

আবদুল মালেক একজন মেধাবী ছাত্র হিসেবেই শুধু অনন্য ছিলেন না। তাঁর লেখা এবং বক্তৃতায় দেশ ও মুসলিম জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে যে প্রজ্ঞার পরিচয় পাওয়া যায়, তার তুলনা আজও বিরল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে ইসলামের নাম উচ্চারণের প্রতিটি কণ্ঠ আজীবন শহীদ আবদুল মালেকের রক্তের কাছে ঋণী। লেখার শেষে তাঁর একটি প্রবন্ধও জুড়ে দেওয়া হলো, যাতে পাঠক আবদুল মালেকের লেখার সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন।
"আলহামদুলিল্লাহ। আবেগের একটা বড় জায়গা ছিলো মালেক ভাই। ছোটবেলা থেকেই মালেক ভাইয়ের অনেক গল্প শুনেছি আব্বুর কাছে, যেখানে উনার সম্পর্কে পড়ার সুযোগ পেয়েছি পড়েছি। লেখিকাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, সেই স্মৃতি তাজ করে দেওয়ার জন্য। এই খুনে ভেজা জমিনে কতশত অজানা শহীদ রক্ত বিলিয়ে গেল তাদের খোজ এই জমিনে না থাকলেও আসমানে তারা মহিমান্বিত হবেনই ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদের দেশ ও জাতিকে সবসময় নিরাপদে রাখুন।"
আলহামদুলিল্লাহ। আবেগের একটা বড় জায়গা ছিলো মালেক ভাই। ছোটবেলা থেকেই মালেক ভাইয়ের অনেক গল্প শুনেছি আব্বুর কাছে, যেখানে উনার সম্পর্কে পড়ার সুযোগ পেয়েছি পড়েছি। লেখিকাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, সেই স্মৃতি তাজ করে দেওয়ার জন্য। এই খুনে ভেজা জমিনে কতশত অজানা শহীদ রক্ত বিলিয়ে গেল তাদের খোজ এই জমিনে না থাকলেও আসমানে তারা মহিমান্বিত হবেনই ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদের দেশ ও জাতিকে সবসময় নিরাপদে রাখুন।
Read all reviews on the Boitoi app
অসাধারণ একটা বই, ইসলামী শিক্ষা দিবসের ইতিহাস আজ প্রথম জানতে পারলাম।
বইটি পড়ে শুরুতেই মনে হয়েছে আমি আমার জীবনের সাথে রিলেটেড একজন মানুষের গল্প পড়ছি। বইয়ের প্রতিটি লাইন খুব যত্ন নিয়ে লেখা , এছাড়া এখানে এমন একজন মানুষের জীবন নিয়ে লেখা হয়েছে যিনি আসলে আমাদের সমাজের অনেক যুবকের সাহসের বাতিঘর , যিনি নিজের জীবন দিয়ে শিখিয়ে গেছেন কিভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উচু করে দাড়াতে হয়। এমন একজন মানুষের মত জীবন গড়ার স্বপ্ন আমি সহ এদেশের অনেক যুবকের। আল্লাহ ভাইকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুণ। লেখিকা আপুকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর ভাষায় যত্ন নিয়ে আমাদের মেধাবী এবং সাহসী ভাইটিকে নতুনভাবে আমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য। আল্লাহ আপনার লেখায় আরো বেশি বারাকা দিন , আমিন।
আলহামদুলিল্লাহ। শহীদ আব্দুল মালেক সম্পর্কে জানার আগ্রহ ছিল প্রচুর। লেখককে ধন্যবাদ জানাই। শহীদ আব্দুল মালেকের জীবনী সাবলীল ও প্রাণ্জল ভাষায় তুলে ধরার জন্য। এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলার মতো একটা বই। তবে অশ্রুশিক্ত হয়েছে নয়ন।
লেখিকাকে অসংখ্য কৃতজ্ঞতা, ইতিহাসের অনেক কিছু জানা হলো। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন।
লেখিকাকে অনেক ধন্যবাদ। এই ইতিহাস আমার অজানা ছিল, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন অথবা ৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান-এ সবের ইতিহাস আমাদের যে পরিমাণ গুরুত্ব দিয়ে জানানো হয়েছে, সেরকম ভাবে শহীদ আব্দুল মালেকের আত্মত্যাগ কখনোই প্রচারিত হয়নি। জানি না কোন ন্যারেটিভ থেকে এটা করা হয়েছে। অনুরোধ থাকবে উনার হত্যাকারীদের নাম প্রকাশের।
সারাদেশের মেধাতালিকায় চতুর্থ স্থান দখল করেছিল আমাদের সাজু ১৯৬৫ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায়। তখন পাকিস্তান আমল। বগুড়ার বোঘা গ্রামের অত্যন্ত মেধাবী এই ছেলে ছোটবেলা থেকেই প্রত্যেক শ্রেণীতে নিজের নাম সবার উপরে রাখতো। গ্রামের স্কুলে জুনিয়র স্কলারশিপ পাওয়ার পর সিনিয়র, জুনিয়র এবং স্যাররা সবাই অবাক হয়ে যায়। সাজু হয়ে ওঠে সবার আইডল। রাজশাহী সরকারি কলেজ ১৯৬৩ সালে ভর্তি হওয়ার পর দেখলো গ্রামে সে একাই যেভাবে বইয়ের নেশায় মত্ত থাকতো এখানে তেমন না, লাইব্রেরির সামনে লম্বা লাইন। সেও নিজেকে এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নেওয়ার স্পৃহা দেখালো। তবে এবার শুধু লেখাপড়ার মাঝে আবদ্ধ থাকলো না। কলেজে এসে অল্প সময়ের মধ্যেই সবার নজরে আসে দুটো কারণে। প্রথমত লেখাপড়ায় ভালো, প্রতিদিনের পড়া সে ঠিকভাবে কমপ্লিট করে। দ্বিতীয়ত কলেজ এরিয়ায় আড্ডা, বারান্দায় বসে দীর্ঘ আলোচনা আর দেয়ালে সাঁটানো পোষ্টারের ভিড়ে দেখতে পেলো ছাত্ররাজনীতির সরব উপস্থিতি। পাকিস্তানি শাসন, শিক্ষানীতি, ভাষা আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে এসব নিয়ে গোপনে ঘাঁটাঘাঁটি চলছে তুমুল। একদিন সেরকমই একটি আড্ডায় যোগ দিলো। সিনিয়র তাঁর ভাবনা জানতে চাইলে বলল,“ দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে সঠিক শিক্ষা আর সৎ নেতৃত্বের দ্বারা। শিক্ষা যদি আদর্শ ভিত্তিক না হয় তবে আমরা শুধু চাকরি প্রার্থীর জাতি হয়ে যাবো। সভ্য জাতি গড়তে ভুলে যাব।” এই এক আলাপেই তাঁর ছাত্ররাজনীতির হাতেখড়ি হয়। জড়িয়ে যায় স্থানীয় মুসলিম লীগ ও যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে। প্রচন্ড মেধাবী হওয়ায় তাঁকে হাতছানি দিয়ে ডাকছিলো প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। মা'কে গ্রামে রেখে সহজ-সরল সাজু অদম্য সাহস বুকে নিয়ে কোলাহলপূর্ণ ঢাকা শহরে পা রাখে। ভর্তির তিনমাস পর সীট পেলো ঢাবির ফজলুল হক হলে। শুরু হলো নতুন জীবন। দেশভাগের পর মুসলমানদের উজ্জীবিত করার অন্যতম কারিগর মাহবুব এলাহীর হাতে গড়া ১৯৫৪ সালের ইসলামী ছাত্র সংঘে যোগ দিলেন সাজু। যা ক্যাম্পাসে তাঁর গুণে সম্প্রসারিত হতে লাগলো দ্রুত গতিতে। সহযোদ্ধারা মিলে দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দিনরাত জনসচেতনতা বাড়াতে লাগলো। ১৯৬৬-৬৮ সালে একাধারে ঢাকা শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক,সভাপতি এবং নিখিল পাকিস্তান ইসলামী ছাত্র সংঘের কার্যকারী সদস্য হন সাজু। ১৯৬৯ সালের জুলাইয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পূর্ব বাংলার শিক্ষাব্যবস্থাকে সংস্কার করতে ‘নূর খান কমিশন’ প্রস্তাব দেয়—পেশামুখী ও কারিগরি শিক্ষা বাড়ানো, মাদ্রাসাকে সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে একীভূত করা, প্রাথমিক শিক্ষা নতুনভাবে সাজানো এবং উর্দুকে প্রধান শিক্ষার মাধ্যম করতে হবে। তবে ছাত্রসমাজ এতে দ্বিধাগ্রস্ত। একদল ভয় পায় মাতৃভাষা ও সাংস্কৃতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার, অন্যদল মনে করে ইসলামী মূল্যবোধনির্ভর শিক্ষা দেশের মঙ্গলের জন্য জরুরি। শাহবাগে বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে ইসলামী নীতির ভিত্তিতে শিক্ষাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। কেউ বলে ধর্ম আর বিজ্ঞান একসাথে চলতে পারে না, কেউ বলে ধর্ম এবং বিজ্ঞান একই সুত্রে গাঁথা। ফজলুল হক হলে সাজু শিক্ষার্থীদের নিয়ে পাকিস্তানের আদর্শগত শূন্যতা সমালোচনা করে ইসলামী নীতির ওপর ভিত্তি করে সাধারণ সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। ২রা আগষ্ট দেশের নানা প্রান্ত থেকে শাহবাগে আগত জ্ঞানীগুণীদের আলোচনা শেষে সাজু বক্তৃতায় দেয়া যুক্তি শুনে চারিদিকের ফিসফিসানি থেমে যায়। সবাই মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাঁর কথা শুনতে থাকে কেউবা নোট নেয়। ভারতের আগ্রাসন নীতির ফলে পূর্ব পাকিস্তানের একটি ধর্মবিমুখ প্রভাবশালী ও ক্ষমতালোভী দল সাধারণ মানুষকে পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে দেয় যে ইসলামকে সরিয়ে দিচ্ছে। ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে ইসলামকে মুখোমুখি করে ভারতের ঢালা ঘিয়ে উত্তপ্ত হয়ে পূর্ব বাংলার মানুষ বুঝে কিংবা না বুঝে দুভাগে ভাগ হয়ে যায়। যার ফলে ১২ আগষ্ট ঢাবির টিএসসিতে পূণরায় সেই শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনার আসরে সাজু বক্তৃতা দিয়ে বের হয়ে আসার সময় সিঁড়িতেই তাঁর গায়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে হায়েনার দল। রড, বাঁশ দিয়ে শরীরের প্রতিটি স্থান জখম করে রেসকোর্সের দিকে নিয়ে ফেলে চলে যায়। কেড়ে নেয় তাঁর মুখের ভাষা। তাঁর দোষ শুধু কথা বলা। হাসপাতালের ডাক্তাররা হাল ছেড়ে দিলেন ১৪ আগষ্ট। ৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ১৫ আগষ্ট ফজরের সময় আধো চোখ খুলে ঠোঁটের কোণে হাঁসি রেখে পাশে থাকা সহযোগীদের বললেন ‘কাজ থামিও না…. আল্লাহ তুমি সাক্ষী' । এরপর জান্নাতের মেহমান হয়ে গেলেন। এই সাজুই হলেন পূর্ব বাংলায় ইসলামী আন্দোলনের প্রথম শহীদ “আব্দুল মালেক”। সে দু-দুবার কি এমন বক্তৃতা দিয়েছিলেন যে এর ফলে জীবনটাই দিতে হলো? জানতে চাইলে পড়তে হবে “খুনে ভেজা জমিন”। মারদিয়া মমতাজ আপু দারুণ একটা কাজ করেছেন এই বইটি লেখার মাধ্যমে। উম্মাহর জন্য এই শহীদের গল্প আজীবন প্রেরনা যোগাবে। আপুকে অনেক ধন্যবাদ
দারুন