

মহাকালের খেয়া (তিমির বিদারি) 'মহাকালের খেয়া' একটি সমাজ-বিপ্লব ও আত্মজাগরণের আখ্যান। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র অয়ন, এক অভিজাত জমিদার বংশের উত্তরসূরি হওয়া সত্ত্বেও তার রক্তে বইছে বিদ্রোহের আগুন। তার বিপরীতে মৃন্ময়ী কেবল এক নারী নয়, বরং সে যুগ-যুগান্তরের অবদমিত নারীশক্তির এক প্রদীপ্ত শিখা। গল্পের প্রেক্ষাপট এমন এক বাংলার, যেখানে বর্ণবাদ, কুসংস্কার আর সামন্ততান্ত্রিক শোষণে মানুষের আত্মা মুমূর্ষু। অয়ন যখন সেই জীর্ণ প্রথা ভেঙে অচ্ছুতদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হয়, তখন সমাজ ও পরিবারের সাথে তার চূড়ান্ত সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে। কালবৈশাখীর প্রলয় আর মানবিক চেতনার এক মহাসম্মিলনে অয়ন ও মৃন্ময়ী মিলে গড়ে তোলে এক নতুন দিগন্ত। এটি কেবল একটি প্রেমের গল্প নয়; বরং রবীন্দ্রনাথের আধ্যাত্মিকতা, নজরুলের তেজ, আর রোকেয়ার যুক্তিবাদ দিয়ে গড়া এমন এক তিমির বিদারি পথচলা—যা পাঠককে শেখায় কীভাবে ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে নতুন ভোরের জয়গান গাইতে হয়।