

শতরূপার চোখ টলমল করে উঠে। আরশান তার কাছে সুযোগ চাইছে! এত সুন্দর করে কথা বলছে? যে কিনা সর্বদা রুষ্ট, গম্ভীর শব্দে কথা বলেছে! শতরূপার মনে হয়, সে হয়তো স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু, হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকে উঠতেই সে ফের লাফিয়ে উঠে। আরশান দু'হাতে বুকের মাঝে আগলে নেয় তাকে। এই পর্যায়ে এসে নিজেকে আর সামলাতে পারে না শতরূপা। এতদিনের জমানো সব কষ্ট, সব ব্যথা উগলে দেয়। হুহু করে কেঁদে ওঠে মেয়েটা। আরশান হয়তো বুঝতে পারে সেই কান্নার কারণ! তার হাতের বাঁধন আরও শক্ত হয়। শতরূপাও শক্ত হাতে খামচে ধরে আরশানের পাঞ্জাবির পিছনের দিকের অংশটা। আরশান আদুরে হাত বুলোয় তার মাথায়। শতরূপা কাঁদতে কাঁদতে বলে, “আমি কি স্বপ্ন দেখছি? যদি তাই হয়, তবে এই স্বপ্নটা কোনোদিনও না শেষ হোক! প্রয়োজনে আমি আজন্ম ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেব। তবুও, আপনাকে হারাতে পারব না। আপনার বিরহে আমার অন্তর পোড়ে। আমার কষ্ট হয়। আমি পারি না আপনার উপেক্ষা সইতে। আমার ইচ্ছে করে মরে যেতে!” আরশান আরেকটু আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে তাকে। ভরাট গলায় বলে, “এটা বাস্তব স্বপ্ন, রূপা। বাস্তব স্বপ্ন কোনোদিনও ভাঙে না। এই আপনাকে ছুঁয়ে কথা দিলাম, এক জীবনে আমি যতদিন বাঁচব, চিরকাল আপনার হয়েই থাকব। আপনার কাছেই থাকব। মৃত্যু ছাড়া কাউকে আমি আপনার থেকে আমায় ছিনিয়ে নিতে দেব না। এক জীবনে আমি আর কখনো, কোনোদিন আপনাকে উপেক্ষা করব না, স্রষ্টার কসম!”