
মানিকগঞ্জের বালিয়াটির জমিদার ইফতেখার মির্ধা রাফসান। তিনি শুধু জমিদার নন, বরং এই এলাকার অবিসংবাদিত নেতা। এই জমিদার প্রাসাদের সামনে, শত শত বছরের জমিদারি ঐতিহ্যের ছায়ায় আজও তার নিয়মে বিন্দুমাত্র শিথিলতা নেই। কঠোরতার প্রদর্শনই তার স্বভাবজাত কর্তৃত্বের প্রমাণ। তার কঠোর নিয়মে সবার মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করে। কিন্তু তার সামনে দাঁড়িয়ে কোনো কিছু বলার মতো সাহস কারো নেই। কারণ রাফসান মির্ধার কাছে ভিন্নমত মানেই অবাধ্যতা, আর অবাধ্যতা মানেই শাস্তি। তার এই কথা কঠোরতা পেছনে লুকিয়ে আছে অনেক বড় এক রক্তাক্ত ইতিহাস। যা তাকে কঠোর হতে বাধ্য করেছে। আর সেই সুযোগে তাকে নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে তার সৎ চাচা আফসার মির্ধা। তার অনেক বড় স্বার্থসিদ্ধি করার জন্য। রাফসান মির্ধার এই কঠোরতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে গর্জে ওঠে সেই গ্রামের মেয়ে রেহনুমা জাহান মেহেনাজ। মেহেনাজ প্রচণ্ড রকমের সাহসী মেয়ে। অন্যায় দেখলে সে প্রতিবাদ করবেই। তবে তার এই সাহসিকতা আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মনোভাবের জন্য রাফসানের সাথে শুরু হয় তার তুমুল দ্বন্দ্ব আর সংঘর্ষ। মেহেনাজের প্রতিবাদী সত্তা রাফসানের মনে ক্রোধের আগুন জ্বালিয়ে দেয়। রাফসান ওকে প্রতিহত করার জন্য কৌশলে বিভিন্ন রকমের পন্থা অবলম্বন করে। কিন্তু প্রতিবারই মেহেনাজ তার সমস্ত কৌশল ভেঙে চুরমার করে দেয়। শেষ পর্যন্ত কি হবে? রাফসানের দম্ভ আর অহংকার জিতবে, নাকি মেহেনাজের এই প্রতিবাদ আর বিদ্রোহের কাছে রাফসানকে শেষ পর্যন্ত মাথা নত করতে হবে?