

এক ঝড়ের রাতে বাড়ি থেকে পালিয়ে শাদাবের কাছে এসেছিল নওমিকা। খুলে রেখে এসেছিল ওমরের দেওয়া এঙ্গেজমেন্টের আংটিটা। ছেড়ে এসেছিল সম্পর্ক, পরিবার - একটা গোটা জীবন! ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিল শাদাবের সাথে। নয় বছরের দাম্পত্যে সুখী নওমিকার কোলজুড়ে এসেছে সাত বছরের কন্যা তুশমি। নয় বছর পরে এক বৃষ্টিস্নাত দুপুর আর পুরোনো একটা ডায়েরি ওর বুকে ঝড় তুলল। সেই তুফানে ভেঙে গেল ওর সাজানো তাসের ঘরটা! ও জানল, শাদাব ওর সাথে নয়, ওর ছোটোবোন তমালিকার সাথে ঘর বাঁধতে চেয়েছিল! তমালিকার শাদাবকে চুরি করেছিল নওমিকা! চুরি করে চুরির মাল নিজের কাছে লুকিয়ে রেখেছিল নয় বছর ধরে। এখন কি ফিরিয়ে দিতে হবে? শাদাবকে তমালিকার কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে? শাদাবকে ভালোবেসে তমালিকা আজও বিয়ে করেনি। পবিত্র গ্রন্থ ছুঁয়ে শাদাবও প্রতিজ্ঞা করেছিল, তমালিকা ছাড়া আর কাউকে ভালোবাসবে না ও। আজও তমালিকাই শাদাবের প্রিয়তমা! তাহলে নওমিকা কে? কার প্রিয়তমা ও? ওমরের? আজও কি ওমর অপেক্ষায় প্রিয় নওমির জন্য? নাকি কোনোদিন, কারোরই প্রিয়তমা নয় নওমিকা?

"মারাত্মক সুন্দর একটা উপন্যাস! না একে গল্প বলা যাবে না। ফ্ল্যাপ দেখে কিনি কিনি করেও কেনা হয়নি অনেকদিন, কেনার পরেও পড়া হয় নি। অথচ ভিতরে যে কি গুপ্তধন লুকানো তা কে জানতো! গ্রামবাংলার পটভূমিতে যৌথ পরিবারের রাতদিনগুলো অসম্ভব মায়ামায়, শুধু পড়তেই মনে চায়। অথচ এর ভিতরেই রচিত হলো নিদারুণ ষড়যন্ত্র! প্রাসাদ পলিটিক্সে হার না মানা চরিত্র গুলো প্রশংসার দাবিদার। রমিজ মিয়ার মত কিছু মানুষ সমাজে থাকে, আপনের চেয়ে পরের জন্য দরদ থাকে বেশি। বড়মা তো জীবনে কিছুই পেলনা, ঠকেই গেল। শুধু মেয়েকে জিতিয়ে দিল। বিবাহিত মেয়েরা বাপের বাড়ি থাকলে এর ফলও আসলে ভালো হয় না। আবার সবসময় সিনডারেলাই যে নায়িকা হবে তার কি গ্যারান্টি? সবচেয়ে বেশি সাফার করলো শাদাব। বেচারা অপরাধবোধেই কাটিয়ে দিচ্ছিল পুরোটা জীবন। বিয়ের মুহূর্তটা যখন ও নিজে বর্নণা করছিল, কি অপরিসীম ভালোলাগা আর স্বস্তিতে মনটা ভরে গেল। নওমিকার মত মেয়ে হয় না, এত পরিস্কার এত নিষ্পাপ কিন্তু বোকাটা ❣️❣️❣️ শেষটা সবার জন্যই সুন্দর।"
কিনে আর দেরি করিনি একবসায় শেষ করেছি।চুম্বুকের মত টানছিলো যেন।এত ভালো লাগলো।মাঝে কিছুটা গল্প থেমে ছিল একই জায়গায় ঘুরে ফিরে।ঐটা বাদ দিলে বাকি সব ঠিকঠাক
Read all reviews on the Boitoi app
এইতো মাত্র কিছুক্ষণ আগেই ইবুকটা পড়ে শেষ করলাম। ফেসবুকে এটার একটা অংশ পড়ার পর মনে হচ্ছিল, এই ইবুক পুরোটা না পড়লে আমি কোনোভাবেই শান্তি পাবোনা। নওমিকা আর শাদাবের শেষ পরিণতি, সেই ডায়েরিটা আর ডায়েরির আসল রহস্য সব জানার জন্য রীতিমতো পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। এখন পড়া শেষ করে আমি জাস্ট ঘোরের মধ্যে আছি। শাদাবকে প্রথমে বিরক্ত লাগলেও ওর পার্সপেক্টিভ বুঝার পর থেকে এই চরিত্রটাকে আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। ও আসলে একটা দীর্ঘসময় নিজস্ব গন্ডির ভেতর নিজের অনুভূতিকে তালাবদ্ধ রাখতে গিয়ে পরে নওমিকার সাথে যে অনুভূতি প্রকাশ করা দরকার সেটা চাইলেও প্রকাশ করতে পারেনি। কোথাও না কোথাও একটা লম্বা সময় সে একটা লুপে আটকে ছিল, যেটা থেকে বের হওয়ার জন্য সেই ডায়েরিটা আসলেই দরকার ছিল। আর নওমিকা চরিত্রটা আমার এত্তো ভালো লেগেছে! একদম মায়া মায়া একটা চরিত্র। শাদাব আর তমার বিষয়টা জানার পর ওর কোনো কাজ আমার বাড়াবাড়ি মনে হয়নি। ভেতরে ভেতরে ভেঙেচুরে গেলেও সবার সামনে নিজেকে শক্ত রেখেছে। যদিও মেয়েটা সাংঘাতিক ইমোশনালফুল! আর ঐযে রাজপ্রাসাদের ষড়যন্ত্রের ব্যাপারটা, ওটা পড়ে আমি জাস্ট স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। পলিন আর তমালিকাকে নিয়ে তো কোনো কথাই হবেনা। লেখিকা ওদের মনস্তাত্ত্বিক দিকটা এতো স্পষ্ট ও সহজভাবে উপস্থাপন করেছেন যে আমি পুরো মুগ্ধ হয়ে পড়েছি। প্রথমদিকে, পলিনের ডায়েরির লেখাগুলো পড়ে ওর এই সাংঘাতিক সাইকোলজিক্যাল ইস্যু নিয়ে আমি বিন্দুমাত্রও ধারণা করতে পারিনি। সত্যি বলতে শেষ অবধি আমার ওদের দুজনের প্রতি কোনো মায়া, করুনা কিছুই কাজ করেনি। এদের মতো বিরক্তিকর চরিত্রদের প্রতি কেবল বিরক্তিই এসেছে আমার। ওমর! ওমর এত্ত স্ট্রং এন্ড শার্প একটা ক্যারেক্টার! আমার মনে হয়েছে পুরো ইবুকে ওর প্রেজেন্স কম থাকলেও ওর ইফেক্ট অনেকখানি। এই চরিত্রটাকে আমি বেশ ইনজয় করেছি। আর রয়েছে স্নেহ! এই স্নেহটা না থাকলে কি যে হতো! ওর চিন্তাধারাও বেশ প্রশংসনীয়! ও যখন সবকিছু এক্সপ্লেইন করছিল ঐ মুহুর্ত টা আমি কি যে প্রশান্তি নিয়ে পড়েছি তা বলে বুঝাতে পারবোনা। আর নওমিকার মায়ের জন্য আমার মায়াই লেগেছে। দেখা গেছে বাড়ির কর্তার স্ত্রী হয়েও তিনি একপ্রকার অবাঞ্ছিতর মতোই ছিলেন। শাদাব-নওমিকার সম্পর্ক, সম্পর্কের টানাপোড়েন, নিজস্ব চিন্তাধারা সবই যে একটা লুপে এসেছে আটকে গিয়েছিল আবার সেই লুপে এসেই সেই টানাপোড়েন ছুটেছে। ওদের এন্ডিং একদম আমার মনমতো হয়েছে। কোনোরকম বাড়াবাড়ি, মাত্রাতিরিক্ত কিছু ছিলো না। একদম সুন্দর, স্বচ্ছ আর স্নিগ্ধ একটা সমাপ্তি! এককথায় পারফেক্ট! ছোট্ট তুশমি! ওকে আমার সাংঘাতিক ভালো লেগেছে। কী বুঝদার, আদুরে একটা বাচ্চা! মাম্মামকে কী সুন্দর বোঝে, মাম্মামের পছন্দ অপছন্দের খেয়াল রাখে। শী ইজ সাচ আ সুইটহার্ট!
না পাওয়া জিনিস সবসময় অমূল্য আর পাওয়া জিনিস সস্তা।আমার জন্য এটা বড় শিক্ষনীয় দিক ছিল। আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র নওমি।
মারাত্মক সুন্দর একটা উপন্যাস! না একে গল্প বলা যাবে না। ফ্ল্যাপ দেখে কিনি কিনি করেও কেনা হয়নি অনেকদিন, কেনার পরেও পড়া হয় নি। অথচ ভিতরে যে কি গুপ্তধন লুকানো তা কে জানতো! গ্রামবাংলার পটভূমিতে যৌথ পরিবারের রাতদিনগুলো অসম্ভব মায়ামায়, শুধু পড়তেই মনে চায়। অথচ এর ভিতরেই রচিত হলো নিদারুণ ষড়যন্ত্র! প্রাসাদ পলিটিক্সে হার না মানা চরিত্র গুলো প্রশংসার দাবিদার। রমিজ মিয়ার মত কিছু মানুষ সমাজে থাকে, আপনের চেয়ে পরের জন্য দরদ থাকে বেশি। বড়মা তো জীবনে কিছুই পেলনা, ঠকেই গেল। শুধু মেয়েকে জিতিয়ে দিল। বিবাহিত মেয়েরা বাপের বাড়ি থাকলে এর ফলও আসলে ভালো হয় না। আবার সবসময় সিনডারেলাই যে নায়িকা হবে তার কি গ্যারান্টি? সবচেয়ে বেশি সাফার করলো শাদাব। বেচারা অপরাধবোধেই কাটিয়ে দিচ্ছিল পুরোটা জীবন। বিয়ের মুহূর্তটা যখন ও নিজে বর্নণা করছিল, কি অপরিসীম ভালোলাগা আর স্বস্তিতে মনটা ভরে গেল। নওমিকার মত মেয়ে হয় না, এত পরিস্কার এত নিষ্পাপ কিন্তু বোকাটা ❣️❣️❣️ শেষটা সবার জন্যই সুন্দর।
অনেক সুন্দর বাস্তবতায় মোড়া ফিল গুড টাইপের একটি গল্প ছিল। তমা ধূর্ত, বৈষয়িক, স্বার্থান্বেষী হলেও পলিন কে কেন জানি আমার মানসিক বিকারগ্রস্ত মনে হয়েছে তমাকে না। তমা জাস্ট পলিনকে ব্যবহার করেছে।ওর ইনসিকিউরিটি দুঃখ এগুলা কে উসকে দিয়েছে আর নিজের ভিকটিম কার্ড প্লে করেছে। আর শাদাবের জন্য ওর সাথে নওমির এই দূরত্বটুকু দরকার ছিল। ওই যে বলে না সাধা জিনিসের কদর থাকে না, নওমিকা নিজে থেকে ওর কাছে এসেছিল আর ওর ভিতরে তমা কে না পাওয়ার একটা গ্লানি ছিল। এই ভেজালটা না হলে ও আসলে ঠিকঠাক মতো বুঝতে পারত না আসলে কাকে চায়। তমার আসল রূপ জানা আর ওর জীবনে নওমিকার গুরুত্ব অনুধাবন ওর আসলেই দরকার ছিল। শেষে আমাদের সিনেময় বেচারাকে কেন একা করে রাখলে? ওকেও একটা পূর্ণতা দিলে আরো ভালো লাগতো। সব মিলিয়ে পুরো গল্পটাই অনেক সুন্দর ছিল। মাঝে মাঝে বাস্তবতার সাথে হালকা ক্ল্যাশ করলেও গল্প তো গল্পই।
গল্পটা অনেক সুন্দর হয়েছে। মমে দাগ কাটার মতো হয়েছে গল্পটা। তবে, তমা এবং পলিনের শাস্তি দরকার ছিলো। আর এতো কিছু ওরা করেছে জানার পরেও পরিবারের এই নির্লিপ্ততা আমার একেবারেই পছন্দ হলো না।
অধিকাংশ গল্পে সুন্দরী, চালচুলোহীন, বাবাহারা মেয়েদের একদম রূপকথার গল্পের মতো মহান করে দেখানো হয়! কিন্তু এই গল্পটা একদম বাস্তব ঘটনার প্রতিচ্ছবি যেন! প্রাসাদ ষড়যন্ত্রকে আধুনিক যুগে ফুটিয়ে তোলা এরচেয়ে ভালোভাবে সম্ভব না বোধহয়। স্নেহ না থাকলে কি যে হতো! সিনডারেলা সেজে থেকে, নিজের রূপ ব্যবহার, অন্যের ভাগ্য কেড়ে নেয়া ধূর্ত মেয়েদের নিয়ে এমন কোন গল্প আগে পড়িনি। পরিশেষে বলবো নওমিকার মতো সরল মেয়েদের জীবনে যেন স্নেহর মতো ভাই আর ওমরের মতো শুভাকাঙ্ক্ষী থাকে। নয়তো নওমিকারা সব হারিয়ে ফেলে ধূর্ত রূপসী তমা,জ্ঞানপাপী অসুন্দর পলিন আর নিজের দুর্ভাগ্যের কাদুনি গেয়ে ভাইয়ের বাচ্চাদের হক মেরে দেয়া মেজ ফুপুর কাছে।।
অসাধারণ 💕
গল্পটা পুরোই মাথায় গেথে গেল...এত সুন্দর ❤️❤️
অনেক অনেক ভালো লেগেছে বইটা। হৃদয় ছুঁয়ে যাবার মতো।