছিলেন ডক্টর ম্যাথিউ। জন্মের পর বারীনের নাম স্বর্ণলতা রেখেছিলেন ইমানুয়েল ম্যাথিউ ঘোষ। ১৮৭৯ সালে বারীনের বাবা ডাক্তার কৃষ্ণধন ঘোষ একাই ভারতে ফিরে যান। বারীনের জন্মের তিন মাস পর শুধু বারীন আর সরোজিনীকে নিয়ে স্বর্ণলতা দেশে ফিরে এল। বারীনের তিন বড় ভাই ম্যানচেস্টারে কৃষ্ণধনের পরিচিত এক পাদরির বাসায় রয়ে গেল। দেশে ফেরার পর বাবা, মা, সরোজিনী আর বারীন কি কখনো একত্রে ছিল?