

নূরের সাথে আদনানের বিয়েটা হয়েছিল গতবছরের অক্টোবরে। আর ডিভোর্সটা হলো এই বছরের অক্টোবরে। মাঝখানের খালি এই একটা বছর নূর জমিয়ে সংসার করতে পেরেছে। ‘জমিয়ে সংসার ’ শব্দটা ইতিবাচক হিসেবেই ধরা যেত, যদি ওদের মাঝখানে হালিমা খাতুন টাকার অঙ্কটা না ঢো'কাতেন। নূরের এখনো স্পষ্ট মনে আছে, সেদিন সন্ধ্যেবেলায় আদনান মাকে নিয়ে ওদের বাড়ি আসে। নূরকে প্রথম দেখায়'ই পছন্দ হয়ে গেছিলো তাদের। পছন্দ না হওয়ারও কোন কারন ছিল না অবশ্য! অনার্স কমপ্লিট করা ভালো পরিবারের সুন্দরী মেয়েদের প্রচুর চাহিদা থাকে বিয়ের বাজারে। নূর তো সেই তালিকার প্রথম স্থানেই জায়গা করে নিয়েছিল একেবারে! তাই ওর বিয়ের ব্যাপারটাও থেমে থাকে নি -আর পাঁচজনের মতো। পাত্রেরও কোনো বাড়তি চাহিদা ছিল না। তাঁরা তো বউ নয় বরং বাড়ির মেয়ে নিয়ে যেতে এসেছে। তাই টাকার কথা তোলার প্রশ্নই ওঠে না! নূরের বাবা- মায়েরও কোন আপত্তি ছিল না এতে। প্রথম পাত্রের হাতেই অর্পণ করে দেওয়া হলো নূরকে। যদিও ,একেবারে খালি হাতেও পাঠানো হয় নি নূরকে—দু'টো সোনার চেইন, দু'টো সোনার আংটি আর পাত্রের জন্য লাখ খানেক টাকার পোশাক-আশাক।