

গল্পের সারসংক্ষেপ: "প্রতি নিঃশ্বাসে তুমি" "প্রতি নিঃশ্বাসে তুমি" হলো আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী সারিন চৌধুরী এবং তার স্ত্রী রেইনা মজুমদারের গভীর ভালোবাসার এক মর্মস্পর্শী কাহিনি। গল্পটি দেখায় যে, কীভাবে জীবনের সবচেয়ে বড় আর্থিক সাফল্যও প্রিয়জনের আবেগের কাছে ম্লান হয়ে যায়। প্রথম অধ্যায়: ভালোবাসা ও বিচ্ছেদ গল্পের শুরুতেই সারিনের জীবন ছিল আন্তর্জাতিক ডিল এবং বিলাসবহুল যাত্রায় ভরা। কিন্তু তার স্ত্রী রেইনার কাছে সারিনের ভালোবাসা ছিল পৃথিবীর সেরা 'ডিল'। রেইনা এবং তার মা রহিমা মজুমদারের সাথে সারিনের মজাদার ও ভালোবাসায় ভরা পারিবারিক মুহূর্তগুলো পাঠককে আনন্দ দেয়। তাদের সেই প্যারিস যাত্রা ছিল ভালোবাসার অঙ্গীকার। কিন্তু এই আনন্দের মাঝে নেমে আসে চরম শোক। রেইনার মায়ের (রহিমা মজুমদার) আকস্মিক মৃত্যুর ঠিক পরেই, তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে রেইনাই চিরতরে চলে যায়। স্ত্রী হারানোর শোকে সারিন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন। দ্বিতীয় অধ্যায়: শোক, অঙ্গীকার ও নতুন জীবন রেইনার মৃত্যুর পর সারিন তার সমস্ত হাসি হারান, কিন্তু হারাননি তার স্ত্রীর প্রতিজ্ঞা। তিনি রেইনার ইচ্ছাপূরণ করে তাদের একমাত্র কন্যা সাফিয়া জাহান সারার নামে এবং শাশুড়ি রহিমা মজুমদারের স্মৃতিতে 'সাফিয়া-রহিমা স্মারক হাসপাতাল' প্রতিষ্ঠা করেন। সারিনের কাছে রেইনার প্রতিটি স্মৃতিই হয়ে ওঠে জীবনের মন্ত্র। তিনি কন্যা সাফিয়ার মধ্যে রেইনার স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখেন এবং নীরবে তাকে গান গেয়ে শোনান। সারিনের জীবনে সাফিয়াই হয়ে ওঠে তার একমাত্র 'ডিল'। তৃতীয় অধ্যায়: সাফিয়ার ভালোবাসা ও রাজপুত্রের আগমন বিশ বছর পর, সাফিয়া বাবার সাম্রাজ্যের দায়িত্ব নিলেও তার হৃদয়ে ছিল মায়ের মতোই নিখাদ আবেগ এবং সরল ভালোবাসা। সে বিশ্বাস করত, তার 'স্বপ্নপূরণের রাজপুত্র' কোনো ধনী ব্যবসায়ী হবে না, বরং হবে ভালোবাসার মানুষ। সেই 'রাজপুত্র' হিসেবে তার জীবনে আসে মধ্যবিত্ত পরিবারের যুবক, আবেগপ্রবণ গায়ক আসিফ রহমান, যার সাথে সাফিয়ার সম্পর্ক শুরু হয় টম অ্যান্ড জেরি-র মতো ঝগড়ার মধ্য দিয়ে। আসিফের গিটারের সুর এবং জেদ সাফিয়ার হৃদয়ে স্থান করে নেয়। শেষ অধ্যায়: ভালোবাসার সফল চুক্তি সারিন যখন এই ভালোবাসার কথা জানতে পারেন, তখন তিনি আসিফের সামনে টাকা নয়, বিশ্বাস ও আবেগের এক 'ডিল' পেশ করেন। আসিফ প্রথমে বিয়েতে রাজি না হলেও, নিজের স্বপ্নের শিল্পী হওয়ার শর্ত পূরণের পর সে সাফিয়ার ভালোবাসার কাছে ধরা দেয়। আসিফের সফল শিল্পী হওয়ার পর, তাদের বিয়ে হয়। সারিন তার মেয়ের বিয়েতে সমস্ত শোক ভুলে গিয়ে, আসিফকে তার জীবনের ভালোবাসার পার্টনার হিসেবে গ্রহণ করেন। গল্পটি প্রমাণ করে, জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য বা সাম্রাজ্য হলো পরিবারের প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা এবং প্রিয়জনের স্মৃতিকে প্রতি নিঃশ্বাসে বাঁচিয়ে রাখা।
অনেক সুন্দর হয়েছে
Read all reviews on the Boitoi app