

ইংল্যান্ডের এক প্রত্যন্ত উপকূলবর্তী গ্রাম ক্লোভেলী। বাইরে থেকে দেখতে শান্ত, নিস্তব্ধ, প্রকৃতির কোলে আশ্রয় নেওয়া একটি সাধারণ গ্রাম। কিন্তু এই শান্ত চেহারার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়ানক অভিশাপ। শত শত বছর ধরে এখানে কোনো ফসল ফলেনি, কোনো শিশুর জন্ম টেকেনি। যে ক’টি শিশু জন্মেওছে, তাদের ভাগ্যে জুটেছে নিঃশব্দ, রহস্যময় মৃত্যু। গ্রামের মানুষজন নানা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। তারা যেন জীবন্ত মৃত—শুধু সময়ের অপেক্ষায়। বাইরের কেউ এখানে প্রবেশ করলে আর ফিরে যেতে পারে না। গ্রামের সীমান্ত যেন এক অদৃশ্য প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। লোকমুখে প্রচলিত আছে—এই গ্রাম নরকের অভিশাপে আক্রান্ত। কেউ বলে এক নিষ্ঠুর ধর্মযাজকের রক্তপিপাসু আত্মা ঘুরে বেড়ায় এখানে, কেউ বলে কোনো বঞ্চিত নারীর ছিন্নভিন্ন আত্মা তার সন্তান হারানোর প্রতিশোধ নিচ্ছে। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে ইলিয়া, এক রহস্যময়ী তরুণী, যার শরীরে বয়ে চলেছে ক্লোভেলীর গোপন ইতিহাস। তার কোলে জন্ম নেয় এক অনন্য শিশু, যার উপস্থিতিতে গ্রামের নিস্তরঙ্গ মৃত্যু-প্রবাহে দেখা দেয় এক অদ্ভুত অস্থিরতা। ইলিয়া কি পারবে অভিশাপের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করতে? নাকি সেও হারিয়ে যাবে ক্লোভেলীর অতল নিস্তব্ধতায়? এই গল্প অতীত, মৃত্যু, অভিশাপ ও মুক্তির এক জটিল জালের মধ্য দিয়ে পাঠককে নিয়ে যায় একটি গভীর, গা-ছমছমে অভিযাত্রায়—যেখানে প্রতিটি পাতা উন্মোচন করে একেকটি ভয়ঙ্কর সত্য।