

আমি বুকের কান্না প্রাণপণে আটকে আমার সামনে বসা, আমার প্রেমে বিরক্ত হওয়া অপূর্ব নারীটিকে মুগ্ধ চোখে দেখছিলাম। আহা, কী সুন্দর মুখখানি! কী মিষ্টি মুখের চাহনি! চাঁদের আলোও যেন ওই মুখের কাছে হার মানে। অপার্থিব এক ঘোর আমার হাত তনিরিলার হাত ধরেই থাকলো। তনিরিলার বিস্ময়ে তখন চোখ বড় বড় হয়ে আছে। দৃষ্টি হতবিহ্বল ও প্রশ্নাতুর। কী করবে বুঝতে পারছে না ও। এমন অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত বেচারি কল্পনায়ও ভাবেনি বোধহয়। ঠোঁট কথা বলবার জন্য গোল হয়ে বাঁকিয়ে আছে। খানিকটা সময় কাটলো চোখে চোখে ভাষা বিনিময়ের মজলিসে। তনিরিলা হাত ছাড়িয়ে নিলো। অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বললো, “দেখুন, আমি এসব ঝামেলায় যেতে চাই না। আপনার যদি ভালোবাসার বেশি দরকার হয়, আপনি অন্য ব্যবস্থা করুন। আমাকে বলে লাভ নেই।”
"লেখিকার শব্দচয়ন এতো সুন্দর মাশাআল্লাহ। পড়তে খুব আরাম লাগে। কিছু কিছু বাক্য এত মনে লাগে....মনে হয় এরকম বাক্য আমি জীবনে প্রথম পড়লাম একদম নতুন, আর কোথাও এমন শব্দের মিশেলে গড়া বাক্য পড়িনি একদম আলাদা কিছু...."
'রংধনুর কাছাকাছি' শিরোনামের উপন্যাসটি তৃধা আনিকা রচিত অত্যন্ত সুন্দর ও সাবলীল একটি উপন্যাস। এই উপন্যাসটি বর্ণনা করা হয়েছে প্রধান পুরুষ চরিত্রের বয়ানে। গল্পের ফ্ল্যাপ পড়ার পর গল্পটা সাদামাটা প্রেমকাহিনি মনে হলেও, মোটেও এটি সাদামাটা প্রেমকাহিনি ছিল না। বরং এটি ছিল আবেগপ্রবণ, সুস্থ আকাঙ্ক্ষা, গভীর ভালোবাসা ও স্নেহমিশ্রিত আদরে ভরা একটি উপন্যাস। উপন্যাসটিতে রয়েছে দুই জোড়া মা-ছেলের অসাধারণ রসায়ন, যা পড়ার সময় আপনার মনে হবে, "ইশ! মাশাআল্লাহ, কত সুন্দর বন্ডিং!" আমি শুধু একটি চরিত্রের নাম নেব, আর সে হলো নাভিদ। নাভিদ হচ্ছে উক্ত গল্পের মধ্যমণি, গল্পের প্রাণ। (আমার তো বইটা পড়ার সময় মনে হয়েছে, নাভিদকে কোলে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে ওকে ছড়া শেখাই। 🥹) জন্ম না দিয়েও যে মা হওয়া যায়, সেটা বইটি পড়ার সময় ক্ষণে ক্ষণে উপলব্ধি করবেন। প্রধান পুরুষ চরিত্রের মা'কে নিয়ে যতই বলি, আমার কাছে মনে হবে কমই বলেছি। মনে হবে, তিনি আরও বেশি প্রশংসা ডিজার্ভ করেন। মা হিসেবে বেস্ট, শাশুড়ি মা হিসেবেও বেস্ট, দাদুমণি হিসেবেও বেস্ট। মোদ্দা কথা, তিনি একটা আস্ত সুগার-ফ্রি টাঙ্গাইলের চমচম। (আমি ইন ফিউচারে ওনার মতো মা এবং শাশুড়ি হতে চাই। 🫶) প্রধান নারী চরিত্রকে নিয়ে তেমন কিছু বলব না। শুধু বলব, সে পারফেক্ট মা মেটেরিয়াল। আর তার মনের জোর ও ব্যক্তিত্ব সত্যিই চমৎকার। আর আমাদের গল্পের প্রধান পুরুষ চরিত্র? He is a gentleman. তার ব্যক্তিত্বের মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই। কেন মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই, তা জানতে পড়তে হবে তৃধা আনিকা রচিত উপন্যাস 'রংধনুর কাছাকাছি'। ও হ্যাঁ, আরেকটি কথা। উপন্যাসের শিরোনাম 'রংধনুর কাছাকাছি' শতভাগ সার্থক হয়েছে, আর সেটা জানতে পারবেন উপন্যাসের শেষ অধ্যায়ে। ইশ! তৃধা আপু শেষটা কী সুন্দর আদর, আদর করে লিখেছেন! এখন রিভিউ লিখছি আর ভেবে ভেবে ব্লাশ করছি। 🫣 তৃধা আপু, আমি আপনাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসি তা জানবেন। ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। শুকরিয়া। ই-বুক: রংধনুর কাছাকাছি লেখিকা: তৃধা আনিকা প্রকাশনী: বইটইই বইয়ের মূল্য: ২৫০৳ রিভিউ: তনিমা ইসলাম তারিখ: ২৮-০৭-২০২৬
Read all reviews on the Boitoi app
লেখিকার শব্দচয়ন এতো সুন্দর মাশাআল্লাহ। পড়তে খুব আরাম লাগে। কিছু কিছু বাক্য এত মনে লাগে....মনে হয় এরকম বাক্য আমি জীবনে প্রথম পড়লাম একদম নতুন, আর কোথাও এমন শব্দের মিশেলে গড়া বাক্য পড়িনি একদম আলাদা কিছু....
গল্পটা সুন্দর মোটামুটি। তবে মাঝের দিকে খুবই বিরক্ত লাগছিলো। আহনাফ সাহেবের ক্যারেক্টার এত বেশি স্পাইনলেস লেগেছে মাঝে যে গল্পের মজাটাই নষ্ট করে দিচ্ছিলো। সমানে শুধু স্ক্রল করে সামনে এগিয়েছি এই পেজগুলোতে।
আহ গল্পের প্রতিটা শব্দই উপভোগ্য ছিলো শেষ দিকে তো হার্ট অ্যাটাক হওয়ার উপক্রম হলো ধন্যবাদ আপু 🌸