

সম্পর্কে তিনি আমার দূরের আত্মীয়। অনেক ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে গিয়ে তালতো ভাই। তার বোনের সূত্রেই আত্মীয়তা। আমার দাদীর ভাষায়, শিম-লাউয়ের লতা ঘুরে মাচার শেষ মাথার ফল। উনার রাজশাহীতে বাড়ি। পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে আমাদের এখানে বেড়াতে এসেছিলেন। চারদিন ছিলেন। সেখানেই তার সাথে আমার প্রথম দেখা। কথা বোধহয় হয়নি। কিংবা হলেও মনে রাখবার মতো নয় বলে মনে পড়ছে না। তবে দেখা হয়েছে কয়েকবার। চোখাচোখি দৃষ্টি বিনিময় হয়েছে ভদ্রতার। যে ভদ্রতায় শুধু আপনি আমি আত্মীয়, এটাই মানে হয় শুধু। অনুষ্ঠানে কেউ একজন ঠাট্টা করে উনাকে একগাদা জর্দা দিয়ে পান খাইয়ে দিয়েছিল। বেচারা মাথা ঘুরে বমি টমি করে বেহাল দশা। জিভ টিভ ছিলে গিয়েছিল পুরো। আমি মুখ ফসকে সবার মাঝখানে বলে ফেলেছিলাম, -"উনাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। যদি মরে যান!" সবাই এত হেসেছিল আমায় নিয়ে। -"সামান্য পান খেয়ে কেউ মরে না, ঝিলি। কী যে বোকা বোকা কথা বলিস না তুই।" চলে যাবার দিন, আমার খুব কাছে এসে পাশাপাশি একবার দাঁড়িয়েছিলেন। আমার নাম ধরে ডেকেছিলেন মৃদুস্বরে। -"ঝিলি..." আমি তাকাতেই বললেন, -"আমি সেদিন সত্যিই মরে যেতাম। তুমি এত চিন্তা করলে আমার জন্য, ব্যস বেঁচে গেলাম।" আমি তখন সবে কলেজ সেকেন্ড ইয়ারে। আমাদের খুব রক্ষণশীল পরিবার। বাড়িতে চার ভাইয়ের কড়া নজর সবসময় আমার উপর। কারো সাথে আলাপ জমাবার সুযোগ নেই। এমনকি আমার মেয়ে বন্ধুদেরও বাড়িতে আসার নিয়ম ছিল না। কলেজে কার সাথে বন্ধুত্ব, কার সাথে মিশছি, সেই খবরও চলে যেত বাড়িতে। আমার সব রকমের কাজকর্মে বাড়ির কড়া নজরদারি ছিল। এমন কঠিন শাসনের মধ্যে তিনি আমায় চিঠি লিখে পাঠালেন। বাড়ির ঠিকানায় চিঠি এলো। আমার বড় ভাই এক ঝিরিঝিরি বৃষ্টির সন্ধ্যায় চিঠি নিয়ে এসে বললেন, -"চিঠিটা আমার সামনে খুলে পড়তো, ঝিলি। আমার তো কেমন একটা খটকা লাগছে। তারিক তোকে হঠাৎ চিঠি লিখতে গেল কেন? আর সাথে দ্যাখ, বিশাল একটা বই। কিসের বই? খুলতো প্যাকেটটা।" আমি চিঠি না খুলেই বললাম, -"তুমি পড়ে নাও, ভাইয়া।" -"না না, তোকে লেখা চিঠি। আমি তো শুধু শুনবো, তারিকের তোকে চিঠি পাঠাবার কারণটা কী?" আমার চিঠি পড়বার সাহসে কুলোলো না। আমি আধভেজা চিঠির খাম ভাইয়ার হাতে দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম। ভাইয়া চিঠি পড়ে টেবিলে রেখে গেলেন। আমি চিঠি পড়লাম। খুব অল্প কথার চিঠি।
"কিছু গল্প আছে না- যেগুলো মন ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়? মনে হয় আর পড়বো না- শেষ হলেই তো রেশ চলে যাবে! এরপর গল্প শেষ করে আবার পড়তে ইচ্ছা হয়- আরেকটু ভালোলাগার জন্য। এই গল্পগুলো তেমন। শেষ হয়েও শেষ হয় না।"
গল্পগুলো একদম গরম গরম পপকর্নের মতো। ইয়াম্মি ইয়াম্মি!😘😘
Read all reviews on the Boitoi app
কিছু গল্প আছে না- যেগুলো মন ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়? মনে হয় আর পড়বো না- শেষ হলেই তো রেশ চলে যাবে! এরপর গল্প শেষ করে আবার পড়তে ইচ্ছা হয়- আরেকটু ভালোলাগার জন্য। এই গল্পগুলো তেমন। শেষ হয়েও শেষ হয় না।