

"এটা পড়ার বেশ কয়েক মাস আগেই "তোমায় আমি জোছনা দিব" পড়া হয়েছিলো আমার। ওটা এমনিতেই অনেক ভালো লেগেছিলো, অনেক হেসেছি পড়ার সময়। আজ "এই জোছনা ধারায়" পড়ার সময় টেরই পাই নি যে এটার সেকেন্ড পার্ট আমার আগে পড়া হয়েছে। একদম শেষে গিয়ে জানলাম। এটা পড়তে এমনিতেই ভালো লেগেছে। তবে এটার দ্বিতীয় পার্ট "তোমায় আমি জোছনা দিব" এটা জানার পর এটা আরো বেশি ভালো লাগছে 🥰"
–আপনি এশা? এশা ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়। অসম্ভব সুদর্শন দেখতে একজন যুবক দাঁড়িয়ে আছে। ইনি ফুয়াদ? মাথায় চুল কম, ভুঁড়ি মোটা কাউকে কল্পনা করেছিল এশা। কিন্তু তার তো মাথা ভর্তি চুল, লম্বা-চওড়া সুঠাম দেহের পুরুষ। এশা মৃদু কণ্ঠে জবাব দিল, –জি, আমি এশা। –আমি ফুয়াদ। অনেকখানি দেরি করে ফেললাম। দুঃখিত। চলুন, রেস্টুরেন্টের ভিতরে গিয়ে বসি। এই বলে ফুয়াদ এশার অপেক্ষা না করে আগে আগেই রেস্টুরেন্টের ভিতরে ঢুকে পড়লো। এশার নজর গেল ফুয়াদের পোশাকের দিকে। সে একটি জার্সি, ট্রাউজার এবং সাধারণ জুতা পরে এসেছে। তাকে দেখে মনে হচ্ছে বাসার সামনের চায়ের দোকানে এক কাপ চা খেতে বেরিয়েছে। এশার সঙ্গে দেখা করা কি এতখানি গুরুত্বহীন ব্যাপার? –আপনি কী খাবেন, অর্ডার করুন। খাবার আসতে আসতে আমরা আলাপ করি। ফুয়াদ এশার দিকে মেনু কার্ডটা ঠেলে দিলো। –আমি কিছু খাবো না। –অন্তত এক কাপ কফি নিন। দেরি করেছি বলে রাগ করলেন? রেগেমেগে কান্না করেছেন? ফুয়াদ একটু হেসে বলল। তার সুশ্রী মুখমণ্ডলে বুদ্ধিদীপ্ত হাসি, উজ্জ্বল দৃষ্টি এশার নজর এড়ায় না। নিশ্চয়ই ওর লালচে চেহারা দেখে এ কথা বলছে। ফুয়াদ কফি অর্ডার দিয়ে এশাকে প্রশ্ন করল, –আপনি কি খুব বিপদে আছেন? এশা এ কথার অর্থ বুঝতে না পেরে বোকার মতো তাকিয়ে রইল। –পড়াশোনা ছেড়ে বিয়ে করছেন কেন? এশাকে অপ্রস্তুত মনে হলো, –বিয়ের পর আপনার পরিবার তো পড়াশোনা অ্যালাউ করবে না। –সেটি আমি জানি। কিন্তু এ ধরনের পরিবারে আপনাকে বিয়ে কেন করতে হবে? এশা কোনো উত্তর দিলো না। ফুয়াদ কি জানে না ওর ব্যাপারে? শুধু এসব প্রশ্ন কেন করছে? এইটুকু আলাপের মাঝেই এশা বুঝতে পারলো ফুয়াদ কোনো সহজ মানুষ নয়, যাকে চট করে বুঝে ফেলা যাবে। ওয়েটার কফি দিয়ে গেল। ফুয়াদ কফির মগে চুমুক দিতে দিতে বলল, –আপনাকে বোধ হয় কঠিন প্রশ্ন করে ফেললাম। আচ্ছা, অন্য কথা বলি। আপনার পছন্দের খাবার কী? –ভাত, মাংস। –এই মুহূর্তে আপনাকে এক প্লেট ভাত, মাংস খাওয়ালে কি আপনার মন ভালো হবে? এশা মনে মনে বিস্মিত হয়। ফুয়াদকে এক্ষুণি বোঝার চেষ্টা করে বোধ হয় লাভ নেই। ফুয়াদ এশাকে এক প্রকার জোর করে একটি ভাতের হোটেলে নিয়ে এলো। এরপর সে এক প্লেট ভাত আর গরুর মাংস অর্ডার করে। এশার খুব অদ্ভুত লাগছে। ও ভাতের প্লেট সামনে নিয়ে বসে থাকলো। এই অল্প পরিচিত লোকটার সামনে ভাত খাবে? –আচ্ছা, আপনি খাওয়া শেষ করুন। আমি আসছি। ইনি কি মন পড়তে জানে? ফুয়াদ রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে কোথাও গেল। এশা খেতে শুরু করলো। খাওয়া শেষ হতেই দেখে ফুয়াদ ফিরে এসেছে। এশা সিগারেটের গন্ধ পেল। খুব সম্ভবত সে বাইরে বসে সিগারেট খেয়েছে। –খাবার কেমন ছিলো? –ভালো। –আপনি যেন কীসে পড়ছেন? থার্ড ইয়ার নাকি ফোর্থ ইয়ার? –থার্ড ইয়ার। –অনার্স শেষ করতে চান? –এতদূর এসে কি কেউ লেখাপড়া ছাড়তে চায়? আমি আসলেই বিপদে পড়ে এই বিয়েতে রাজি হয়েছি। সৎ বাবার আগের পক্ষের ছেলের সংসারে আর থাকা সম্ভব হচ্ছে না। একটু ভালো খেয়ে পরে থাকার জন্য রাজি হয়েছি। –আপনি আমাদের বাড়িতে ভালো খেয়ে পরে থাকতে পারবেন তার নিশ্চয়তা কী? এশা কিছু বলল না। ফুয়াদ বলল, –আবার বোধ হয় কঠিন প্রশ্ন করে ফেলেছি। আচ্ছা, এশা আপনার পছন্দের রং কী? –সাদা। –ঠিক আছে। আপনি তাহলে এখন বাসায় চলে যান। এশা টেবিল ছেড়ে উঠে ব্যাগটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ফুয়াদের দিকে আরেকবার তাকালো। লোকটার মানুষকে আকর্ষণ করার অসম্ভব ক্ষমতা আছে। এশাও আকর্ষণ বোধ করছে। –এশা শুনুন। শুধু ভালো খেয়ে পরে বেঁচে থাকার জন্য বিয়ে করতে হবে না। আমি আপনাকে পড়াশোনা শেষ করাবো। আনন্দ নিয়ে এবার বিয়েটা করুন। এশা বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে বলল, –আপনার মা বলল যে! আপনাদের বাড়িতে সবকিছু তো তার মতামতেই হয়। ফুয়াদ এই কথার উত্তর না দিয়ে বাইকে চেপে বসলো। প্রচণ্ড গতিতে বাইকটা মুহূর্তেই এশার দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে গেল।
শেষটা সুন্দর। ফুয়াদ, এশা এবং পলি বেগন দারুন চরিত্র
Read all reviews on the Boitoi app
এটা পড়ার বেশ কয়েক মাস আগেই "তোমায় আমি জোছনা দিব" পড়া হয়েছিলো আমার। ওটা এমনিতেই অনেক ভালো লেগেছিলো, অনেক হেসেছি পড়ার সময়। আজ "এই জোছনা ধারায়" পড়ার সময় টেরই পাই নি যে এটার সেকেন্ড পার্ট আমার আগে পড়া হয়েছে। একদম শেষে গিয়ে জানলাম। এটা পড়তে এমনিতেই ভালো লেগেছে। তবে এটার দ্বিতীয় পার্ট "তোমায় আমি জোছনা দিব" এটা জানার পর এটা আরো বেশি ভালো লাগছে 🥰
আমার খুব পছন্দের একটা গল্প। এশা ফুয়াদ আমার পছন্দের উপন্যাসের জুটি আর ফুয়াদের পরিবার টিও আমার খুব পছন্দের। ফেসবুকে গল্প টা পড়েছিলাম। এই গল্প আমি যে কতবার পড়ি তার ইয়ত্তা নেই। ভালোবাসার একটা গল্প। আমি তো এই গল্প কে ১০০/১০০ দিবো 😍🥰😍🥰
আমার প্রথম প্রেম এবং এ জোছনা ধারায় এর মতো গল্প আরো ও আরোও আরোও আরোও চাই আপু 😀আপনার লেখা পড়ে শান্তি শান্তি লাগে 🥺 একটি বিচ্ছিরি ঘটনার জন্য লেখালেখি ছাড়বেন না । আপনার জীবন সুখ ও সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠুক 🌺🌺🌺🌺