

"জমিদার বাড়ির বড় ছেলে, গ্রামে বেড়াতে আসা এক শহুরে মেয়েকে সারারাত জোর করে নিজের কাছে আটকে রেখেছে। অথচ সেই মেয়ে জমিদার পুত্রের পাশে, চাঁদের কলঙ্ক ছাড়া আর কিছুই নয়।" গ্রামের মানুষের মুখে মুখে আজ শুধু এক কথা। জমিদারের সুপুত্র যে এমন কাজ করতে পারে, তা এক মুহূর্তের জন্যেও কেউ ভাবেনি। এইদিকে লজ্জায় জমিদারের নাক কাটা যাচ্ছে। যে কিনা সর্বদা ন্যায়ের প্রতীক রূপে থাকে, তার ছেলে কীভাবে এমন পাপ করে বসল? সময়টা এখন বর্ষার শুরু। গ্রামাঞ্চলে বর্ষা মানেই চারিদিকে পানির জোয়ার। এই বৃষ্টির পানি যেন শীতের মৌসুমের ছোঁয়া দিচ্ছে। কর্দমাক্ত রাস্তায় খালি পায়ে হাঁটা ছাড়া উপায় নেই। এইদিকে আজ সকাল থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে। এর মাঝেও সবার বাড়ি গিয়ে কানাঘুষো যেন বন্ধ হচ্ছে না। "আপু, তুই ঠিক আছিস?" এক টিনের বাড়ির কোণার রুমে, জানালার পাশে বসে আছে সদ্য আঠারোতে পা দেওয়া এক তরুণী। এক দৃষ্টিতে জানালায় হেলান দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। কী সুন্দর গাছপালা! বৃষ্টির ফোটা পাতায় বেয়ে বেয়ে নিচে পড়ছে। পাশেই বেশ বড় এক বিল। পানিতে পুরো সাগরের মতো সবকিছু ঢেকে আছে। উপরে সাদা হাঁসের বাচ্চাগুলো দল বেঁধে সাঁতার কাটতে ব্যস্ত। "আপু...। কিছু জিজ্ঞেস করলাম তোকে? তোকে আর জমিদারের ছেলেকে নিয়ে খুব কথা হচ্ছে।" ছোট বোন নুসাইভার কথা শুনে প্রকৃতি থেকে নজর সরিয়ে ফেলে রুবাইয়া। পুরো নাম, রুবাইয়া তাসনিম। মলিন হেসে জবাব দেয়, "ঠিক থাকবো না কেন? একদম ঠিক আছি আমি। কিচ্ছু হয়নি আমার। আমিতো কোনো পাপ করিনি। লোকের কথায় আবার কীসের ভয়? আমিতো বড়ই হয়েছি লোকের কথা শুনতে শুনতে। কখনো বাবার জন্য, তো কখনো গায়ের রঙের জন্য।" পড়ুন গ্রামীণ প্লটের সামাজিক, রোমান্টিক উপন্যাস "ধূসর বাড়ির দিনলিপি।"