

•অপ্রিয় আমি তাহিয়া তানহা ১. একটি লাল খয়েরী রঙের জামদানী শাড়ি পড়ে বাগানে হাঁটাহাঁটি করছিল অরুনিমা।মনের ভেতর ঝড় বয়ছে কিন্তু তা প্রকাশ করতে পারছে না।হঠাৎ করেই পিছন থেকে একটি ছেলের কন্ঠ শুনে হাঁটা থামিয়ে দিলো।সে ছেলেটিকে চিনে খুব ভালো করেই চিনে।ছেলেটি আবার ডেকে উঠলো— ’চৈত্রিকা’ বলে।অরুনিমা সামনে না ঘুরেই পিছন থেকে লম্বা এক সালাম দিলো। ‘আসসালামুয়ালাইকুম।’ ছেলেটি সালামের উত্তর দিয়ে বললো। ‘আবার আমাদের দেখা হয়ে গেল, তাই না চৈত্রিকা?’ অরুনিমা এবার সামনে ঘুরলো,সামনের দিকে তাকাতেই এক জোড়া চোখের সাথে চোখাচোখি হয়ে গেল।সে চোখ নামিয়ে নিলো।তারপর ছেলেটির উদ্দেশ্য বললো। ‘পৃথিবী গোলাকার একটা মানুষের সাথে অসংখ্যবার দেখা হওয়ার সম্ভবনা আছে।আবার বলতে কিছু নেই শাহরিয়ার আবরার।’ শাহরিয়ার অরুনিমার কথা শুনে মুচকি হাসি দিলো। তারপর তার হাতের পিছন থেকে তিনটি গোলাপ বের করলো।তিনটি গোলাপ ছিলো তিন রঙের একটি লাল,একটি সাদা এবং একটি কালো।সে অরুনিমার কাছে এগিয়ে গেল, তারপর তার হাতে গোলাপ তিনটি গুঁজে দিয়ে কানের কাছে মুখ নিয়ে বললো। ‘তো মিস চৈত্রিকা তৈরি তো মিসেস শাহরিয়ার আবরার হওয়ার জন্য?’ ‘একদম না।’ ‘তা তোমার ব্যাপার। সামনে মাসে বিয়ে সব ঠিক-ঠাক, তুমি শুধু বিয়ের দিনটার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকো। আজ আসি আল্লাহ হাফেজ।’ কথাটা বলেই অরুনিমাকে রেখে শাহরিয়ার চলে গেল।অরুনিমা সামনে পা বাড়াতে নিলেই একটা ইটের সাথে পা'য়ের ধাক্কা লাগে।কিন্তু সেদিকে খেয়াল না করে পাশে থাকা বেঞ্চে বসে পড়লো।তার ব্যাথ্যা করে ভীষণ রকমের ব্যাথ্যা করছে কিন্তু পা'য়ে না হৃদয়ে। সে কিভাবে শাহরিয়ারকে বিয়ে করবে?যেখানে তার সকালটা শুরু হয় অন্যজনের নাম নিয়ে।তার তো ভালোবাসার মানুষ আছে,তাকে ছাড়া কিভাবে আরেকজনকে বিয়ে করবে?অরুনিমা নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে সত্যিই কি আছে মানুষটা?কিন্তু উত্তর খুঁজে পায় না।
