
পূর্ণতা কৌতূহলী হয়ে এগিয়ে গেল। মাটিতে পা ফেলার সঙ্গে সঙ্গে পাতার ওপর শিশির ভাঙার শব্দ উঠল খচখচ করে। আকস্মিক কয়েক কদম এগিয়ে যেতেই সামনে পড়ে থাকা একটি ঝোপের ধারে মরা নেকড়ে দেখে আতঙ্কিত হয়ে উঠল বিস্ময়ে। চেঁচিয়ে উঠল ভয়ে, —"এটা কি?... এটা এখানে এল কীভাবে?" ভয়ংকর রকম শক্ত কালচে লোমে মোড়া একটি নেকড়ে। দাঁতগুলো বার হয়ে আছে মুখ ভেদ করে। যেন মৃত্যুর আগেও কিছু ছিঁড়তে চেয়েছিল ওই সুচালো দাঁত দিয়ে। চোখদুটো স্থির হয়ে ফেটে বেরিয়ে আসার মতো। রাভিব ঠাট্টার ছলে বলে উঠল, —"গতকাল তোকে দেখতে এসেছিল বেচারা। কিন্তু তুই তো তাঁবুতে পালিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলি। দেখতে না পেয়ে আত্মহত্যা করেছে বেচারা!" তারপরেই এক ঝলক হাসির রোল উঠল চারপাশে। পূর্ণতা বিরক্ত হয়ে বলল, —"একদম ফান করবি না। এটা এখানে এসেছে কীভাবে? ওহ নো… তার মানে গতকাল রাতে এটিই ছিল আমার তাঁবুর সামনে? কিন্তু এটাকে মারল কে? এভাবে?" সেদিকে ইশারা করে রাভিব বলল, —"ওইযে, ওনাদের দলের একজন মেরেছে। অ্যারণ ভাই।" পূর্ণতা চোখ কুঁচকে জিজ্ঞেস করল, —"ওনারা কারা?" রাভিব গম্ভীর গলায় উত্তর দিল, —"ওনারা আমাদের মতোই এখানে এসেছে ঘুরতে। তবে বেশ অভিজ্ঞ। এক ধরনের স্পেশাল ফরেস্ট ট্র্যাকার টিম বলতে পারিস। গতকাল রাতে ওনারা যখন টহল দিচ্ছিলেন, তখন এই জানোয়ারটাকে তোর তাঁবুর আধ গজ দূরে দেখে ফেলে ঘুরঘুর করতে। এরপর... ঝাঁপিয়ে পড়ে ধরে ফেলে। আর হ্যাঁ, সময়মতো না এলে তো তুই আর এনা আজকে সকালে শুধু স্মৃতিচারণার জন্যই বেঁচে থাকতিস।" পূর্ণতা চুপ করে গেল। ওর চোখ চলে গেল মৃত নেকড়েটার দিকে আবারো। মনে মনে ভাবলো, কিন্তু এটা তো একটা নেকড়ে, তবে ওতো একটা ছায়া দেখেছিল। একটা শীতল নিঃশ্বাস অনুভব করেছিল। এটা কি সত্যিই সেই প্রাণী?"