
নীরব তখন নিজের ঘরে একা বসে ছিল। টেবিলের উপর খোলা একটা বই, কিন্তু তার চোখ বারবার একই লাইনে আটকে যাচ্ছিল। মনটা কোথাও নেই—অদৃশ্য এক শূন্যতায় হারিয়ে গেছে। বাইরে হালকা বাতাস বইছে, জানালার পর্দা দুলছে, কিন্তু তার ভেতরে যেন সবকিছু থেমে আছে। হঠাৎ ফোনে একটি নোটিফিকেশন এল—মেসেঞ্জারের টিং শব্দটা নীরবকে চমকে দিল। স্ক্রিনে রূপসার নাম ভেসে উঠল। তার হৃদয়টা ধক করে উঠল। কাঁপা হাতে ফোনটা হাতে নিল সে, তারপর ধীরে ধীরে মেসেজ খুলল। প্রথমে মেসেজটি পড়ে কিছুই বুঝতে পারল না। কয়েক সেকেন্ড থেমে থেকে আবার পড়ল, তারপর আবার। প্রতিটি শব্দ যেন তার বুকের ভেতর ছুরির মতো বিঁধে গেল। “না… এটা কি সত্যি?”—নীরবের মুখ থেকে বেরিয়ে এল ফিসফিসে স্বর। সে মাথা দুই হাতে চেপে ধরল। নিঃশব্দ ঘরটা যেন তার কষ্টে ভরে উঠল। বুকের ভেতরটা দগদগে আগুনের মতো জ্বলতে লাগল। তার মনে হলো, এক মুহূর্তেই পৃথিবীর সব আলো নিভে গেছে, বাতাস ভারী হয়ে গেছে, কিছুই আর স্বাভাবিক নয়। “রূপসা… তুমি কি সত্যিই চলে যাচ্ছ?”—নীরব নিজের কণ্ঠে বলল, কাঁপা গলায়, যেন নিজের কানেও বিশ্বাস হচ্ছে না কথাটা। চোখ ভিজে উঠল, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে গেল। তবুও সে আবার মেসেজটা পড়ল—বারবার, যতক্ষণ না অক্ষরগুলো কেঁপে কেঁপে মিলিয়ে যেতে লাগল। দীর্ঘক্ষণ সে চুপ করে বসে রইল, ফোনটা হাতের তালুতে স্থির, কিন্তু বুকের ভেতর ঝড় বইছে। তারপর ধীরে ধীরে টেক্সট বক্সে আঙুল রাখল। কিছু একটা লিখল—আবার মুছে দিল। কয়েকবার এমন করল। কোনো শব্দই যেন যথেষ্ট নয় এই কষ্ট বোঝাতে। শেষমেশ গভীর এক নিঃশ্বাস নিয়ে সে লিখল।