Published
November 19, 2025
Language
বাংলা
Pages
341
Published by
আশরাফিয়া বুক হাউসসুশিক্ষা সভ্যতা ও অসভ্যতার মাঝে পার্থক্য নির্ণয় করে। তবে, শিক্ষাপদ্ধতি ও সিলেবাস যুগোপযোগী হতে হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর মেধা ও যোগ্যতার স্তর অনুযায়ী উত্তীর্ণ হতে হবে। তবেই তা প্রয়োজন ও চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে। নৈতিক-সামাজিক, আত্মিক-বাহ্যিক সব ধরনের প্রয়োজন পূরণ করে লক্ষ্যপানে এগিয়ে যায় আপনবেগে। প্রাচীন শিক্ষাসিলেবাস 'দরসে নেযামী' তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ। যা দেশ, রাষ্ট্র, সমাজ ও সামাজিকতা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির আলোকে রচিত হয়েছিল। অগ্রসরমান পৃথিবীর শিক্ষাধারার সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাবার প্রত্যয় ও প্রত্যাশার ব্যাপক প্রান্তর অতিক্রম করে আজ এ স্থানে এসে উপনীত হয়েছে। এ শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাথমিক স্তরের ফারসি সাহিত্য, সরফ ও নাহু এবং মানতিকের কিতাবাদী পাঠের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মাঝে সূক্ষ্ণ ফিকহী মাসআলা-মাসায়েল অনুধাবনের যোগ্যতা তৈরি হয়। কিন্তু কাল-পরিক্রমায় পাঠ-সিলেবাস থেকে কিছু কিতাব বাদ দেয়া হয়, যেগুলো শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক প্রয়োজন পূরণ করতো। আর এটা অর্থসর্বস্বদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও উন্নতির মাধ্যমে পূর্ণতা লাভের পূর্বেই তড়িৎ গতিতে জীবন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার চিন্তা-চেতনা থেকে হয়েছে। আমার হৃদয়ে এ উপলব্ধির উদয় হয়েছিল কারণ, আমি দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় দীর্ঘকাল পাঠগ্রহণ ও শিক্ষাদানের দায়িত্বে ছিলাম। তাই এমন একটি কিতাব রচনা করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল, যা শিক্ষার্থীদের মেধা-মনন, বুঝ-উপলব্ধি, স্বভাব-প্রকৃতি উপযোগী হবে। সম্পূর্ণ নতুন পন্থা ও পদ্ধতিতে না হলেও পূর্বের অবস্থা থেকে কিছুটা পরিবর্তন সাধন করতে পারাটাও কম কিসের? এ জন্য ব্যস্ততাকে পেছনে ফেলে কিতাব রচনার ডিঙি-নায়ে আরোহণ করলাম। কিন্তু হাজারো ব্যস্ততা, বিভিন্ন দেশ ও প্রদেশের সফর ও ভ্রমণের কারণে আমার ডিঙিনায়ের গতি রোধ হয়ে গেল। নিরুপায় হয়ে এ দায়িত্ব অর্পণ করলাম স্নেহাস্পদ শফিকুর রহমান নদভীকে। আল্লাহ তাআলার তাওফিককে সঙ্গী করে তিনি সুন্দর ও সুচারুরূপে কাজটি সফলভাবে আঞ্জাম দিয়েছেন। আর গ্রন্থটির নাম দিয়েছেন 'আলফিহুল মুয়াসসার'। নানা বৈশিষ্ট্যের অধিকারী 'নূরুল ঈযাহ' থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। প্রতিটি পরিচ্ছেদ শুরু করেছেন কোরআনের আয়াত ও হাদীস দ্বারা। ছাত্রদের মেধা ও বয়স উপযোগী নয় এমন তথ্য ও তত্ত্ব, ইখতিলাফ ও মতানৈক্য বর্ণনা করা থেকে বিরত থেকেছেন। সন্নিবেশিত করেছেন যুগোপযোগী অনেক মাসাইল, যেগুলোর উদ্ভব ও অবিস্কার অতীতে হয়নি। সকল মাদরাসার জিম্মাদার ও দায়িত্বশীলগণ এ কিতাবটিকে সানন্দে গ্রহণ করবেন। কচিকাঁচা ও ছোটদের মেধা ও বুঝ-উপযোগী শিক্ষা দিয়ে উজ্জ্বল আগামীর প্রত্যাশিত পথ রচনা করতে সহায়ক হবেন বলে আমি আশাবাদী। পরিশেষে, গ্রন্থকারকে তার এ খেদমতের জন্য অযুত-কোটি শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। সর্বোপরি, এ কিতাবটি আল্লাহর দরবারে কবুল ও গ্রহণযোগ্যতার স্তরে উন্নীত হোক। কায়মনোবাক্যে মহান মালিকের কাছে এ দুআ ও প্রার্থনা করে সকলের মঙ্গল কামনা করছি। আমীন। ইয়া রব্বাল আলামীন।