

মানুষের মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্যে তত্ত্বগত আদর্শ ও বাস্তব আদর্শ (model) উভয়েরই প্রয়োজন। আমাদের জন্য বাস্তব আদর্শ সেই সব ব্যক্তি যারা তত্ত্বগত আদর্শের মূর্ত প্রতীক। ইতিহাসে বহু নামী-দামী, ক্ষমতাশালী ও বীরত্বপ্রদর্শনকারী ব্যক্তিত্বের নাম-পরিচয়ের উল্লেখ ও কৃতিত্বের বিবরণ রয়েছে। জাতিগত বা আদর্শগত কারণে তাঁদেরকে ভক্তি-শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সম্ভ্রম সহকারে স্মরণ করা হয় এবং তাঁদেরকে নিয়ে গৌরব করা হয়। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে মানুষের জন্যে অনুসরণীয় আদর্শ হচ্ছেন নবী-রাসূলগণ (‘আঃ) সহ আল্লাহ্ তা‘আলার পক্ষ হতে নির্বাচিত খাছ বান্দাহগণ। আল্লাহ্ তা‘আলার খাছ বান্দাহগণ কেবল পুরুষদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন। মানব প্রজাতির ইতিহাসে এমন বেশ কিছু সংখ্যক নারীব্যক্তিত্বের সন্ধান পাওয়া যায় প্রকৃত মূল্যমানের বিচারে যাদের মর্যাদা অনেক উচ্চে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এমন যে, আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট মর্যাদার বিচারে নবী-রাসূলগণ (‘আঃ) ব্যতীত কোনো পুরুষই তাঁদের সমকক্ষ নন। এ ধরনের নারীব্যক্তিত্বের সাথে পরিচিতি কেবল নারীকুলের জন্যে প্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্তের প্রয়োজনেই যরূরী নয়, বরং ইসলামে নারীর মর্যাদার বাস্তব দৃষ্টান্ত হিসেবে ও তদ্সহ নারী সম্বন্ধে পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে সঠিক ধারায় নিয়ে আসার জন্যও প্রয়োজন। অত্র সংকলনের উদ্দেশ্য এ প্রয়োজন পূরণের পথে অন্ততঃ একটি পদক্ষেপ গ্রহণ।