

বৃষ্টি, আমি যে ভিতরে ভিতরে কতটা জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছি তা কাউকে বোঝাতে পারব না। তোমাকেও না। আমার অনুভূতি বোঝার কোনো দায় তো তোমার নেই। কখনো ছিলোও না। তোমার সঙ্গে এ সম্পর্ক গড়ার সমস্ত চেষ্টা, সমস্ত দায় আমারই ছিলো শুরু থেকে। আমি মনেপ্রাণে চেয়েছিলাম বিয়ের আগে আমার যা দোষত্রুটি ছিলো তোমার চোখে তা ভুলে তুমি সারাজীবন আমার সাথে থেকে যাও। কিন্তু তুমি থাকলে না। সেই জেদ ধরেই রাখলে। আর চলে গেলে এভাবে। বিয়ের সম্পর্ক এত তুচ্ছ কীভাবে করা যায় বৃষ্টি? আমার জানা নেই। তুমি চলে যাওয়াতে বাসার সবাই কী যে মন খারাপ করেছে, দুঃখ পেয়েছে! আব্বার মুখের দিকে তাকানোই যাচ্ছিলো না। ইকরা, রুনু, লিনা তো কেঁদেকেটে অস্থির! ওরা সবাই তোমাকে আপন করে নিয়েছিল। কিন্তু তুমিই কাউকে আপন করলে না। এত নিষ্ঠুর কী করে হওয়া যায়? কিন্তু আমি তোমার মত নিষ্ঠুর হতে পারলাম না বৃষ্টি। সমস্ত রাগ, দুঃখ, অপমান ভুলে গত তিন দিন আগে আমি সিলেট ছুটে আসলাম। এই তিনটা দিন আমি সিলেটই ছিলাম শুধু তোমাকে দূর থেকে একটু দেখার জন্য। সকালে রিক্সা থেকে নেমে অফিসে ঢোকার সময় এক পলক আর বিকালে অফিস থেকে বের হয়ে রিক্সায় উঠার সময় এক পলক! সারাটা দিন অপেক্ষা করে তোমাকে শুধু এই দুই পলক দেখারই ভাগ্য হয়েছে! থাক, তাও বা কম কীসে! আমি তোমার সামনে যাইনি। কারণ তাতে হয়ত তুমি বিরক্ত হতে, হয়ত চিৎকার-চেঁচামেচি করতে, হয়ত অপমান করতে আমাকে! সামনাসামনি দেখা না হোক, কথা না হোক—তুমি আর আমি এক শহরে আছি সেটা ভেবেই আমার ভালো লেগেছে, স্বস্তি লেগেছে। ঢাকায় ফিরে গিয়ে নিশ্চয়ই আবার খুব অস্থির লাগবে। আমি আজ ঢাকায় ফিরে যাবো। এর আগে তোমার সঙ্গে একটা বার দেখা করব শুধু এই চিঠিটা দেওয়ার জন্য। এ জীবনে এটি আমার কাউকে লেখা প্রথম চিঠি। তোমাকে বিয়ে করে, তোমাকে ভালোবেসে নিজের স্বভাবের বাইরে, ধৈর্যর বাইরে কত কী যে করছি বৃষ্টি! সেসব কখনো তুমি খেয়ালই করলে না! বৃষ্টি, তোমার ধারণা আমি তোমাকে ঝোঁকের মাথায় বিয়ে করেছি। তুমি আমার জন্য কোনো সাময়িক মোহ, বিভ্রম। যা যেকোন সময় কেটে যেতে পারে। কিন্তু তোমার এ ধারণা পুরোপুরি মিথ্যা বৃষ্টি, পুরোপুরি মিথ্যা। তোমার অতীত নিয়েও আমার কিছু যায় আসে না। সময়ের সাথে সাথে এসব আমি প্রমাণ করে দিতে পারব। কিন্তু তুমি এক্ষুণি এভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইলে আমি কীভাবে প্রমাণ করবো? তোমার কাছে আমার সবচেয়ে বড় অযোগ্যতা বোধ হয় বয়সে আমি তোমার দুই বছরের ছোট। কিন্তু এ অযোগ্যতা তো ঘোচানো সম্ভব না। এ ছাড়া পৃথিবীর সমস্ত অযোগ্যতা আমি ঘুচিয়ে ফেলতে পারব তোমার জন্য বৃষ্টি! শুধু একটা বার বলেই দেখো। তোমার নাম বৃষ্টি বলে আব্বা যে তোমাকে রেইন লিলি ফুলের গাছ উপহার দিয়েছে, সেগুলোতে অনেক ফুল এসেছে। দেখতে ভারী চমৎকার। আমাকে ভালোবেসে তুমি কী কোনোদিন সেই ফুল দেখতে আবার আমার বাসায় আসবে বৃষ্টি? এই বর্ষায় নাহলে আগামী বর্ষায়! কিংবা তার পরের বর্ষায়। তোমার জন্য অপেক্ষা করতে আমার কোনো সমস্যা নেই। এক যুগ অপেক্ষা করতে বলো প্রয়োজনে। তবুও বিচ্ছেদের কথা বলো না। বৃষ্টি! বৃষ্টি! বৃষ্টি! আমি সত্যি ভীষণ জ্বলে পুড়ে যাচ্ছি। তুমি না এলে আমি এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাব না। ভালো না বাসলেও একটু করুণা করে আসো। তবুও আসো আমার জীবনে। নয়ত আমি জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাব একবারে। আসবে তো তুমি? পুনশ্চ: বয়সে দুই বছরের ছোট হওয়া সত্ত্বেও বিয়ের আগে তোমার সাথে ফ্লার্টিং করে তোমাকে বিরক্ত করার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। জীবনে আর কোনো সিনিয়র মেয়ের সাথে ফ্লার্ট করব না। সবাইকে আপু ডাকবো। ইতি, শ্রাবণ!
গল্পের শেষ অবধি সাসপেন্স। অসাধারন অসাধারন।
Read all reviews on the Boitoi app
আহা! কি সুন্দর একখানা গল্প পড়লাম।❤️❤️ চমৎকার, দারুণ বেশি কিছু লিখতে পারবো নইলে দেখা যাবে স্পয়লার দিয়ে ফেলবো।
এতো মিষ্টি কেন বইটা। এতো আদর লেগেছে। 😊😊😊
চমৎকার একটা গল্প।পড়ে অনেক ভাল লাগল।লেখিকা তানজিলার প্রতিটি গল্পই আমি পড়েছি।এবং বরাবরের মতো এই গল্পটাও অসাধারণ ও সাবলীল।নিব্বা শ্রাবণ আর পিশাচ বৃষ্টিকে আরও একটু পড়তে পারলে ভাল লাগতো।লেখিকার জন্য শুভকামনা।এরকম আরও চমৎকার চমৎকার গল্প চাই তার কাছ থেকে....❤❤ কল্পলোকের কল্পপরী
Khub valo laglo
অসাধারণ ছিল, যেকোন গল্পে এন্ডিংটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তা যেন এই গল্পটা খুব ভালো ভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে। চমৎকার একটা সময় কেটেছে ই-বুকটার সাথে।
Khub valo laglo. Osadharon.
নিব্বা শ্রাবণের উচিত শিক্ষা হইসে। good job বৃষ্টি।।
তোমার লেখা বরাবরই অনেক সুন্দর,আরও বড় লিখতে পারো না?? তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায় কেন
ঝরঝরে, সাবলীল লেখনী। খুব সুন্দর একটা বই। দারুন লাগল বৃষ্টি আর শ্রাবণকে। আর একটু পড়তে ইচ্ছে করছে।❤