

শাহবাজ সাহেব গভীর চোখে মেয়েটার দিকে তাকালেন। প্রায় অনেকটা সময় দু'জন কোনো কথা বলল না। শেষে তিনি তার একটা হাত আলতো করে নীলার মাথায় তুলে তীব্র স্বরে বললেন, "তোমার গায়ের রং অসম্ভব সুন্দর, নীলাঞ্জনা। এর চেয়ে চমৎকার গায়ের রঙ ভারতবর্ষের মেয়েদের আর হতেই পারে না। তুমি জানো, তোমাকে দেখতে একেবারে নীল রঙের অপরাজিতা ফুলের মতো দেখায়? অপরাজিতা কিন্তু আমার প্রিয় ফুল, নীলা।"
"মেহরিমা আফরিন আপুর লেখার প্রেমে পড়েছি 'এই বৈশাখে' বইটি পড়ে। এরপরে আরো ২/১ টা বইও পড়েছি। আজ যামিনী ১ম খন্ড পড়লাম। যামিনীর পাঠক হিসেবে আমার কী বলা উচিত বা কী লেখা উচিত বুঝতে পারছি না! শুধু অনুভব করছি আমার ভীষণ ভালো লাগছে আবার ভীষণ খারাপও লাগছে! একবার মনে হচ্ছে শেষটা এমন হলো কেন? আবার মনে হচ্ছে এটাই ভালো হয়েছে! প্রদীপ্তা এতো ভালো কেন? আফনান কে-ই বা এতো চমৎকার লাগবে কেন! আহ্ নীলাঞ্জনা চৌধুরী! আঠারো আর পয়তাল্লিশ! বিষয়টা আমার ভালো লাগেনি অবশ্য কিন্তু শাহবাজের এভাবে চলে যাওয়াও খারাপ লাগছে। সবমিলিয়ে বইটা বিষণ্ণ সুন্দর! যামিনী ২য় খন্ড পড়ার জন্য মন অস্থির লাগছে। বই কেনা আছে কিন্তু আগামীকাল আমার পরীক্ষা। তা-ও একসাথে দুই সাবজেক্ট! হাত নিশপিশ করছে বইটই এ ঢুকে যামিনী ২য় খন্ড ওপেন করে ফেলি কিন্তু বিবেক বলছে এখন সময় রিসার্চ মেথডোলজি পড়ার... পপুলেশন এন্ড হেলথ ইকোনমিকসও আমার দিকে চেয়ে আছে! আগামীকাল পরীক্ষা দিয়ে আসার পথে বেঁচে থাকলে যামিনী ২য় খন্ডে ডুব দিব ইনশাআল্লাহ মেহরিমা আফরিন আপুর লেখাগুলো এমন চমৎকার থাকুক সবসময়... ~ সিদ্দিকা ০২.০৯.২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৭"
মেহরিমা আফরিন আপুর লেখার প্রেমে পড়েছি 'এই বৈশাখে' বইটি পড়ে। এরপরে আরো ২/১ টা বইও পড়েছি। আজ যামিনী ১ম খন্ড পড়লাম। যামিনীর পাঠক হিসেবে আমার কী বলা উচিত বা কী লেখা উচিত বুঝতে পারছি না! শুধু অনুভব করছি আমার ভীষণ ভালো লাগছে আবার ভীষণ খারাপও লাগছে! একবার মনে হচ্ছে শেষটা এমন হলো কেন? আবার মনে হচ্ছে এটাই ভালো হয়েছে! প্রদীপ্তা এতো ভালো কেন? আফনান কে-ই বা এতো চমৎকার লাগবে কেন! আহ্ নীলাঞ্জনা চৌধুরী! আঠারো আর পয়তাল্লিশ! বিষয়টা আমার ভালো লাগেনি অবশ্য কিন্তু শাহবাজের এভাবে চলে যাওয়াও খারাপ লাগছে। সবমিলিয়ে বইটা বিষণ্ণ সুন্দর! যামিনী ২য় খন্ড পড়ার জন্য মন অস্থির লাগছে। বই কেনা আছে কিন্তু আগামীকাল আমার পরীক্ষা। তা-ও একসাথে দুই সাবজেক্ট! হাত নিশপিশ করছে বইটই এ ঢুকে যামিনী ২য় খন্ড ওপেন করে ফেলি কিন্তু বিবেক বলছে এখন সময় রিসার্চ মেথডোলজি পড়ার... পপুলেশন এন্ড হেলথ ইকোনমিকসও আমার দিকে চেয়ে আছে! আগামীকাল পরীক্ষা দিয়ে আসার পথে বেঁচে থাকলে যামিনী ২য় খন্ডে ডুব দিব ইনশাআল্লাহ মেহরিমা আফরিন আপুর লেখাগুলো এমন চমৎকার থাকুক সবসময়... ~ সিদ্দিকা ০২.০৯.২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৭
Read all reviews on the Boitoi app
দারুন লেগেছে 🫶🏻
এত্ত সুন্দর কেনো গল্পটা? কাঁদতে কাঁদতে এই রিভিউ লিখছি। আমি এক চরম অন্ধ হুমায়ুন প্রেমী আজ বহুবছর পর উপলব্ধি করছি, হুমায়ুন আহমেদ মরে নাই, আরও একঝাঁক হুমায়ুন রেখে গেছে। তাদের মধ্যে একজন এই মেহরিমা। শাহবাজের সাথে তুমি ভালে করোনি মেয়ে!
দীপা কিংবা নিলা নয় শাহবাজকে আমি প্রচন্ড রকম ভাবে অনুভব করছি, আমি জানি নাহ্ কেনো বিবাহিত মানুষদেরকে আমি খুব ফিল করি, শাহবাজ সাহেবের সাথে মাইমুনা থাকলো নাহ্, আমি তাকে দোষ দিচ্ছি নাহ্ তার নিজস্ব ইচ্ছে থাকবেই, কিন্তু আসলে আমি এ বিষয়টা মানতেও পারছি নাহ্, শুধু এটুকুই বিস্সাস করি আমি কোনো মানুষকে পার্টনার হিসেবে চাই যাতে সে আমার যেকোনো পরিস্তিতিতে আমার পাশে থাকে, তাহলে কেন মানুষ তার পার্টনারকে খারাপ অবস্তায় ফেলে চলে যবে? এটুকুই আমার মাথায় ধরে নাহ্। আচ্ছা মানুষ কেন তার পার্টনারকে ছেড়ে যায়? আমার কথা গুলো খুবই খাপছাড়া লাগছে, ভালো লিখতে পারি না যে্! অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ হয়েছিলো আমার, গল্প, উপন্যাসের বর্ননার মতো মানুষ না পেলেও আমি একজন আমার মতো মানুষ পেয়েছি, শাহবাজদের মতো মানুষের যখন দেখি তখন মনে হয় আমার মানুষটাকে নিয়ে আমার ইহকাল, পরকাল সবকিছুই হোউক। দীপার সুন্দর সংসার হোউক, নীলার অনূভুতিকে অপদস্থ করছি নাহ্, তবুও বলছি অনূভুতি খুবই দামি জিনিস, সবকিছুতেই এটাকে কাজে লাগানো উছিত নাহ্, নিলা হয়তো শাহবাজকে ভুলে যাবে আবার নাও হতে পারে, নীলার বয়সটা তো আবেগি! কিন্তু শাহবাজ যে চলে গেল এত অভিমান নিয়ে? আচ্ছা মাইমুনা যদি থেকে যেতো তাহলে কি এমন হতো শাহবাজের জীবন? আমি মাইমুনাকে দোষ দিচ্ছি নাহ্ একদমই নাহ্, সুধু এটুকু বলছি আমরা কিভাবে নিজের ভালোবাসার মানুষ টাকে ভুলতে পারি? আসলে মাইমুনা আর শাহবাজের মধ্যে সুন্দর সংসার হলেও ভালোবাসাটা ঠিক হয়নিহ্!
অসাধারণ হয়েছে।এই বইটা আমার এই বছরে পড়া সবচেয়ে সুন্দর বই গুলোর একটি।
মাশাআল্লাহ 🤲🏻🤲🏻
Next part er opekhai roilam ❤❤❤❤
এটা তোমার লেখা বাকি সব গল্পগুলো থেকে একদম আলাদা একটা গল্প। সত্যি বলতে প্রথমে শাহবাজ আর নীলার সম্পর্কটা আমারও একটু অদ্ভুত ই লাগছিলো কিন্তু শাহবাজ এর এইভাবে চলে যাওয়া টা মানতে কষ্ট হচ্ছে। পরবর্তীতে নীলা নিজেকে কি ভাবে সামলাবে তা নিয়ে কৌতুহল হচ্ছে। দীপা আর আফনান এর ভবিষ্যতে কি আছে সেটা ও জানতে আগ্রহী। দ্বিতীয় খণ্ডের অপেক্ষায়। লেখনী বরাবর এর মতই প্রশংসনীয়।
“যামিনী” - এর শাব্দিক অর্থ রাত হলেও গল্পের খাতিরে অর্থখানা আমি অমানিশা রজনীই নাহয় ধরে নিই? যেই রজনী লন্ডভন্ড করে দিয়েছিলো এক অষ্টাদশীর অপরিণত অনুভূতিকে! যেই রজনী বোধহয় এক মমতাময়ী বোনকে ভীষণ অনুতাপে দগ্ধ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত! গল্পের নামটা কি সেই রাতের প্রতিনিধিত্বই করছে? খুব জানতে মন চাইছে... লেখিকার আগের গল্পগুলোর নামে আমি আদর খুঁজেছিলাম, স্নিগ্ধতা খুঁজেছিলাম, মিষ্টি প্রেমময় অর্থ খুঁজেছিলাম। তবে “ যামিনী ” নামে আমি কেবল বিষন্নতায় খুঁজে পেয়েছি... নামের সাথে সঙ্গ দিতে বোধকরি গল্পের কাহিনিও আমাকে অথৈ বিষাদের সাগরে ডোবার আহ্বান জানিয়েছে! যায়হোক, নাম নিয়ে বিস্তর গবেষণা করা হয়েছে। এবার একটু চরিত্রগুলোর দিকে নজর দেওয়া যাক। আফনান - পুরো গল্পের সব'চে প্রাণোচ্ছল চরিত্র বোধহয় এটাই। অন্য চরিত্রগুলো পড়ার সময় যখন তীব্র মন খারাপ আমাকে জাপটে ধরতো সেই সময়ে আফনানের একটুখানি উপস্থিতি আমাকে খুশি করে দিতো। হুটহাট বেফাঁস কথা বলে দীপাকে লজ্জায় ফেলার পরিবর্তে বোধহয় আমিই লজ্জায় বালিশে মুখ গুঁজতাম। আফনানকে পড়ে আমি একটা জিনিস রিয়েলাইজ করলাম। সেটা হলো- ভালোবাসা আদায়ে দাম্ভিকতা কোনো অপরাধ না, বরং অধিকার। I just love this character too much.... প্রদীপ্তা - ডাকনাম দীপা। সাহিত্যে এই নামের এক বিশেষ দখলদারিত্ব আমি লক্ষ করেছি। উপন্যাসের দীপারা আমায় অনুপ্রেরণা দেয়, যামিনীও তার ব্যতিক্রম নয়। আমি বুঝলাম না কেনো বাকি পাঠকরা তাকে এতো কথা শোনাচ্ছে। আমার কাছে সে সর্বোচ্চ সঠিক। একজন আদর্শ বড় বোন। সে ভুল কি বলেছে? ভুল কি করেছে? আমিও একজন বড় বোন, পরিবারের বড় মেয়ে। দীপার জায়গায় যদি আমি ঐ পরিস্থিতিতে থাকতাম তবে আমিও এটাই করতাম। বরঞ্চ আরোও বেশি রিয়েক্ট করতাম। দীপা যা করেছে সেটা তার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। দীপা বরাবরই একটা আদর্শ চরিত্র। নীলাঞ্জনা - নীল নাকি বিষাদের রং? নামের এই বিষাদ বোধহয় তাই অষ্টাদশী রমনীর জীবনেও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে আমার কাছে এই চরিত্রটাকে একটু নির্বোধ টাইপেরই লেগেছে। জানি এই বয়সে মেয়েদের অনুভূতি বেশ নাজুক থাকে। কিন্তু বেসিক জ্ঞানবুদ্ধিতো অন্তত থাকার কথা। নীলা আর শাহবাজের মূহুর্তগুলো পড়ে আমি তীব্র অস্বস্তিতে ভুগতাম। আমি এই মেয়েটার জীবনে একটা সঠিক মানুষ চায়। দীপাকে আগলে রাখার জন্য আফনান আছে, কিন্তু নীলা? এই বোকা মেয়েটাকে ভালোবাসায় মুড়িয়ে রাখার জন্য কি কেও আসবেনা? শাহবাজ - এই লোকটার উপর আমার প্রচন্ড রাগ। সে নীলাকে শুধু প্রশ্রয়ই দেয়নি বরং দায়িত্বসহকারে তার ভুলটাকে নিজের হাতে বাড়তে দিয়েছে। প্রথম দিকে পড়ার সময় এই চরিত্রটাকে আমি হুমায়ুন আহমেদের বৃষ্টিবিলাস গল্পের মুত্তালিব সাহেবের সাথে রিলেট করতে চেয়েছিলাম। শুরুর দিকে আমিও ভেবেছিলাম নীলা আর শাহবাজের সম্পর্ক বোধহয় শামা আর মুত্তালিবের মতোই হবে৷...কিন্তু গল্প যত আগাচ্ছিলো তত আমি এই চরিত্রটার উপর আমি বিরক্ত হয়েছি। আমি চেয়েছিলাম শাহবাজ শাস্তি পাক, তবে তার পরিণতি এমন কিছু হোক আমি চাইনি... এবং অবশ্যই এর জন্য দীপার কোনো দোষ নেই৷ __________________________________________________________ রাতেই পড়া শুরু করেছি এবং একটানে রাতেই শেষ করেছি কোনো ব্রেক ছাড়া। এই গল্পের প্রতিটা মোড় আমাকে কাঁদিয়েছে। এইটুকুন সমাপ্তি আমাকে তৃপ্তি দেয়নি৷ আমার এখনো দীপা-আফনানের সংসার দেখা বাকি, তিতলীর ভঙ্গ হৃদয়ের আকুতি শোনা বাকি, নওরোজ সাহেব আর তার জামাইয়ের দ্বন্দ্ব উপভোগ করা বাকি। সর্বোপরি, নীলাঞ্জনা নামের বোকা মেয়েটার একটু সুখ দেখা বাকি। তার বিষাদ আর আধাঁরে আচ্ছন্ন জীবনটাকে সাত রঙে রঙিন করা মানুষটার দেখা পাওয়া বাকি৷ নীলার মতে - আপার মতো ভালোবাসা আর যত্নে মুড়িয়ে রাখা একজন প্রেমিকের ছোঁয়া পাওয়া বাকি। আর এই সবের জন্য দ্বিতীয় পরিচ্ছেদের অপেক্ষায়....
বছর হতে চলল তোমার লিখা পড়ছি। আমি তোমাকে নিয়ে ভীষণ আশাবাদী মেহরিমা।তোমার উত্তরোত্তর উন্নতি,তোমার চিন্তার বিকাশ,তোমার লিখনশৈলী,সবকিছু নিয়েই আশাবাদী। It's a humble request,please don’t stop untill you achieve the things you deserve. তুমি অনেক অনেক যোগ্য এই ফিল্ডে থাকার।সেটা কি তুমি জানো? তোমার লিখা,তোমার চিন্তা,তুমি যে সমসাময়িক আর দশজন লেখকের চেয়ে আলাদাভাবে চিন্তা করো,এটা তোমার এই গল্পে এসে একশো ভাগ ফুটে উঠেছে। আমি বিশ্বাস করি,তোমাকে দেখিয়ে একদিন আমি আমার কাছের মানুষদের বলতে পারবো,ফেসবুকেও সুস্থ মনোমুগ্ধকর সাহিত্যের পরিবেশন হয়। যামিনী তোমার এ যাবতকালের সবচেয়ে গোছানো লিখা।তবে লিখায় হুমায়ুন আহমেদের স্বাদ দিচ্ছিল।চেষ্টা করবে নিজের মতো করে আলাদা ধারায় নিজের কাহিনি সাজানোর। চোখ বন্ধ করে বলতে পারি,তোমার এই লিখাটা বইয়ের পাতায় আসার যোগ্যতা রাখে।