

আমার এবং রূপার সংসারের বয়স এখন ষোল বছর হতো, যদি আমরা একসাথে থাকতাম। সদ্য পনের থেকে ষোলতে পা দেওয়া দুই কিশোরী, সানসিল্ক শ্যাম্পু করা অবাধ্য চুলকে টাইট করে বেঁধে বেনী করে দুপাশে ঝুলিয়ে দেওয়া মেয়েগুলো জানতো না যে, খেলনা পাতি নিয়ে খেলতে বসা একসময় সংসার মানতে ইচ্ছে হবে। আমি এবং রূপা স্কুলের বান্ধবী। আমি প্রথম বেঞ্চের ছাত্রী হলেও রূপা মিডল বেঞ্চে। ২০০৯ সালে আমি এবং রূপা গ্রামীণ কোঠায় চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তি হই। স্কুলের বন্ধুত্বের মধ্যে একটা ম্যাজিক থাকে। এক বেঞ্চে বসা না হলেও জানা থাকে কার বাড়ি কোথায়, বাবা কী করে, এবং কোন বান্ধবীর ভাই-বোন এই স্কুলে পড়ে? আমার এবং রূপার বন্ধুত্ব জমতে বেশিক্ষণ সময় নেয়নি। আমার বাবার বাজারে হার্ডওয়্যার এর দোকান এবং রূপার বাবার পড়ার মোড়ে বড় মুদির দোকান। দুজনের পরিবার উচ্চ মধ্যবিত্ত বলা যায় গ্রামের জন্য। হলে সিট পাইনি দুজনেই। প্রথমে আত্মীয়ের বাসায় থাকলেও মাস খানিক পরেই আমরা বাসার খোঁজা শুরু করি। সদ্য সেলোয়ার কামিজের সাথে ওড়না দিতে শুরু করা দুই কিশোরীকে কে বা বাসা দেবে? এক দুপুরে কলেজ থেকে ফিরছিলাম, রূপার ভীষণ ওয়াশরুমের চাপ পড়ল। হাঁটতে গিয়ে একটি গেইট খোলা পেলাম, যা বেশ পুরানো ধাঁচের, বড় একটি আম গাছ, শেওলা ধরা কলতলা, পাশ ঘেঁষে ওয়াশরুম। অন্য পাশে লম্বা স্কুলের মতো তিনটি সেমিপাকা রুম। আমি এবং রূপা কোন মতে চুপিচুপি ঢুকে ওয়াশরুমে ঢুকতেই এক তীক্ষ্ণ স্বর ছুটে এলো, যা কলিজা এপার ওপার করে দিল। বের হয়ে এলেন এক বৃদ্ধা, যৌবন কালে অতিরিক্ত সুন্দরী হওয়ার অভিশাপ যেন ছাড়ছে না এখনো। সাদা থানে যে মরিচার প্রলেপ পড়েছে এমন হলুদ সাদা শাড়ি পরে বের হয়ে এসেই চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘সরকারি বাথরুম পেয়েছ নাকি মেয়ে?’