

মায়ের মৃত্যু সংবাদ শুনে দেশে ফিরে অদ্ভুত এক রহস্যময় ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে অরনী। মৃত্যুর আগে তার মা রেখে গেছে অদ্ভুত এক ধাঁধা আর ধোঁয়াশা মেশানো অতীত। মায়ের মৃত্যু রহস্য উন্মোচিত করতে হলে তাকে সমাধান করতে হবে এই ধাঁধার এবং ডুব দিতে হবে অতীতে। পরিস্থিতির চাপে বাধ্য হয়ে তাকে সাহায্য নিতে হয় মায়ের খুনের সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া মানুষটির কাছ থেকেই। ঘটনার পরিক্রমায় নিজেও সে নাম লেখায় পলাতক আসামির খাতায়। অদ্ভুত এই রহস্য সমাধান করতে গিয়ে একদিকে পুলিশের তাড়া, অন্যদিকে অদৃশ্যভাবে তাদেরকে সাহায্য করতে থাকে অচেনা একদল লোক। ঘটনার ঘাত প্রতিঘাতে সে জানতে পারে সমস্ত রহস্যের বীজ রোপিত আছে ইতিহাসের বিশেষ একটি দিনে, ২৫শে মার্চ, ১৯৭১।
বহুদিন পর এক বসায় কোন বই শেষ করলাম। এত টানটান উত্তেজনার মাঝে বই বন্ধ করা সম্ভব না। ১৯৭১ এর ২৫শে মার্চের ভয়ংকর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মনিরুজ্জামান তাঁরই প্রিয় দুই ছাত্রকে নিয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছেন বন্ধুর রেখে যাওয়া ক্লু। আরেকদিকে ২০১৪ সালে অরনি দেশে ফিরেছেই মায়ের মৃত্য সংবাদে। মা রেখে গেছে তার জন্য কোন এক রহস্য, আর বিশ্বাস করতে বলেছে শুধু তার প্রিয় ছাত্র হাসানকে। কিন্তু হাসানকেই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে মায়ের মৃত্যুর দায়ে। ১৯৭১ সালের গল্পের অংশটুকুতে প্রচন্ডরকম ভয় কাজ করেছে। গল্পের মধ্যে একই সাথে ওই রাত্রের ভয়াবহতা সাথে ক্লু খুঁজে যাওয়ার প্রতিটা সাহসী পদক্ষেপের বর্ণনা অনেক ভালো লেগেছে। ২০১৪ সালের গল্পও কম যায়না কিছুতে। কিন্তু একদম শেষে গাজীপুরে গিয়ে কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলি। কোথা থেকে কে কাকে গুলি করলো বা কি ঘটলো বুঝার জন্য ২বার করে পড়া লেগেছে। এটা হতে পারে ইবুক পড়ার কারণে অনেক জায়গায় জ্যোতি চিহ্নের ব্যবহার ভুল ছিল বা চিহ্ন ছিলইনা, এই কারণে। বানান ভুলের ব্যাপারেও ইবুকের অবদান থাকতে পারে। আফতাব সাহেবের চরিত্রটা আরেকটু বেশি হাইলাইটেড হলে ভালো লাগতো। ১৯৭১ সাল থেকে ২০১৪ পর্যন্ত রহস্যটা যত্ন করে লালন করা এবং পরবর্তী কারো কাছে পৌঁছে দেয়ার কাজটা কিন্তু সে না থাকলে সম্ভব হতো না। সব মিলিয়ে অসাধারণ একটা গল্প।
Read all reviews on the Boitoi app