
চুপচাপ শুয়ে আছে সে। অন্ধকারে। একটু দূরে সঙ্গী দুজনের মৃতদেহ পড়ে আছে। সারা পৃথিবীর কাছে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে চায়নি, তাই কষ্ট হলেও সঙ্গীদের মৃতদেহ সাথে করে নিয়ে এসেছে। জায়গাটা অন্ধকার, নিরাপদ। গত দু'দিন হলো আশপাশে কোন মানুষের সাড়া শব্দ মেলেনি। আপাতত এই জায়গাটাই তার ঠিকানা, অন্তত যতোদিন সে সুস্থ না হয়। শরীর প্রায় পুরোটা ঝলসে গেছে, মুখ নাড়াতেও কষ্ট হচ্ছে। যে তিনজনকে শাস্তি দেয়া দরকার ছিল তারা তাদের প্রাপ্য শাস্তি পেয়ে গেছে। তবে এতে তার মনের ক্ষোভ মেটেনি, বরং বেড়ে গেছে আরো। মাথার ভেতর নানা রকম আলোড়ন হচ্ছে, সব কিছু ভেঙে গুড়িয়ে ফেলার ইচ্ছেয় হাতের মুঠো শক্ত হয়ে যাচ্ছে একটু পরপর, তবে এখনই সময় হয়নি। বৃদ্ধ বিজ্ঞানী ধারনাও করতে পারেননি তিনি কী ধরনের মহাবিপদ তৈরি করে রেখে গেছেন। স্মৃতিশক্তি মুছে ফেলতে পারলেও বাকি অনেক ক্ষেত্রে সে এখন সাধারন মানুষের চেয়ে অনেক এগিয়ে। এরমধ্যে একটি হচ্ছে তার শারীরিক শক্তি, দ্বিতীয়টি হচ্ছে বুদ্ধি। এই দুইয়ের সমন্বয়ে আগামী দিনের মানুষের জন্য ত্রাস হয়ে উঠতে যাচ্ছে সে। বৃদ্ধ বিজ্ঞানী তাকে রুদ্র বলে ডাকতো, সংস্কৃত ভাষা আর উপমহাদেশিয় সংস্কৃতি সম্পর্তে ধারনা ছিল তার, 'রুদ্র' মানে হচ্ছে প্রলয়ংকরি, প্রচন্ড, উগ্র, রুক্ষ। 'রুদ্র' বলে যেহেতু নামকরন হয়েছিল তার, এবার সে সত্যিকার রুদ্রমূর্তি ধারন করবে। কেউ তাকে আটকে রাখতে পারবে না। কেউ না।