

যে অলৌকিক ক্ষমতার দ্বারা চমক সৃষ্টি করে পদ্মসম্ভব তিব্বতীদের মন জয় করেছিলেন, সেই অলৌকিক ক্ষমতার মোহেই ভারতীয় বৌদ্ধরা দিন দিন তন্ত্রাভিমুখী হয়ে উঠেছিলেন, এতে সন্দেহ নেই। তারা হয়তো ভেবেছিলেন যে, এই অলৌকিক ক্ষমতা আয়ত্ত করতে পারলে সহজে ভারতীয় জনসাধারণের মন জয় করে ব্রাহ্মণ্য বা হিন্দু ধর্মকে কাবু করে নিজেদের অপ্রতিহত প্রাধান্য ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। সপ্তম শতকে হর্ষবর্দ্ধন শীলাদিত্যের সমর্থনে বৌদ্ধ ধর্মে নতুন প্রাণের জোয়ার সৃষ্টির প্রচেষ্টার সময় ভারতীয় বৌদ্ধ ধর্ম যে অলৌকিকত্বের মহামারীতে ভুগছিল, হিউয়েন-সাঙ-এর বিবরণে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। তার বর্ণনা অনুসারে, বৌদ্ধদের বিশেষ উৎসবের দিনগুলোতে বুদ্ধের দেহাস্থি ও রাজা অশোকের তৈরি প্রাচীন স্তূপগুলো থেকে অলৌকিক আলো বিচ্ছুরিত হতো। এই অলৌকিক আলো যে সেগুলোর গা থেকে আপনা আপনি বের হতো না, লোক ঠকানোর পদ্ধতিতে বের করা হতো, তা বোধ হয় বলার প্রয়োজন হয় না। বোধিবৃক্ষের নিকটে থাকা মহাবোধি বিহারে বুদ্ধের দেহাস্থি থেকে এরূপ দিব্য আলোক বিচ্ছুরণের ঘটনা হিউয়েন-সাঙের নিজের চোখে দেখার সুযোগ হয়েছিল, এবং তার জীবনী বইয়ে দেয়া এই ঘটনার বিবরণই আভাস দেয়, এই দিব্য আলোক কী জাতীয় ছিল।