

ভাইয়ার জন্য যে পাত্রী সিলেক্ট হলো, তাকে আমার ভালো লেগে গেল। আমার মনে হলো, ওই মেয়েটাকে না বিয়ে করতে পারলে আমি মরে যাব। না, না, মরে যাব না; মরে যাওয়া অনেক কঠিন ব্যাপার। আমি পাগল হয়ে যাব। ঠিক পাগলও না, আমি বোধহয় থেমে যাব। জগৎ সংসার বিবর্ণ হয়ে যাবে। মেয়েটার নাম কথা। কথাকে সামনাসামনি দেখিনি, ছবিতে দেখেছি। কটকটে লাল রঙের শার্ট, হাতে সিলভার কালারের ব্রেসলেট, মাথায় সানগ্লাস! গভীর চোখ দুটোতে খানিকটা রুক্ষতা। আবার আমার দেখার ভুলও হতে পারে! ক্যামেরাম্যান হয়তো সুন্দর চোখ দুটো রিলে আনতে পারেনি। এই গল্প কথার। তবে কথার গল্পে অল্পস্বল্প অন্যরাও থাকবে। এই গল্পের একটা নাম দেওয়া দরকার। কী নাম দেওয়া যায়...? কথাকে দেখার পর আমার মাথায় দুটো লাইন এলো। গানের লাইন। তোমার নামের রোদ্দুরে, আমি ডুবেছি সমুদ্দুরে...!
"নিপা আপুর যে কোনো লিখা পড়লেই রিফ্রেস লাগে। এটাও অন্য সব গল্পের মতোই অসাধারণ একটা গল্প। মন ভালো করার মত লিখা। এমন আরো অনেক।অনেক লিখা দিন আমাদের আপু।"
অসাধারণ!!! সহজ হোক সবার জীবনে!!!
Read all reviews on the Boitoi app
আপুর গল্পে আমি এমন কিছু ওল্ড ক্যারেক্টার পাই যারা এঞ্জেল টাইপ একদম। এরা নিজেদের কাজকর্মে হাসায়ও আবার ভালোও লাগায়। যেমন এই গল্পে খালামনি ছিল। তিনজন মা-বাবাহীন ছেলেমেয়েকে আদরে-যত্নে, ভালোবাসায় বড় করেছেন। মা-বাবার অভাববোধ হতে দেন নি। খালামনি-খালু দুজনই মানুষ হিসেবে অসাধারণ। এছাড়াও সহজ-শোভনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আর নাবিলা-সহজের টম এণ্ড জেরির মতো সম্পর্কটাও দারুণ ছিল। অপরদিকে গল্পের শুরুতে কথা নিজের চঞ্চলতা নিয়ে হাজির হলেও ওর মনের চাপা কষ্টগুলো উপলব্ধি করতে পারছিলাম। ওর বাবার অতিরিক্ত হম্বিতম্বিতেও বিরক্ত লাগছিল প্রচুর। যাদের শৈশব স্মৃতি খারাপ হয় তাদের পুরো জীবনটাই ট্রমায় কাটে বলে আমার মনে হয়। এদের মধ্যে সম্পর্ক নিয়েও ভয়ভীতি কাজ করে প্রচুর যেমনটা কথার ক্ষেত্রে হয়েছে। ও বিয়ে বিদ্বেষী ছিল বলা যায় একপ্রকার। কিন্তু ওর জীবনের ব্লেসিং হিসেবে ও সহজকে পেয়েছে স্বামীরুপে। একই সাথে এত সুন্দর একটা সাজানো গোছানো পরিবার। সহজ প্রথমবার ওদের বাড়ি যাবার পর কথাকে করা অপমানের যেভাবে প্রতিবাদ করেছিল সেটা আমার খুব খুব খুব ভালো লেগেছে। এসব মানুষদের এভাবেই নিজেদের অবস্থান দেখানো উচিত। তবে আমাদের আশেপাশে এমন বহু মানুষ থাকে যারা আমাদের কষ্টে সমব্যথী না হলেও সুখ সহ্য করতে পারেনা। যেমন কথার বন্ধুরা এবং কাজিনরা। কথাকে ঠিক-ভুল বোঝানোর মানুষ ছিল না ওকে সহজেই প্রভাবিত করা যায় এই সুযোগ নিয়েই ওর মনে বিষ ঢুকিয়ে দিয়েছে এরা তবে সহজের মুভটা আমার দারুণ লেগেছে। ও অনেক স্মার্টলি হ্যান্ডেল করেছে পুরো ব্যাপারটা। জোর করে কারও ওপর কিছু চাপাতে গেলে সেটা বিরুপ প্রভাব ফেলতে পারে তারচেয়ে সবকিছু তারমতো করে চলতে দিয়ে নিজের মনেই অপরাধবোধ সৃষ্টি করিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ানো বুদ্ধিমানের কাজ। সহজ সেটাই করেছে আর পাশাপাশি সাহায্যর জন্য তো ওর বুঝদার পরিবার ছিলই। একইসাথে শেষের টুইস্টটাও মজার ছিল। খালামনিও সুযোগ পেয়ে একটু খেলে নিল সহজের সাথে। ইবুকটা সুন্দর ছিল। আমার স্ট্রং ফ্যামিলি বন্ডিং এর গল্পগুলো খুব ভালো লাগে পড়তে। পজিটিভ ভাইব পাই। এটাতেও খালামনি-খালু,নাবিলা,শোভন-তমা,সহজ-কথা প্রতিটা চরিত্রই চমৎকার ছিল।
অসাধারণ
নিপা আপুর যে কোনো লিখা পড়লেই রিফ্রেস লাগে। এটাও অন্য সব গল্পের মতোই অসাধারণ একটা গল্প। মন ভালো করার মত লিখা। এমন আরো অনেক।অনেক লিখা দিন আমাদের আপু।
আপু তোমার সবকটা গল্পের প্লটই আলাদা, এইজন্য পড়তে অনেক ভালো লাগে, কিন্তু maximum গল্পে family bonding গুলো এত্ত জোসসস হয়, এখানে কথার ক্যারেক্টার টা বেশ ইন্টারেস্টিং লাগলো, ভালোই লাগলো 🥹
Outstanding writing ❤️🤘❤️
আমি বোধহয় আজকেই প্রথম লেখিকার লেখা পড়ছি।আর প্রথম কোনো বই কিনে পড়ছি কোনো অ্যাপ থেকে তাই লেখিকার সৌভাগ্য ও বলা চলে।গল্প খুবই সুন্দর হয়েছে। বাস্তব টাও সহজের জীবনের মত সহজ হলে ভালো হত খুব।পুরোটা পড়ে শেষ করে তবেই স্বস্তি পেলাম।
খুব সুন্দর একটা গল্প। পড়তে ভালো লেগেছে। এক বসায় পড়ে শেষ করলাম।
ভীষণ সুন্দর, মজার এবং সাবলীলভাবে লেখা এই গল্পটি পড়তে গিয়ে একবারও মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সুযোগ হয়নি। লেখকের কলম বরাবরের মতোই মুগ্ধ করেছে। ভাষার সরলতা, চরিত্রায়নের নিপুণতা আর কাহিনির গতি একেবারেই মনকাড়া। চরিত্রগুলোর মধ্যে সহজ, শোভন, নাবিলা, কথা ও তমা,প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গায় আলাদা গুরুত্ব বহন করে। তাদের উপস্থিতি গল্পকে পূর্ণতা দিয়েছে। বিশেষ করে “কথার বাবা-খালা”র মতো মানুষদের প্রতিচ্ছবি সমাজের এক বাস্তব রূপকেই তুলে ধরেছে। আমরা আমাদের চারপাশেই এমন অনেক মানুষকে দেখতে পাই, যারা সমাজে অযাচিত চাপ বা অপ্রয়োজনীয় মন্তব্যের মাধ্যমে এক ধরনের অস্বস্তির সৃষ্টি করে। কিন্তু সেই সঙ্গে সহজের খালা-খালুর মতো হৃদয়বান, আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল মানুষও আমাদের সমাজে আছে, যারা মানবিকতা দিয়ে ভারসাম্য তৈরি করে। লেখক খুব সূক্ষ্মভাবে এই দ্বৈত রূপকেই ফুটিয়ে তুলেছেন, যা গল্পটিকে বাস্তবের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। সব চরিত্রের মধ্যে শোভন চরিত্রটিই সবচেয়ে বেশি মনে দাগ কেটেছে। তার ব্যবহার, চিন্তাভাবনা,হাস্যরস এবং পরিপক্বতা গল্পটিকে অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে। শেষটা ছিল যথাযথভাবে গোছানো। পাঠক হিসেবে মনে হয়নি যে কিছু বাদ পড়ে গেছে বা হঠাৎ করে কেটে গেছে। বরং সমাপ্তি গল্পটিকে একধরনের পূর্ণতা দিয়েছে। আর সেই সমাপ্তির ভেতরেও রয়েছে একরাশ আশাবাদ।
আমার ভীষণ প্রিয় একজন লেখিকা আপনি। আর বরাবরের মতন আপনার অন্য সব বইগুলোর মতন এই বইটিও আমার মন ছুঁয়ে গেছে। অনেক অনেক শুভ কামনা থাকলো।