

একজন ফেল যাওয়া ছাত্রের জীবনে শিক্ষিত সমাজে কোনো মূল্য থাকে না। তাকে সাপোর্ট দেওয়ার মতো মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না অথচ সে যদি পাস করতো তাহলে দেখা যেত তার কত কদর। কিন্তু শত চেষ্টা করার পরেও পাস না করতে পারা একটি ছাত্রের আর্তনাদ কবিতাটিতে ফুটে উঠেছে। সে বুঝাতে চাচ্ছে, পড়াশোনা আমার ভালো লাগে না তবুও জীবনের ছন্দে ভালো থাকার জন্য আমি পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করি কিন্তু এটা প্রকৃত জীবন নয় তাই আমার জীবন মৃত্যুকেই শ্রেষ্ঠ মনে করছে, এমন চাপের জীবন থাকার চেয়ে না থাকাকেই সে উত্তম মনে করছে অথচ আমি মারা গেলে আমার গল্প সেখানেই আটকে থাকবে তাই পুনরায় চলতে লাগি। ভোরবেলায় যখন পাখিরা ডাকাডাকি শুরু করে তখন আমার মায়েরও ডাক পড়ে পাইভিট,কোচিং,যাওয়ার তাগিদ দিয়ে। সে মাথায় ঢুকিয়ে দেয়, "তোমাকে নিয়ে তোমার বাবার অনেক স্বপ্ন অবশ্য সেটা আমারও স্বপ্ন।" তাদের স্বপ্ন আমাকে দ্বারা পূরণ হলে তারা নাকি বেশ খুশী হবে। অথচ তারা আমার চাপের দিকে দৃষ্টি রাখে না। অতঃপর যখন পরিক্ষার ধুম পড়ে যায় তখন অন্তত বা-মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রাত জেগে পড়াশোনা করা হয়। আর পরিক্ষার হলে গিয়ে সেগুলোর মধ্য থেকে তেমন কিছু কমন পড়ে না। ফলে রেজাল্টের দিন ছাত্রের জন্য দুঃসংবাদ আসে। যে সংবাদ শুনে ছাত্র, চারদিকে অন্ধকার দেখতে শুরু করে, লজ্জায় সে বা-মায়ের দিকে তাকিয়ে কোনো কথা বলতে পারে না। সে মলিন মুখ নিয়ে পথে-পথে ঘুরে বেড়াতে শুরু করে জীবিকার আশা নিয়ে। কারন ফেল যাওয়ার পর তার পড়াশোনা বন্ধ থাকলেও পেটের ক্ষুধা ঠিকই চালু রয়েছে । ক্ষুধা নিবারণের জন্য সে বাবা-মায়ের কাছে যাওয়ার সাহস পায় না। কখনো-কখনো সমাজের ফেল যাওয়া ছাত্রদের উক্ত কারনে আত্মহত্যাও করতে দেখা যায়। (যা একেবারেই উচিত নয়) উচিত হবে এটাই পড়াশোনার বাইরেও যে জীবিকার ব্যবস্হাগুলো আছে সেদিকে মন দেওয়া এতে করে ফেলের লজ্জা ধীরে-ধীরে কেটে যাবে। আবার বাবা-মায়ের স্বপ্নও পূরণ হবে। মূলত বাবা-মায়ের স্বপ্ন এটাই, "তার সন্তান উচ্চসম্পদশালী হোক যাতে সমাজে তার একটা স্টাটাস থাকে" আর সেটা যে পড়াশোনা করে ডিগ্রি পাওয়ার মাধ্যমে সম্ভব হবে তা কিন্তু সঠিক নয়। তাই ফেল যাওয়া ছাত্রদের উদ্দেশ্যে শেষের লাইনে শিক্ষা রয়েছে। মূলত শেষের লাইনের জন্যই পুরো কবিতা।
