

বিবাহিত পর্তুগিজ, মেষ্টিশো এবং (দেশীয়) খ্রিষ্টানদের বাড়িগুলো বেশ সুশ্রী, ছিমছাম, পরিষ্কার ও সাজানো-গোছানো। তারা নিজেদের সাধ্যমতো পাঁচ-ছয় থেকে কুড়ি বা তারও বেশি বান্দা ও বাঁদী পুষে রাখেন। নিজেদের ঘরদোর এবং গৃহস্থালীর যেকোনো ব্যাপারে তারা সুরুচিবোধসম্পন্ন ও পরিপাটি, বিশেষ করে পোশাক-পরিচ্ছদের ক্ষেত্রে। প্রতিদিন তারা সার্ট ও স্মোক বদল করেন, মেয়ে-পুরুষ সকলেই, এমনকি বাঁদী ও বান্দারাও। এদেশের অত্যধিক গরম আবহাওয়ার জন্যই তারা এরূপ করে থাকেন। পর্তুগিজরা গাম্ভীর্য বজায় রেখে চলে। অভিজাত, সাধারণ ও সৈনিকদের মধ্যে কোনো প্রভেদ চোখে পড়ে না এ-ব্যাপারে; চালচলন, কথাবার্তা এবং সৌজন্য সবকিছুতেই এই সমতা দেখা যায়। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাবার সময় তারা ধীরগতিতে পদক্ষেপ করেন, গৌরব ও আত্মমহিমার একটি বিশেষ ব্যঞ্জনা ফুটে ওঠে তাদের চলার ভঙ্গিমায়। রোদে বা বর্ষায় যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, সেজন্য একজন বান্দা একটি বিরাট টুপি বা ছাতা ধরে সদাসর্বদা তাদের পিছনে থাকে। বর্ষার সময় সাধারণত একজন বালক বান্দা তার সঙ্গে ঘোরে, হাতে থাকে উজ্জ্বল লাল রঙের একটি গাত্রাবরণ বা ওই ধরনের কোনো বস্তু, যা বৃষ্টি নামলে তার প্রভুর গা ঢেকে দেয়।