

রাতের আকাশটা ছিল অন্ধকার, আর হালকা ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছিল। রুদ্র শহরের উপকণ্ঠে পুরোনো এক লাইব্রেরিতে ঢুকল। লোকজন এই লাইব্রেরি নিয়ে নানা গুজব বলত—বলা হত, রাতে এখানে অদ্ভুত সব শব্দ শোনা যায়। কেউ বলত, লাইব্রেরির ভেতরে এমন কিছু আছে যা মানুষকে পাগল করে দেয়। রুদ্র এসব কথা একদমই বিশ্বাস করত না। সে একজন লেখক, নতুন বইয়ের জন্য রহস্যময় কিছু খুঁজছিল। তাই তার এই লাইব্রেরিতে আসা। ভেতরে ঢুকতেই একটা ঠান্ডা বাতাস তার মুখে লাগল। দেওয়ালে ঝুলানো ঘড়ির কাঁটা থেমে ছিল, এবং চারপাশে বইয়ের তাকগুলোতে জমে থাকা ধুলো প্রমাণ করছিল যে এখানে বহুদিন কেউ আসেনি। রুদ্র একটা মোমবাতি জ্বালিয়ে সামনে এগোল। তার পায়ের শব্দ লাইব্রেরির নিস্তব্ধতাকে আরো ভৌতিক করে তুলছিল। একটা পুরোনো বইয়ের তাকের সামনে থেমে সে একটা বই বের করল। বইটা খুলতেই ভেতর থেকে একটা হলুদ কাগজের টুকরো পড়ে গেল। কাগজে হাতলেখা কিছু লাইন ছিল— "তুমি যদি সত্যিই জানার সাহস রাখো, তবে মেঝের নিচে যাও। সাবধান, ফিরে আসার রাস্তা খুঁজে পাবে না।" রুদ্রের কপালে ঘাম জমে উঠল। সে কী করবে? কৌতূহল তাকে টানছিল, কিন্তু বিপদের শঙ্কাও তাকে আটকে রাখছিল। রুদ্রের মনে কৌতূহলের ঢেউ ক্রমেই বাড়তে লাগল। অজানা রহস্য তাকে টানছিল। তবে, ভেতরে এক ধরনের অজানা আতঙ্কও কাজ করছিল। কিছুক্ষণ দ্বিধার পর, সে মোমবাতি হাতে চারপাশে তাকিয়ে দেখতে লাগল। মেঝের উপর ধুলো জমে থাকলেও কয়েকটি পাথরের টাইলস অন্যগুলোর চেয়ে একটু আলগা মনে হচ্ছিল। রুদ্র সেদিকে এগিয়ে গেল। তার জুতো দিয়ে চাপ দিতেই টাইলসটা একটু নড়ে উঠল। নিচে একটা ছোট লোহার রিং দেখা গেল। সে রিং ধরে টাইলসটা তুলতেই অন্ধকারে নেমে যাওয়া সিঁড়ি দেখা গেল। সিঁড়ি থেকে ঠান্ডা একটা বাতাস উপরের দিকে আসছিল, যেন মাটির নিচে কোনো এক অজানা জগত আছে। রুদ্র মোমবাতি শক্ত করে ধরে নিচে নামা শুরু করল। প্রতিটি ধাপে তার পায়ের শব্দ প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল, আর তার সঙ্গে সঙ্গে অজানা একটা গন্ধ তাকে ঘিরে ধরছিল। নিচে নেমে সে দেখতে পেল একটি বড় ঘর। ঘরজুড়ে পুরোনো কাঠের তাক আর বুকশেলফে অদ্ভুত ধরনের বই ছড়ানো। ঘরের এক পাশে একটা পাথরের টেবিলের উপর রাখা ছিল কালো রঙের একটা পুঁথি। পুঁথিটার চারপাশে পাথরের খোদাই করা অক্ষরগুলো আলোর প্রতিফলনে হালকা ঝিলমিল করছিল। রুদ্র পুঁথিটার কাছে গিয়ে হাত বাড়াতেই পেছন থেকে একটা ভয়ঙ্কর গর্জন শোনা গেল। সে ঘুরে দাঁড়িয়ে দেখতে পেল, অন্ধকার থেকে লালচে চোখের এক ছায়ামূর্তি ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসছ এবার কী করবে রুদ্র? পুঁথিটা হাতে নিয়ে দৌড়াবে, নাকি ছায়ামূর্তির রহস্য জানার চেষ্টা করবে?
Very good 👍
Read all reviews on the Boitoi app
Nice
Masallah