

কালের ঘূর্ণাবর্তে পালাবদল ঘটেছে সবকিছুর, পরিবর্তন আসছে জীবনের রূপে ও রঙে। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে নতুন চিন্তা এসে গ্রাস করছে পুরোনো চিন্তার জগৎ। এভাবেই চলছে গ্রহণ-বর্জনের নিরন্তর চক্র। 'অরক্ষিত ছায়া' কাব্যগ্রন্থে প্রতিটি কবিতায় কবি বাস্তবতার রূপ দিয়েছে। 'প্রিয় মোহনগঞ্জ' কবিতায় কবি তার জন্মভূমি বিলীন হওয়া মাটির সুর তুলে ধরেছে। যে মাটির সাথে শৈশবের বেড়ে ওঠা অজস্র স্মৃতি, সেই মাটি ছাড়া কবি আজ নিঃস্ব উদাসীন হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে স্বচ্ছ মাটির সন্ধানে। রক্তের দাগ কখনো মুছে ফেলা যায় না—জীবন থেকে। কবি আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। পুরোনো পরিত্যক্ত বাড়িটি আজও স্মৃতির পাতায় জায়গা করে বসে আছে। প্রতিনিয়ত হাত জোর করে ডাকছে—শীতল পাটি বিছিয়ে। 'অরক্ষিত ছায়া' কবিতায় কবি দেখিয়েছে, কিভাবে বয়সের কাছে মানুষ শির নত করতে বাধ্য হয়। নিজের সুখের সময়টাকে ধরে রাখতে, কবি প্রিয়ার কোলে মৃত্যুর সাধ পেতে চায়। যেখানে তার অজস্র ভালোবাসা, পাখি হয়ে উড়ছে। শীতল বায়ু ঘুরছে আঙিনায় গোলাপের সুগন্ধি নিয়ে।