

স্বরণী চুপচাপ মাথা ঝুঁকাল। চোখের জল থামানোর চেষ্টা করল, কিন্তু পারল না। এই মানুষটা তার জীবন, তার সমস্ত ভালোবাসার কেন্দ্র। আর সেই মানুষটাই এভাবে আহত হয়ে এসেছে, অথচ কিছুই জানাতে চাইছে না। কিন্তু সে জানে, রুহান তাকে কষ্ট দিতে চায় না। তাই আর প্রশ্ন না করে শুধু নিঃশব্দে তার হাত শক্ত করে ধরে রইল, যেন একটুখানি সাহস দিতে চায়, একটুখানি শান্তি। রুহান ধীরে সুস্থে স্বরণীকে নিজের উষ্ণ বুকে টেনে নিলো। উদ্বিগ্ন স্বরণী নিঃশব্দে তার বুকের গভীরে মুখ লুকিয়ে রইল, দুহাতে আঁকড়ে ধরল তাকে। যেন ছেড়ে দিলেই রুহান হারিয়ে যাবে চিরতরে। রুহান স্নেহভরা হাতে স্বরণীর পিঠে আলতো চাপ দিলো, আদুরে স্বরে বলল, – “বউজান, আমি আপনাকে খুব ভালোবাসি। আপনি আমার হৃদয়ের স্পন্দন, আমার চোখের ভাষা। আপনার চোখে জল দেখলে আমার বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে ওঠে।” স্বরণীর চোখ দুটো আবেগে ভরে উঠল। রুহানের প্রতিটি শব্দ যেন তার হৃদয়ে একটুখানি আলো ছড়িয়ে দিলো।