

সে চেয়েছিল শুধু একজনকে—নিঃশর্ত, নিঃস্বার্থ ভালোবাসায়। প্রতিটি নামাজ শেষে দু’হাত তুলে প্রার্থনা করত, অথচ যার জন্য সে প্রার্থনায় চোখ ভিজাত, সে ভালোবেসেছিল অন্যকে। তবুও অপেক্ষা ছিল, বুকের গভীরে চাপা স্বপ্ন ছিল—একদিন হয়তো সে ফিরে তাকাবে… কিন্তু নিয়তি বড় নিষ্ঠুর! এক ঝড়-বৃষ্টির রাতে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তারা এক হয়ে গেল, অথচ হৃদয়ের দূরত্ব থেকে গেল বহুদূর। একদিকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা, অন্যদিকে কাছে পাওয়ার আকুলতা—এই টানাপোড়েনের মাঝেই সময় এগিয়ে গেল। অবশেষে সম্পর্কের মোড় বদলাল, ভালোবাসা পেল স্বীকৃতি, কিন্তু তখনই জীবনের সবচেয়ে নির্মম সত্য প্রকাশ পেল—তার ভেতরে মৃত্যু বাসা বেঁধেছে। আরও কিছুদিন হয়তো বাঁচতে পারত, কিন্তু সে নিজের জীবনের চেয়ে ভালোবাসার অংশকেই বেছে নিল। শেষ ইচ্ছায় সে নিজের হৃদয়ের মানুষকে বলল—"তাকে বিয়ে করো! আমি চাই না আমার সন্তান মা হারা হয়ে বড়ো হোক।" এরপর? এক ফুটফুটে কন্যাসন্তান রেখে সে বিদায় নিল চিরদিনের মতো। চার বছর পর, এক জন্মদিনের সকালে, ছোট্ট সেই প্রাণটিকে বুকে জড়িয়ে কেউ এসে দাঁড়াল এক কবরের সামনে। বাতাসের প্রতিটি শিরশিরে স্পর্শে ভেসে এল এক চাপা দীর্ঘশ্বাস।