

"ওদের উপর রাগ দেখিয়ে লাভ আছে? ছোটো মানুষ।" "ছোটো মানুষ বলে যে সবকিছুতে বাড়াবাড়ি রকমের কথাবার্তা বলতে হবে, এমন তো কোনো কথা নেই। আর আমরা বড়োরা সবকিছুকে ভুল ভেবে উড়িয়ে দেব, এমনটা ভাবলেই বা চলবে কেন?" "ও কি এতকিছু ভেবে বলেছে? ভুল তো হতেই পারে।" "ভুল হতেই পারে, কিন্তু সে-ই ভুলকে প্রশ্রয় দেওয়া মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। অন্তত ছোটোদের ভুলকে চোখে আঙুল দিয়ে ধরিয়ে দেওয়া বড়োদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের অংশ।" তূর্ণা দমে গেল। কেন যেন নাদিফের সব কথা তার উপর উড়ে এসে পড়ে গেল। খুব গায়ে লাগল আবার চিন্তাও বাড়ল। আসলেই সবাই পারে, সবসময় ভুলকে ভুল বলে স্বীকার করতে? না কি মাঝেমধ্যে কেউ কেউ ভুলকেও প্রশ্রয় দিয়ে দেয়? নাদিফ তখনও বলে চলল, "ছোটোরা ভুল করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সব বিষয়ে কথা বলা ও মাতব্বরি করা উচিত নয়। তাছাড়া এমন কোনো বিষয়ে আগ বাড়িয়ে অতি আদিখ্যেতাও দেখানো উচিত নয়, যা আপাতদৃষ্টিতে ঠিক মনে হলেও আসলে তা ভুল! এ কারণে... ছোটোরা কখন কী করে, কোথায় কী বলে, কার সাথে মিশে, কতটা পথ একাকী চলার সাহস দেখায়, কখন বড়োদের সাহায্যের প্রয়োজন বোধ করে ছুটে আসে, এইটুকু পরিবারের মানুষদেরই বুঝতে হবে, জানতে হবে এবং ছোটোদের প্রত্যেকটা পদক্ষেপ তীক্ষ্ণ বুদ্ধির দ্বারা বিচার করে ভুল ও সঠিকের পথটা বাতলে দিতে হবে। নতুবা ছোটোরা ভুলপথে যাবে... আর দিনশেষে সেই নামমাত্র গার্ডিয়ানদের হা-হুতাশ করতে হবে!" কথাগুলো তীরের তীক্ষ্ণ ফলার মতো বিঁধে গেল তূর্ণার মনে। শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল সে। ঠোঁট কামড়ে বিক্ষিপ্ত ও জ্বলন্ত চোখজোড়া নিক্ষেপ করল নাদিফের পানে। বরফ শীতল কণ্ঠে বলল, "আপনি নিজেকে খুব বেশি জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান ভাবছেন না কি?" নাদিফ জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চেয়ে বলল, "তা হতে যাবে কেন?" "তাহলে এত জ্ঞানী জ্ঞানী কথা বলছেন কেন? আমি কি আপনার কাছে এত কথার ব্যাখ্যা চেয়েছি?" সন্দিহান চোখে তূর্ণার মুখাবয়ব পর্যবেক্ষণ করল নাদিফ। কোথাও, মেয়েটা তার কথাগুলো নিজের দিকে টেনে নিল না তো? সে নিশ্চিত হতে বলল, "আমি এসব কথা আপনাকে বলতে যাব কেন? আমি তো আমার বোনেদের কথার উপর একটা যুক্তি দিলাম মাত্র। আপনি ব্যাপারটা আপনার দিকে টেনে নিচ্ছেন কেন?" তূর্ণা ঠাণ্ডা মারা গলায় বলল, "নেব না? আপনার সব কথার মানে তো এটাই দাঁড়ায়, আমার বাবা-মা আমাকে মানুষ করতে পারেনি। আমার ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেয়নি। ভুল ও সঠিকের পার্থক্য শেখাননি। যার কারণে আজকের এই পরিস্থিতি!" নাদিফ হালকা হেসে, কিছুটা রহস্যময় গলায় বলল, "পড়ল কথা হাটের মাঝে, যার কথা তার গায়ে বাজে! ব্যাপারটা এমন হয়ে গেল না?"
শেষটা খুব সুন্দর।
Read all reviews on the Boitoi app