

রাত তখন প্রায় বারোটা। নয়ন মোবাইল হাতে শুয়ে আছে। ঘুমানোর চেষ্টা করছিল, কিন্তু ঘুম আসছিল না। মেসেঞ্জারে স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ একটি নোটিশ পেল— "আপনার এক নতুন মেসেজ এসেছে" মেসেজটি কোনো পরিচিত বন্ধুর নয়, অপরিচিত এক আইডি থেকে। কৌতূহল নিয়ে ইনবক্স খুলল। ➤ আরু: আসসালামু আলাইকুম। নয়ন কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে থাকল স্ক্রিনের দিকে। একটা অপরিচিত নাম, অথচ অভিবাদনটিতে বেশ আন্তরিকতা রয়েছে। সে ভাবল, উত্তর দেওয়া উচিত কি না। কয়েক সেকেন্ড পর টাইপ করল— ➤ নয়ন: ওয়ালাইকুমুস সালাম। আপনি কে? উল্টো দিক থেকে দ্রুত উত্তর এল— ➤ আরু: আমি আরু, বগুড়া থেকে। আপনার কিছু লেখা পড়েছি। খুব ভালো লেগেছে, তাই কথা বলতে ইচ্ছে হলো। নয়নের মনোযোগ এবার সম্পূর্ণভাবে ফোনের দিকে কেন্দ্রীভূত হলো। একটা অপরিচিত মেয়ে, তার লেখা পড়েছে! ➤ নয়ন: জাযাকাল্লাহ। আপনি কোথায় পড়াশোনা করেছেন? ➤ আরু: আমি নার্সিং পড়েছি। এখন হাসপাতালের চাকরির সাথে সাথে ইসলামিক জীবনধারা অনুসরণ করার চেষ্টা করছি। এই কথাটি নয়নের মনে গভীর ছাপ ফেলল। আজকালকার যুগে কতজন মেয়ে আছে, যারা চাকরির পাশাপাশি ইসলামকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়? ➤ নয়ন: মাশাআল্লাহ! আপনি কি সবসময়ই ইসলামের পথে ছিলেন, নাকি পরে এসেছেন? ➤ আরু: আলহামদুলিল্লাহ, ছোট থেকেই ইসলামের প্রতি একটা টান ছিল। কিন্তু যখন ভালোভাবে কুরআন-হাদিস পড়তে শুরু করলাম, তখন বুঝতে পারলাম— আসল সুখ তো এখানেই! নয়ন মুগ্ধ হয়ে গেল। মনের অজান্তেই একটা হাসি ফুটে উঠল তার মুখে। ➤ নয়ন: সত্যিই, যারা কুরআনের আলো পায়, তাদের জীবন বদলে যায়। আল্লাহ আপনাকে আরও বেশি দ্বীনের পথে রাখুন। ➤ আরু: আমিন! আপনিও দ্বীনের পথে আছেন, এটা বুঝতে পারছি। জানেন, আমি সবসময় এমন একজন বন্ধুর খোঁজ করছিলাম, যার সাথে ইসলামের বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলা যায়। নয়ন কিছুক্ষণ ভাবল, তারপর লিখল— ➤ নয়ন: আলহামদুলিল্লাহ। সত্যিকারের বন্ধুত্ব তো এমনই হওয়া উচিত, যেখানে দুনিয়া নয়, আখিরাতের জন্য পরস্পরকে সাহায্য করা যায়। আরু দীর্ঘ সময় কোনো উত্তর দিল না। নয়ন অপেক্ষা করতে লাগল। অবশেষে মেসেজ এল— ➤ আরু: আপনি কি কখনো ভেবেছেন, একজন সঙ্গী কেমন হওয়া উচিত? নয়নের বুকের ভেতর ধক করে উঠল। এই কথার মানে কী?