

ইরজা উঠে বসল। হাঁটুতে মুখ গুঁজে ডুকরে উঠল। সহসা তার কান্না সর্বহারার রূপ নিল। আঁধার ঘরের নিস্তব্ধতা বিদীর্ণ করে তার কান্না সশব্দে মিছিল শুরু করল। অসহনীয়, অপ্রতিরোধ্য যন্ত্রণায় নিষ্পেষিত হৃদয় কূল প্লাবিত হচ্ছে। বিছানায় অপ্রকৃতিস্থের মতো হাত-পা ছুড়ে সব এলোমেলো করে ফেলল। যন্ত্রণায় মাথা ফেটে যাচ্ছে। দুই হাতে শক্ত করে চেপে ধরল মাথার দুই পাশ। অনবরত ঝরছে অশ্রুসার। এই কষ্ট দুর্মোচ্য, এই যাতনা দুর্বোধ্য। ক্ষণে ক্ষণে ক্ষরণ ঘটায় হৃদপ্রকোষ্ঠে। তার হৃদয় কখনো কাউকে চায়নি। কোনো পুরুষকে ওই দৃষ্টি দ্বিতীয়বার স্মরণ করেনি। ওই মস্তিষ্কে কেউ ঘর বাঁধেনি। ওই হৃদয় গহ্বর কাউকে নিয়ে স্বপ্ন বুনেনি। জীবন চলছিল তার নিজস্ব স্রোতধারায়। কিন্তু যখন থেকে বিধ্বংসী চাহনির, মন পাগল করা হাসির, বজ্রকঠোর কণ্ঠের পুরুষটির সান্নিধ্য সে পেল, তার সব উলটে পালটে গেল। মন, মস্তিষ্ক সব রসাতলে গেল। আজ যাকে তার মন চাইছে, সে নীল আসমানের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো। তাকে শুধু দূর থেকে দেখাই যায়। তার আলো উপভোগ করা যায়। কিন্তু তাকে নিজের করার চিন্তা অসম্ভব, অকল্পনীয়। আলমির ইরজার কাছে সেই আসমানের নক্ষত্রের মতো। যাকে কাছে পাওয়ার দুঃসাহসিক, অবাস্তব, অবিশ্বাস্য ধৃষ্টতা সে দেখাতে পারে না। দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে মেয়েটি। ভেঙে-চুরে একাকার! এই ঘন তমসার ভয়ংকর যন্ত্রণাদায়ক রজনী মেয়েটিকে এক মুহূর্তও শান্তিতে নিশ্বাস নিতে দিল না। পলে পলে তড়পাতে লাগল জলহীন মাছের মতো। উষরের বুকে তৃষ্ণায় ছাতি ফাটা চাতকের মতো। অগাধ জলরাশিতে সাতার না জানা নিমজ্জিত মনুষ্যের মতো। গনগনে আগুনে নিক্ষিপ্ত হরিণ ছানার মতো। এই বিভীষিকাময় বিনিদ্র শর্বরী ধুকে ধুকে পার করল ইরজা।

"দ্বিতীয় খন্ডটা দুর্দান্ত হয়েছে।সবকিছু এত সুন্দর গুছিয়ে লিখছ লেখিকা আপু।একদম পারফেক্ট হয়েছে।আমি মনে হচ্ছে ঘোরের মধ্যেই আছি।তৃতীয় খন্ডের অপেক্ষায় থাকলাম।"
দ্বিতীয় খন্ডটা দুর্দান্ত হয়েছে।সবকিছু এত সুন্দর গুছিয়ে লিখছ লেখিকা আপু।একদম পারফেক্ট হয়েছে।আমি মনে হচ্ছে ঘোরের মধ্যেই আছি।তৃতীয় খন্ডের অপেক্ষায় থাকলাম।
Read all reviews on the Boitoi app
অনেক সুন্দর ছিল প্রিয়ঙ্গনা। আলমির ইরজাকে শুধু ভালোবাসি বলে খেন্ত হয়নি,সে ইরজাকে নিজের সর্বস্ব দিয়ে আগলে রাখতে চেষ্টা করছে।ইরজা ছোট বেলায় তার মাকে বাঁচিয়েছিল,এটা কিন্তু ইরজার নিজেরও হয়তো খেয়াল নেই।কিন্তু আলমির তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দরুন হয়তো তাকে ভালো অবস্থান দিয়ে, সে অন্য ব্যাবস্থা করতে পারতো।কিন্তু সে তা করেনি,তার হয়তো মনে হয়েছিল যে বাচ্চাটা ছোট বয়সে তার মাকে বাঁচিয়েছিল সে বড় হয়ে আরো সৎ ও মায়াময় হবে তার মার মতো।তাই হয়তো ইরজাকে ভালোবেসেছে। সায়াফের জন্য অনেকটা কষ্ট হয়,এতোটুকু বাচ্চা তার মার উদ্দেশ্য হাসিলের রাস্তা হয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। তার বাবা বেঁচে নেই,অথচ মা বেঁচে ও নিজের সার্থে বাচ্চার সাথে দেখা করতে আসে।সায়াফের মতো বাচ্চারাই আফসোস করে বলবে আমার বাবার জায়গায় যদি মা মারা যেত।অন্তত মা বেঁচে নেই বলে আফসোস হতো।এখন আফসোস মা বেঁচে থাকায় তাকে ঘৃণা করার জন্য কষ্ট হচ্ছে। ফাইরোজ কি তার বাবার জালে পা দিবে? নিবেদিতা নিজের অজান্তেই কি বিপদে পড়তে যাচ্ছে। অবশ্য ফাইরোজের একটা কথায় আমার খটকা লাগলো,সে কি আসলেই নিবেদিতাকে ভালোবাসে? আলমির ইরজাকে বিয়ে করায় ফোন কলে যেমন প্রতিকৃয়া দেখায় ফাইরুজ তা খুব সন্দেহজনক মনে হল। রিনাজ কতটা চালাকি করতে চাইল।আলমির কি রিনাজের চালাকি সম্পর্কে জানতো না? তর্জয়ের মৃত্যু রহস্য এখনো সামনে এলো না।অপেক্ষা থাকবো প্রিয়ঙ্গনা -৩ এর জন্য। তাড়াতাড়ি দিবেন। অনেক অনেক সুন্দর ছিল।
অনেক অনেক ভালো লেগেছে।এক বসায় পড়ে শেষ করেছি।১ম খন্ড বেশি ছোট মনে হয়েছিলো।কিন্তু,২য় খন্ড পড়ে সেই আফসোস মিটে গেছে।৩য় খন্ডের অপেক্ষা করছি এখন থেকেই।আশা করি, লেখিকা বেশি অপেক্ষা করাবেন না।আর পরের খন্ডেই যেন সমাপ্তি হয়।