

এই বইটি নৈতিকতার উপরে লেখা, ফার্সি এবং আরবিতে যাকে বলে আখলাক। এটা কোনো দার্শনিক কাজ নয় বরং নাজাফের মাদ্রাসার (হাওজা-এ-ইলম) ছাত্রদেরকে নৈতিকতায় উদ্বুদ্ধ করার এক প্রচেষ্টা। এই বইয়ে ইমাম খোমেনীর নৈতিক সংবেদনশীলতা ফুটে উঠেছে, প্রকাশ পেয়েছে মাদ্রাসার প্রতি নিষ্ঠা ও পিতৃসুলভ শঙ্কা। এতে পাঠক ইমামের বৈপ্লবিক চেতনা ও বিদেশি সাম্রাজ্যবাদীদের প্রতি ঘৃণার পাশাপাশি আবিষ্কার করবে স্রষ্টার ধ্যানে মগ্ন এক ব্যক্তির আধ্যাত্মিকতা। ইমাম খোমেনীর চিন্তাধারার গভীরে ইরফানী (অধ্যাত্ম্যবাদ) প্রবাহ বিদ্যমান, যা তাঁর নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে গড়ে তুলেছে। “ইরফান এবং নৈতিকতা– উভয়েই চরিত্রের উন্নতি সাধন নিয়ে কাজ করে কিন্তু ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে” – শহীদ মুতাহহারির এই মন্তব্যের প্রমাণ হলো এই বইটি। নৈতিক শিক্ষায় থাকে দোষ-গুণের বর্ণনা, আদেশ-নিষেধ ইত্যাদি; অপরদিকে ইরফানী শিক্ষায় থাকে এমনসব পদ্ধতির বর্ণনা, যার মাধ্যমে মানুষের আত্মা আল্লাহর দিকে এগিয়ে যায় এবং সেই যাত্রায় স্বর্গীয় গুণাবলি অর্জন করে। নৈতিক পরিবর্তন সাধনের যে পথের কথা ইমাম খোমেনী বলেছেন তা হলো আত্মিক উন্নয়নের এমন এক পথ, যাতে পারদর্শী ব্যক্তি দুনিয়াবি চাওয়া-পাওয়াকে জয় করে, অতঃপর এতে (দুনিয়াবি বিষয়ে) নিস্পৃহ হয়ে গিয়ে আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণরূপে নিবেদিত হয়ে যায়। এই পথকে আল্লাহর দিকে যাত্রা হিসেবে অভিহিত করা হয়, ইরফানে যা কেন্দ্রীয় আসন দখল করে আছে এবং যাকে ইসলামের মূলও বলা যেতে পারে। সুফিদের কবিতায় এই যাত্রাকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণনা করা হয়েছে; বর্ণনা করা হয়েছে মোল্লা সাদরা-এর অসাধারণ দর্শনে এবং ইমাম খোমেনীর কবিতা ও শিক্ষাতেও।