

প্রজাপতি যখন রং-বেরঙের ফুলে উড়ে, কী যে ভালো লাগে তখন, সবার হৃদয় ওঠে দুলে! ওই ফুল এবং প্রজাপতির মনভুলানো রঙের বাহার, কে সাজালো অমন করে, কেউ পাবে কি তুলনা তাঁর? পুব-আকাশে রংধনু-রঙের সাতটি রঙের জাদুর খেলা; কার তুলিতে উঠল হেসে ক্ষণিকের ওই খুশির মেলা? নানান রঙের পাখ-পাখালি দেখলে সবার হৃদয় ভরে, সবুজ ঘাসের চাদরগুলো কে বিছালো থরে থরে? এই যে হরেক গাছগাছালি, হাজার রকম জীব-জানোয়ার, আকাশ-বাতাস, সাগর-নদী, এই মাটি আর উঁচু পাহাড়; হাজার হাজার বছর ধরে কোটি মানুষ এই দুনিয়ায়—কার মহিমা এসব কিছু? চলছে এ সব কার ইশারায়! এসব কিছুর মূলেই আছেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন; সব কিছুরই খালিক-মালিক, সারা জাহান তাঁর অধীন। ডাকব তাঁকেই সুখে-দুখে, চাইব সবই তাঁরই কাছে, অন্ধকারে আলোর দিশা তিনি ছাড়া কে আর আছে? সমাজে চলমান অনেক নারী এবং পুরুষের আচরণ দ্বারা বোঝা যায়, আল্লাহ তা'আলার ইবাদত-বন্দেগী শুধু পুরুষেরাই করবে এবং আল্লাহর বানানো ও সাজানো জান্নাতেও শুধু পুরুষেরাই প্রবেশ করবে। অথচ আল্লাহ তা'আলার ইবাদত এবং তাঁর বানানো জান্নাতে পুরুষের যেমন অধিকার, ঠিক সমান অধিকার নারীদেরও। পুরুষ যেমন আল্লাহর হুকুম পালনে বাধ্য, তেমনই নারীরাও আল্লাহর হুকুম পালনে বাধ্য। পুরুষ যেমন আমল ও আনুগত্য করলে পুরস্কার ও প্রতিদানস্বরূপ জান্নাতের অধিকার পাবে, আর অবাধ্য হলে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে; ঠিক তেমনই নারীরাও আমল ও আনুগত্য করলে জান্নাতের অধিকার পাবে, আর আল্লাহর অবাধ্য হলে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। তাই সেই সব পুরুষ ও নারীদের ভুল ভাঙানোর জন্যই মূলত বক্ষ্যমাণ গ্রন্থের অবতারণা করা হয়েছে।