

কবিতা সবসময় লেখকের কল্পনা অনুযায়ী হয়। তাই সেটা অন্যজনের ভাবনার সাথে নাও মিলতে পারে। এজন্য লেখক একটু চেষ্টা করেছে কবিতার মূলভাবনাকে ক্ষানিক ফুটিয়ে তুলতে। যা নিচে প্রতিফলিত করা হলোঃ পৃথিবীতে সমস্ত কিছুই নশ্বর, অবিনশ্বর কেবল স্রষ্টার সত্তা। তিনি যদি না থাকতেন তাহলে আমরা সৃষ্টির সেরা জিব হতে পারতাম না। মানুষের জ্ঞানকে মহান স্রষ্টার সাপেক্ষে তুলনা করা যায়। শুধু পার্থক্য হলো স্রষ্টার সকল গুনের মাত্রা বহুগুণ। এজন্য কবিতার প্রথম চরণে বলা হয়েছে, তোমারই জন্য হয়েছি যে ধন্য অর্থাৎ হে স্রষ্টা! তোমার জন্যই আমরা সৃষ্টির সেরা জীব হতে পেরেছি। মানব জাতির জন্য স্রষ্টার ইতিহাস শুরু হয়েছে সৃষ্টির প্রথম কলমের লেখা ইতিহাস দ্বারা, সেই কলম যদি কিছু না লিখতো তাহলে মহাবিশ্বের কিছুই সৃষ্টি হতো না। তাই এই কথাকে কেন্দ্র করে বলা হয়েছে, তোমার ঐ গান আমার এই প্রাণ। অর্থাৎ আমাদের প্রাণ সৃষ্টি হয়েছে স্রষ্টার আদেশেই। যেখানে স্রষ্টার আদেশকে ছন্দ মিলের জন্য কবিতায় গান বলা হয়েছে। স্রষ্টা যদি নাই থাকতো তাহলে জীবন সৃষ্টি হলো কিসের সাপেক্ষে? বৈজ্ঞানিক তথ্য মতে পৃথিবীতে প্রথম প্রাণের সৃষ্টি হয়েছিলো সমুদ্রে। তাই সে মতভেদকে আপাতত সম্মান করে বলা হয়েছে,"তুমি ছিলে বলে, হয়েছিলো জীবন-গভীরতম জলে।" মূলত স্রষ্টাই গভীর সমুদ্রে প্রাণের সঞ্চার করেছিলো যা আমাদের মতভেদে হোক কিংবা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায়ই। চিরন্তন সত্য হলো এটা, সৃষ্টিকর্তাই আমাদের সৃষ্টি করেছেন। আর আমরা মানুষেরা বর্তমান সমাজে তা অস্বীকার করতে ব্যস্ত। আমরা ভাবি আমরা বিশাল জ্ঞানের অধিকারী হয়েছি কিন্তু নদী কখনো সাগরের সমান হয় না। তাই কবিতার কিছু অংশে মানুষের অহংকার ও স্রোষ্টার অসীমত্ব উপমা দ্বারা তুলে ধরা হয়েছে। কিছু অংশে তুলে ধরা হয়েছে, সৃষ্টির সাথে স্রষ্টার সম্পর্ক। সে সম্পর্কে বলা হয়েছে, স্রষ্টা হলো সৃষ্টিরই প্রতিচ্ছবি। সাত-আসমান জুড়ে ছড়িয়ে ছিটে থাকা রহস্যকে স্রষ্টার গুনগান হিসেবে এই কবিতায় উপমা দেওয়া হয়েছে এবং স্রষ্টার কাছে তার মহান গুনগুলোর আরও কিছু অংশ আবদার করে নিজেদের সম্মানকে আরও বৃদ্ধি করার জন্য প্রার্থণা করা হয়েছে আরও প্রার্থনা করা হয়েছে দুনিয়াবী আকাংখাকে ধ্বংস করি দিয়ে পরকালীন সুখ-শান্তির। বিঃদ্রঃ ভুল-বেয়াদবি ক্ষমা করে দিও। এটি শুধু লেখকের কল্পনা মাত্র।