

'তুমি আমার, কারিমা....' বলতে বলতে মেঝেতে আঁচড়ে ফেলে কারিমাকে। হাত দুটি দু পাশে ফেলে অদৃশ্যভাবে বন্দী করে দেয়। দেখে মনে হচ্ছে, রশি দ্বারা বেঁধে রেখেছে। মাথার ওড়না টেনে ছুঁড়ে ফেলে অন্যপাশে। খুব বাজেভাবে স্পর্শের অনুভব করে পেটে, কোমড়ে। মুখ দিয়ে গোঙ্গানির আওয়াজ ব্যতীত কিচ্ছুটি বের হচ্ছিল না। বক্ষে ভারী স্পর্শ অনুভব করার পূর্বেই দূর থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে এলো। সব কিছু ধীরগতিতে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। কারিমা মনে মনে দোয়াদরুদ পাঠ করে নিজের সঙ্গে কিছুক্ষণ যুদ্ধ করতে করতে অজ্ঞান হয়ে যায়। সেই রাতের পর থেকে কারিমার পৃথিবী আর আগের মতো রইল না। দিনের আলোতেও সে বুঝতে পারে, কেউ যেন সবসময় তাকে অনুসরণ করছে, অদৃশ্যভাবে, নীরবে। রাত নামলেই বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, পর্দা দুলে ওঠে বিনা কারণে, আর বুকের গভীরে বাজে সেই ঠান্ডা ভয়ংকর কণ্ঠস্বর, 'তুমি আমার, কারিমা...' দাদীমা বুঝতে পারে বড় ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে তার নাতনির সঙ্গে। রাতে সারাক্ষণ পাশে বসে কুরআনের আয়াত পড়েন, দোয়া ফুঁকেন, তবু কারিমার মনে শান্তি নামে না। একদিন রাতে এশারের নামাজ শেষে কারিমা চুপচাপ ঘরের কোণে বসে জিকির করছিল। হঠাৎ এক শীতল হাওয়া বইতে লাগল ঘরের ভেতর। আলো নিভে গেল একে একে, যেন বাতাসে কেউ নিঃশব্দে হেঁটে বেড়াচ্ছে। ঘর ভরে গেল সুন্দর সুমিষ্ট ঘ্রাণে। কারিমা নিশ্বাস নিয়ে শান্তি অনুভব করছে। হঠাৎ মৃদু কণ্ঠ ভেসে আসতেই সে হকচকিয়ে উঠে। শোনা যায়, 'ভয় পেও না। আমি তোমার ক্ষতি করব না।'