

একটি কিশোরীর জীবন। একটা সিদ্ধান্ত ধ্বংস করতে পারে একজন তরুণের সব স্বপ্ন। আর একটা ‘বিয়ে’, যা কারও চাওয়া ছিল না, তাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় এই গল্প। রিংকি, বয়স মাত্র পনেরো। মুখে এখনও খেলনার গন্ধ, চোখে স্বপ্নের রঙ ঠিক মতো ফুটে ওঠেনি। অথচ তাকে সাজিয়ে বসিয়ে দেওয়া হয় এক অচেনা ঘরের কোণে। নতুন শাড়ি, বাহারি সাজ, অথচ গলার স্বরে কেবল ভয় আর অজানা শঙ্কা। সে জানে না, এই বিয়ের মানে কী, কিংবা এই ঘরে তার ঠিক কী ভূমিকা। ওপাশে মেহরাজ। চেহারায় রাগ, চোখে আগুন। পরিবার হারিয়ে বড় হয়েছে চাচা-চাচির সংসারে, যাদের প্রাচুর্যের মোহে নিজের জীবনকে বারবার বিকিয়ে দিতে হয়েছে। এবার তাকে দেওয়া হয়েছে একটা "স্ত্রী", যার বয়স তার ছোট বোনের কাছাকাছি। আর চেহারা? “কালো”, “বাঁকা দাঁত”, এসব শব্দই বারবার ঘুরে ফিরে আসে তার মনে। এই গল্প তাদের সম্পর্কের নয়, বরং সম্পর্কহীনতার। এই গল্প ভালোবাসার নয়, বরং ভালোবাসা খুঁজে ফেরার। এই গল্প একসাথে থাকার নয়, বরং একঘরে হয়ে বেঁচে থাকার যুদ্ধের। রিংকি কাঁদে, চুপচাপ, নিঃশব্দে। মেহরাজ হাঁটে, ধোঁয়া ছড়িয়ে, ঘৃণা নিয়ে। তবু একটা সময়, এক মেঘলা দুপুরে, এক ফোঁটা নীল বৃষ্টি নামে, যা কেবল চোখে নয়, নেমে আসে হৃদয়ের গভীর কোনো কোণে। যেখানে ঘৃণা ধীরে ধীরে জায়গা ছাড়ে সহানুভূতির জন্য, আর সহানুভূতি এক সময় দ্বিধান্বিত ভালোবাসার রূপ নেয়। কিন্তু কীভাবে? রিংকি কি পারবে নিজেকে প্রমাণ করতে, একজন মানুষ হিসেবে, ভালোবাসার যোগ্য একজন নারী হিসেবে? আর মেহরাজ? তার কঠিন হৃদয়ের আবরণ কি গলে যাবে এক কিশোরীর নিঃশব্দ সাহসে?