

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকের অমল দইওয়ালা হতে চেয়েছিল। নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর অমলকান্তি চেয়েছিল রোদ্দুর হতে। দাদাঠাকুর লিখেছিলেন—"দে মা আমায় রাজা করি আর কাঙাল হয়ে থাকতে নারি।" আলেকজান্ডার বলেছিলেন—"আমি যদি আলেকজান্ডার না হতাম, তাহলে ডায়োজেনিস হতে চাইতাম।" যে ডায়োজেনিস লণ্ঠন হাতে দিনের আলোয় বের হতেন মানুষ খুঁজতে। এই যে বহুমাত্রিক চাওয়া—কেউ রাজা হতে চায়, কেউ ফকির হতে চায়। ডাক্তার, জজ, ব্যারিস্টার কত কী হতে চায়, কিন্তু কেউ কবিতা হতে চায় না। অথচ কবিতা লেখার প্রথম শর্তই হলো কবি হওয়া নয়, পরন্তু কবিতা হওয়া। এখানেই কবি ও কবিতা—এই দুয়েরই সার্থকতা লুকিয়ে আছে। যে কবিতা কখনো কখনো নতুন পথের দিশা দিতে পারে, নতুন নতুন আলোর পথ উন্মোচন করতে পারে, অকথিত এক মৌনতা নিয়ে পৌঁছে যেতে পারে পাঠকের অন্তরের অন্দরমহলে। এমনই একটি অসাধারণ কাব্যগ্রন্থ হলো ডাক্তার আব্দুল বাসেতের লেখা ‘নতুন পথের দিশা’। এই কাব্যগ্রন্থের ভূমিকা অংশ লিখতে শ্রদ্ধেয় কবি আমায় সাহস না জোগালে আমি হয়তো এই বইয়ের ভূমিকা লিখতে পারতাম না। যা হোক, আমার পরম সৌভাগ্য হয়েছে যে এই ধরনের কাব্যগ্রন্থের মুখবন্ধে কলম ধরতে পেরেছি। কবি প্রকৃতির নানা অনুষঙ্গ থেকে শুরু করে সমাজের নানা অনুষঙ্গ, জীবনের নানা ওঠাপড়া, সময়ের নানা উত্থান-পতন ও সভ্যতার নানা চিত্রকে তাঁর অত্যন্ত মেধাবী কবিসত্তার সঙ্গে চিত্রিত করেছেন এই কাব্যগ্রন্থে। এই কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে একটা কথা খুব বিশ্বাসের সহিত বলতে পারি—এই কাব্যগ্রন্থ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে স্রষ্টার সংক্ষিপ্ততম চিহ্নায়ন। এই ধরনের কাব্যগ্রন্থ সাহিত্যের আকাশের চিরস্থায়ী নক্ষত্রের মতো। ভূমিকা অংশের একেবারে শেষ লগ্নে এসে একটা কথাই বলব—এই ধরনের কবিতার বই আগামীর অনুপ্রেরণা। সম্মানীয় কবির প্রতি রইল আমার আন্তরিক শুভকামনা এবং কৃতজ্ঞতা। শ্রদ্ধেয় কবির সাধিত জীবন আরও সাফল্যমণ্ডিত হয়ে উঠুক, ঈশ্বরের কাছে এই প্রার্থনা করি। ধন্যবাদান্তে, সায়নী মুখোপাধ্যায় আন্তর্জাতিক কবি, প্রাবন্ধিক ও গবেষক