

"আঁধারের যাত্রী" বইয়ের পিছনের কভারের লেখা: দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরতে হলো তুষারকে, অচেনা একটা ফোন কল পেয়ে, দেখা হলো পুরানো বন্ধুদের সাথে, জানা গেল অচেনা নাম্বার থেকে ফোন কল তারাও পেয়েছে। তারপর এক এক করে খুন হতে লাগল বন্ধুরা। কোথাও কোন ক্লু নেই, নেই কোন মোটিভ।দূর্ঘটনায় মারা গেল দেশ সেরা এক লেখক। দিশেহারা হয়ে পড়ল হোমিসাইড ডিপার্টমেন্ট। আবু জামশেদ তার নতুন যোগ দেয়া সহকারিদের নিয়ে নেমে পড়েছেন মাঠে। হার না মানা আবু জামশেদ দিশেহারা, এই কেসের উপর নির্ভর করছে পুরো ডিপার্টমেন্টের ভবিষ্যত, তার দীর্ঘদিনের সুনাম।
❝আঁধারের যাত্রী by শরীফুল হাসান❞ প্রায় ১.৫ মাস সময় নিয়ে শেষ করলাম বইটি৷ পড়ার শুরু থেকেই একটানা পড়ে যাওয়ার তেমন আগ্রহ পাইনি। বলা যায় টান টান উত্তেজনা বলতে কিছু ছিল না পুরো বইটা তে(আমার অন্তত তাই মনে হয়েছে।)। তবে শেষের দিকে গল্পের মূল রহস্য উদঘাটনের সময় কয়েক পৃষ্ঠা খুব আগ্রহ নিয়ে পড়েছি। প্রথম যখন বইটা পড়া শুরু করেছিলাম হাতে যথেষ্ট সময় ছিল। কিন্তু একটানা যত পৃষ্ঠা পড়তে চেয়েছি ঠিক ততটা পারিনি । কিছুটা পড়ার পর আরো কিছু পড়তে চাইতাম কিন্তু উৎসাহ পেতাম না। ফলস্বরূপ সেখানেই থেমে যেতাম। বইটির এইদিক টা আমার ভালো লেগেছে ব্যক্তিগত কারণে ।যখন মন চেয়েছে পড়েছি, যখন মন চায়নি পড়িনি। কোনো তাড়াহুড়া ছিল না শেষ করার। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিক লেগেছে৷ অতি প্রাকৃতিক বা অসম্ভব কিছু মনে হয়নি । এই ব্যাপারটাও ভালো লেগেছে। যদিও বইটি পড়া শেষ করে আমার দারুণ লেগেছে তবুও ভালো না লাগার মতোও কিছু বিষয় আছে। যেমন:- শেষে "আবু জামশেদ" কি এমন ভিডিও দেখেছিল যার জন্য, যে মানুষের অভিধান থেকে "বিস্মিত" শব্দ টা উঠে গিয়েছিল সেই মানুষটাও বিস্মিত হলো। (আমার মনে পড়ছে না উনি ভিডিওতে যা দেখেছিল তার বর্ননা দিয়েছে বলে।) পাঁচ বন্ধুকে কল করে ঠিক "সাত দিন" সময় দেওয়া হয় খুব নাটকীয় ভাবে। সে হিসেবে সাত দিন পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথে সবাইকে একই দিন মারার কথা কিংবা সময়ের একটা যোগসূত্র থাকা প্রতিটি হত্যায় কিন্তু তেমন কিছু হয়নি। আর পায়ের পাতা কেটে আলাদা করার যে কারণ দেখানো হয়েছে তার চেয়ে ভালো কোনো কারণের দরকার ছিল ।খুনি পায়ের পাতা কাটার যে কারণটা বললো, সে উদ্যেশ্য ভিন্ন ভিন্ন ভাবেও পূরণ করতে পারতো। আর শেষে দুই ভাইয়ের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য "নীল" চোখের কোনো প্রয়োজন ছিল না। বাংলাদেশের মানুষের চোখ সাধারণত নীল হয় না। আমি অন্তত এখন পর্যন্ত দেখিনি। কিছু নীল চোখের অধিকারী থাকতে পারে। তবে গল্পের এই চরিত্রের নীল চোখ আমার কাছে অতিরিক্ত লেগেছে । একজন মানুষের এতো দোষ-গুণ থাকা অস্বাভাবিক। যে মুহুর্তে এই খুনগুলোর পেছনের কারণটা জানতে পারি সেটাই উপন্যাসের শেষ ছিল আমার কাছে।তাই সবমিলিয়ে আমার কাছে ভালো লেগেছিল।( গল্পের শেষটা এক্সপেকটেশন ফুলফিল নাও করতে পারে পাঠকের।) "বইটই"-এ বই পড়তে বেশিরভাগ সময়-ই বানান সমস্যার সম্মুখীন হওয়া লাগে৷ কিন্তু এই বইটির ক্ষেত্রে এই সমস্যার সম্মুখীন হওয়া লাগেনি। এটাও ভালো একটা দিক। অনেকে যতিচিহ্নের ব্যবহার ঠিকঠাক হয়নি বলে অভিযোগ করছে। কিন্তু আমি নিজে যতি চিহ্ন এতো ভালো ব্যবহার করতে পারি না বলে এই সমস্যাটা ধরতে পারি নি। সব মিলয়ে আমার খুব ভালো লেগেছে, এমন বই যা খুব তাড়া নিয়ে পড়ে শেষ করে ফেলা লাগবে না আমার জন্য তেমন বই-ই ভালো। বই পড়ার নেশায় আসক্ত হওয়ার ইচ্ছে যেহেতু নেই।
Read all reviews on the Boitoi app
Wonderful thriller...
অসাাধারণ থ্রিলার।