

সোফার পিছনে না ফিরিয়াই ভীতস্বরে বলিল, “দেখেই না অত তাড়াতাড়ি গাড়ি ছেড়ে দিলাম।’ পরমুহূর্তে আমরা সকলে একসঙ্গে হৈ হৈ করিয়া চীৎকার করিয়া উঠিলাম! সোফার প্রাণপণে ব্রেক কষিয়া গাড়ি রুখিতে গেল। গাড়ি থামিল না, স্টিয়ারিং হুইল একেবারে পাক খাইয়া পাশে গড়ানে খাদ দিয়া হুড়–হুড় করিয়া নামিয়া চলিল। সামনের দিকে চাহিয়া সেই ভয়ঙ্কর মুহূর্তে দেখিতে পাইলাম নীচে গভীর জল। বুঝিলাম, আমাদের সলিল সমাধি হইতে চলিয়াছে। ভয়ে চোখ বুজিলাম! কিন্তু শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাইলাম। সামনে বুঝি উঁচু একটা তারের জাল ছিল, তাহাতে গাড়ী আটকাইয়া গেল। এ রকম অবস্থায় গাড়ি উলটাইয়া যাইবার কথা, কিন্তু ভাগ্যক্রমে তাহা হয় নাই। চোখ খুলিয়া দেখিলাম, প্রবল ঝাঁকুনি খাইয়াও অক্ষত শরীরেই সবাই রক্ষা পাইয়াছি। প্রথম কথা কহিল বীরেন। আতঙ্কের স্বরে বলিল, ‘লোকটার একেবারে কি বুকের ওপর দিয়ে গাড়ি গেছে সোফার?’ সোফারের পায়ে আঘাত লাগিয়াছিল। খোঁড়াইতে খোঁড়াইতে বাহির হইয়া বলিল, কি জানি বাবু, ব্রেক কষতে কষতেই গাড়ি ঘুরে গেছে। রোখবার সময় পাইনি।’ তাড়াতাড়ি বাহির হইয়া বলিলাম, ‘এখনই দেখতে হবে চলো।’ সবাই মিলিয়া উপরে উঠিয়া আসিলাম। কিন্তু আশ্চর্য‚ তন্ন তন্ন করিয়া চারিদিক খুঁজিয়া কাহাকেও দেখিতে পাইলাম না। এক জোয়ান মানুষ, সবাই মিলিয়া স্পষ্ট তাহাকে গাড়ির ধাক্কা খাইয়া পড়িয়া যাইতে দেখিয়াছি। তাহার দেহ এই এক মিনিটের ভেতর কোথায় উধাও হইয়া যাইতে পারে। যেদিকে খাদ সেদিকেও পড়ে নাই। পড়িয়াছে একেবারে সম্পূর্ণ অন্য দিকে, সেখান হইতে মৃত বা জীবন্ত কাহারও এক মিনিটে অন্তর্ধান হওয়া একেবারেই সম্ভব নয়। বীরেন বলিল, ‘তাহলে কি?’