

ভাদ্র মাস ঘরে ঢুকেছে এবং সেলিনা বেগমের ডেলিভারির সময় ঘনিয়ে এসেছে। তার শরীর ভালো লাগছে না এবং মনও ভালো নেই, কারণ স্বামীকে চিঠি দিয়ে উত্তর পাচ্ছে না। তিনি প্রথম সন্তানের মা হচ্ছেন, আনন্দের পাশাপাশি ভয়ের অনুভূতি কাজ করছে। স্বামী কাছে থাকলে কিছুটা সাহস পেতেন, তাই তিনি জায়নামাজে বসে দোয়া করছেন যেন সবকিছু ঠিকঠাকভাবে পার হয়। সপ্তাহ খানেক পর সেলিনা বেগমের কোল জুড়ে ফুটফুটে এক কন্যা সন্তান আসে, যিনি তার বাবা-মায়ের দ্বিতীয় সন্তান এবং বোনদের মধ্যে বড়। বাবার সিদ্ধান্তে, সন্তান সম্ভাবা সেলিনার সাত মাস পরেই মেয়েকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়, কারণ তার স্বামী সরকারি চাকুরে এবং একা বাসায় পোয়াতি মেয়ে রাখার সাহস হচ্ছিল না। ১৯৭১ সালে সারা বাংলাদেশে গণ্ডগোল বেঁধে যায়, কিছু কিছু গ্রাম নিরব থাকে, কিন্তু সেলিনার বাড়ির কেউ মুক্তি বাহিনীতে যোগ দেয়। আতঙ্ক, ভয় এবং উৎকণ্ঠা ঘরে ঘরে বিরাজ করছে, কারণ পাক হানাদার বাহিনী যে কোনো সময় গ্রামে ঢুকে পড়তে পারে। ঠিক এই ভয়াবহ যুদ্ধের মধ্যে সেলিনার মেয়ে পৃথিবীতে আসে, কিন্তু সেলিনা জানেন না কী করবেন, কারণ স্বামীকে চিঠি পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাননি।