
জাবির অফিস শেষে সোজা এলো নীরাদের সেই তিনতলা বাড়িতে, যেখান থেকে এই গল্পের শুরু। মূল ভবন আগের মতো থাকলেও নিচের কোনো কিছুই আর আগের মতো নেই। উঠানের এক কোণে আরেকটা ছোটো একতলা ঘর তোলা হয়েছে। নিচের ফ্লোর পুরোটাই এখন বাচ্চাদের পড়ার জায়গা, উপরে করেছে থাকার। কৃষ্ণচূড়া গাছের সাইডটা যেমন আছে, তেমনই, শুধু সেটাকে হালকা আড়াল করে বাচ্চাদের ছোট্ট একটা খেলার জায়গা করা হয়েছে। তাই জাবির বাইকটা আর ভেতরে নিলো না। এক সাইডে রেখে এগিয়ে গেল। বড় হুজুরকে দেখে সালাম দিলো। তিনিও হেসে সালামের উত্তর নিলেন। নিয়ে বললেন, "আপনি দয়া করে ছাদে যান।" জাবির ভ্রু কুঁচকালো। ছাদে! ছাদে আবার কী? তবে নিজে থেকে আর কিছুই বললো না। বরং ভ্রু কুঁচকেই এগিয়ে গেল। সিঁড়ি দিয়ে তার নীলাম্বরীর মতো অনেক অনেক দিন পরে রেলিংগুলো হালকা ছুঁয়ে ছুঁয়ে এক পা, দু-পা করে এগিয়ে গেল। এই বাড়িতে এলেই তার ভেতরটা ফাঁকা ফাঁকা লাগে, হৃদয় জমাট বাঁধে। কাউকে পাবার তীব্র আকাঙ্খা জাগে। সেই আকাঙ্খা মনের কোণে দমাতে গিয়ে ভেঙে চুরে নিস্তেজ হয়। এই নিস্তেজ হওয়া হৃদয় নিয়েই সে ছাদের দরজার সামনে দাঁড়ালো। আর দাঁড়িয়েই থমকে গেল। ছোটো ছোটো বাচ্চা আকাশে ঘুড়ি উড়িয়ে ছাদে লাটাই নিয়ে সুতো টানছে। তার মধ্যে কয়েকজন আবার হাতে ঘড়ি নিয়েই ছাদের এ মাথা থেকে ও মাথা দৌড়াচ্ছে। তাদের মধ্যে ছাদের কার্নিশ ঘেঁষে একজন দাঁড়িয়ে আছে। পরনে তার নীল রঙের শাড়ি, হাতে নীল চুড়ি, খোলা চুল আর আঁচল হাওয়ায় লুটোপটি খাচ্ছে। সে দাঁড়াতেই সেই হাওয়ায় দোল খাওয়া অবাধ্য আঁচল টেনে মুঠোবন্দি করে তার দিকে চোখ তুলে তাকালো। আর তাকাতেই চোখে চোখ পড়ল। আজ আর তার নীলাম্বরী চোখ ফিরিয়ে নিলো না। বরং ঠোঁট টিপে একটু হাসলো। আর জাবিরের দুনিয়া সেখানেই থমকে গেল। থমকে এক পলকে তাকিয়ে রইল। তার যে আজ চোখ ফেরানো দায়।
"আপুর গল্পগুলো বরাবরই চমৎকার। এটাও অসম্ভব রকমের সুন্দর ছিলো। আবদুল্লাহ আল জাবির আর তার নীলাম্বরীর ভালোবাসায় আমি আপ্লুত । কিভাবে প্রসংশা করবো বুঝতে পারছি না। মনে হচ্ছে যতই প্রসংশা করি না কেন কম হয়ে যাবে। আপুর লেখা আমি বরবারই মুগ্ধ হয়ে পড়ি। একটু বিরক্তি আসে না। পিছুডাকও সেইরকম মনোমুগ্ধকর ছিলো। একবসায় পড়ে শেষ করেছি এই অসম্ভব সুন্দর মিষ্টি গল্পটা।"
সমস্তটা মিলে চমৎকার গল্প! তবে এতো তীব্র প্রতীক্ষার পর জাবির আর তার নীলাম্বরীর শুধু চোখের দেখায় মন ভরলো না শেষে এসে। ওদের কথোপকথন ভীষণ মিস করলাম!
Read all reviews on the Boitoi app
আপুর গল্পগুলো বরাবরই চমৎকার। এটাও অসম্ভব রকমের সুন্দর ছিলো। আবদুল্লাহ আল জাবির আর তার নীলাম্বরীর ভালোবাসায় আমি আপ্লুত । কিভাবে প্রসংশা করবো বুঝতে পারছি না। মনে হচ্ছে যতই প্রসংশা করি না কেন কম হয়ে যাবে। আপুর লেখা আমি বরবারই মুগ্ধ হয়ে পড়ি। একটু বিরক্তি আসে না। পিছুডাকও সেইরকম মনোমুগ্ধকর ছিলো। একবসায় পড়ে শেষ করেছি এই অসম্ভব সুন্দর মিষ্টি গল্পটা।
Nupur apur golpo manei shundor
আপনার সবগুলো গল্পের মত এই গল্পটা ও দারুন হয়েছে। আপনার লেখা পড়তে আমার বরাবরই খুবই ভালো লাগে কোন অতিরঞ্জন নেই, অবাস্তবতা নেই,আর গল্পের প্রত্যেকটা চরিত্রই সমান গুরুত্বপূর্ণ। নীরা আর জাবির কে পড়ে মন ভরেনি ওদের একটা মিষ্টি মিষ্টি সমাপ্তি হলে আরো ভালো লাগতো।
আপু তোমার সব গুলো গল্পের মত এটাও অসাধারন হয়েছে ।
গল্পটা সুন্দর। চালিয়ে যাও। তবে ফেসবুকে লেখাগুলো আরোও ভাল হয়েছিল।
নুপুর আপু চমৎকার একটা গল্প উপহার দেবার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আমারতো খুব ভালো লাগছে। অনেক শুভকামনা রইলো আপু।
ভালো লাগলো গল্পটা
স্পয়লার এলার্ট📌 প্রথমে প্রচ্ছদ দেখে বুঝতে পারছিলাম না যে কি টাইপের হবে গল্পটা নাম দেখেও না। কিন্তু এত চেনাজানা হয়েও কেমন ভিন্নধর্মী এক গল্প মনে হলো। নওশীন আর মারুফকে আমার বড্ড ভালো লেগেছে।রাজিয়াকেও। জাবির আর তার নীলাম্বরীকেও ভালো লাগতো অন্যরকম তবে গল্পটা যেন তাদের ঘিরেই নয় শুধু! প্রথম প্রথম সানফ্লাওয়ারকে ভালো লাগলেও চকলেট নিয়ে সন্দেহ জাগতে বেশি সময় লাগে নি।এটাই মাথায় এসেছিল যে চকলেটের মাধ্যমেই এমন কিছু দিচ্ছে যার জন্য এতকিছু।আর চকলেট নিয়ে সন্দেহ জাগার ক্ষনিক বাদেই মনে হলো তারমানে সেই নীলুফাই তার মামাতো বোন।কি ভয়ংকর এক প্রতিশোধের খেলা! আমার কাছে কেমন যেন একটা ভুতুরে ভুতুরে বা ভয়ানক ভয়ানক ফিল হচ্ছিল যাকে শুধু রহস্যময় বললে ঠিক বলা হয় না।আর সেই ভয় ভয় ফিল নিয়েই গল্পটা পড়ে শেষ করলাম কিনে রাখার বহুদিন পর।এটা আমি অনেক প্ল্যান করে কিনেছিলাম যে জার্নিতে বসে বসে পড়ব।পরে আর হয়ে উঠেনি।অবশেষে আজ শুরু করে একটানে শেষ করলাম। গল্পের বেশ কিছু কথা খুব দারুণ লেগেছে আমার।তার মাঝে - যার কর্মের ওজন যত,তার বোঝার ওজন ও তত ; নীরুর সেই এক নীতি, প্রথম দিকের প্রকৃতির বর্ননা সবই চমৎকার ছিল। শেষটা যদিও মনে হয়েছে যে না শেষ করার মতনই তাও জাবির আর তার নীলাম্বরীকে আরও একটু বেশিক্ষন পাশে দেখার আক্ষেপটা যেন রয়েই গেল😌 অনেক অনেক শুভ কামনা পরবর্তী গল্পের জন্য। অপেক্ষায় রইলাম...
মাস্টারপিস একটা গল্প ছিল । নূপুর আপুর সব গল্পই সুন্দর। তবে এটা একটু বেশিই সুন্দর। আমি আরেকটু আশাবাদী ছিলাম। অন্তত নীরার বিয়ে দেখার। জাবির কতো ধৈর্য্য ধরলো জাবিরের সাথে আমিও তো ধৈর্য্য ধরে পড়লাম। তবুও বিয়ের জোড়া দেখলাম না। তারপর হুট করেই মনে পড়লো, আরে এই বান্দা তো নূপুর আপু। উনি ঠাস করে গল্প শেষ করায় উস্তাদ 🥺