

এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে শুভ শক্তি ও অশুভ শক্তি সমান্তরালে চলছে। প্রতিটি ক্ষণে কোথাও কিছু শেষ হয়ে যাচ্ছে, আবার কোথাও জন্ম নিচ্ছে নতুন কিছু। লয় আর সৃষ্টি—এই চক্রই কালকে এগিয়ে নিয়ে যায়। সেই চক্রের মাঝে কোনো এক সময় ঘটে যায় এমন কিছু, যা সব হিসাব বদলে দেয়। তারানাথ তান্ত্রিক, যাঁর জীবন জুড়ে ছড়িয়ে আছে রহস্য আর অদ্ভুত সব অভিজ্ঞতা, একদিন মুখোমুখি হন এক ভয়ংকর ঘটনার, যার কেন্দ্রে ছিল ‘জরাসন্ধ’—এক রাক্ষস, এক অন্ধকারের প্রতিনিধি, যাকে জাগানো হয়েছিল পাতালের গহীন অন্ধকার থেকে। জাগানো হয়েছিল তাকে। কীভাবে বা কেন—তা আজও স্পষ্ট নয়। কিন্তু সে উঠে এলে চারদিকে নেমে আসে আতঙ্ক। প্রাণ হারায় শত শত নিরপরাধ, নিঃশেষ হয়ে যায় একাধিক জনপদ। শেষ সময়েও কেউ একজন এসেছিল—যার উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট। নিজের সবটুকু শক্তি নিয়ে সে নেমে এসেছিল লড়াইয়ে। জরাসন্ধকে থামানোই ছিল তার লক্ষ্য—অন্ধকারের শেষ প্রহরে, এক ধুমকেতুর মতো আঘাত হানতে। এক বধ্যভূমি, এক নিরীহ প্রেম, এক নিষ্পাপ মেয়ের আর্তনাদ এবং এক সভ্যতার নিঃশব্দ পাপ। বহুযুগ আগের কথা, যখন মনুষ্যত্ব আর লোভের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল নিরবধি। জমিদার মহেন্দ্রচন্দ্র সেন, তাঁর ক্ষমতার দম্ভে, সম্ভ্রমহীন করেন এক কিশোরী মৃন্ময়ীকে। প্রতিশোধ নিতে সেই গ্রামেরই দুই যুবা—মৃণাল ও গজেন্দ্র—তান্ত্রিকের সন্ধান পেয়ে জাগ্রত করে এক প্রাচীন রক্তপিপাসু পিশাচকে: জরাসন্ধ। জরাসন্ধ কেবল প্রতিশোধ নয়, ছিল এক অভিশপ্ত শক্তির মূর্ত প্রতীক। কাম, ক্রোধ, লোভ, হিংসা—সব অন্ধকার তার মধ্যে একত্র। তার মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে মৃত্যুর ছায়া—গবাদিপশু নিধন, শিশুহত্যা, রক্তবর্ণ অশুভ ছায়া। তবে প্রতিটি অন্ধকারের পেছনে থাকে আলো। সে আলো হয়ে দাঁড়ান তারানাথ তান্ত্রিক, যিনি বোঝেন—এ লড়াই কেবল এক পিশাচের নয়, এটি মানবতার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। যেখানে প্রয়োজন পড়ে এক সর্বোচ্চ ত্যাগ—নিজের বলি। কেতনের আত্মবলি, সৃষ্টির পুনজাগরণ, আর এক সর্বনাশা রক্তরূপী যুদ্ধের শেষে জরাসন্ধ অবশেষে বন্দী হয়—ধ্বংস নয়। কারণ, সে রক্তবীজ, যার বিনাশ নেই; কেবল অপেক্ষা থাকে জেগে ওঠার। এ কাহিনি শুধুমাত্র অতীত নয়। এটি একটি সতর্ক সংকেত—যদি সমাজ আবার মৃন্ময়ীকে রক্ষা না করে, তবে আবার জেগে উঠবে জরাসন্ধ। কারণ, প্রতিটি পিশাচ জন্ম নেয় মানবিক পাপের গর্ভে।

খুব ভালো লাগলো 🥰
Read all reviews on the Boitoi app