

লতিকা কাপড়ের আঁচলে চোখ মুছিতে মুছিতে ‘আসি’ বলিয়া পিছন ফিরিয়া আবার ঘুরিয়া দাঁড়াইয়া বলিল, ‘আপনি উঠিতেছেন না কেন? আপনার শরীর খারাপ করিয়াছে কি? আমি অপেক্ষা করিব?’ মনোহর বলিল, ‘না তেমন কিছু না। কেবল জীবনের সমীকরণের কথা ভাবিতেছি, মিলাইতে পারি কি না।’ লতিকা জানিতে চাহিল, ‘মিলাইতে পারিয়াছেন?’ ‘না, বড় জটিল বোধ হইতেছে, তবে মনে হইতেছে কোনো না কোনোভাবে মিলিয়া যাইতে পারে।’ মনোহর বলিল। ‘চেষ্টা করিয়া দেখুন, মিলাইতে পারিলে ভালো হয়। নৌকা ছাড়িবার সময় হইয়াছে, আমার আর অপেক্ষা করা চলে না। ভালো থাকিবেন।’ এই কথা বলিয়া লতিকা চোখ মুছিতে মুছিতে চলিয়া যাইতে উদ্যত হইয়া নিজের অজান্তেই ফিরিয়া জানিতে চাহিল, ‘আপনি কখন যাইবেন?’ ‘হ্যাঁ, এই তো যাইব।’ কথাটি বলিতে যাইয়া মহেন্দ্র কি বলিয়া শেষ করিবে বুঝিতে পারিল না। যেন মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় দাঁড়াইয়া লতিকার দিকে তাকাইয়া রহিল। লতিকাও মুখে আর কোনো কথা কহিতে পারিল না, শুধু হাত জোড় করিয়া কপালে স্পর্শ করিয়া নীরবে ঘর হইতে বাহির হইয়া গেল। মনোহর দরজায় দাঁড়াইয়া লতিকার পথের দিকে চাহিয়া রহিল, তাহার খেয়াল হইল না, কখন লতিকা অদৃশ্য হইয়া গিয়াছে।