

"শোনো...!" সম্বোধনে 'তুমি' শব্দটা যতখানি বিস্ময় জড়ো করল চেহারায়, এরচেয়ে দ্বিগুণ মায়া নিয়ে পদ্ম মাথা তুলে ইফরাদের দৃষ্টিতে দৃষ্টি মিলিয়ে আগ্রহী হয়ে বলল, "কী?" "দূরত্ব দুটো মনকে দূরে নিয়ে যায়, এই কথাটা ভুল, পদ্মপুকুর। দূরত্ব ক্রমশ বুঝিয়ে দেয়, কে কার মনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পেরেছে। কতটুকু জায়গা দখল করে হৃদয় ছোঁয়ার মতো অধিকার অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তাছাড়া, দাম্পত্য জীবনের এই দূরত্ব আমাদের সম্পর্ককে আরও খাঁটি ও বিশ্বস্ত হতে সাহায্য করবে।" পদ্ম ঠোঁট কামড়ে তাকিয়ে রইল। চোখে জল জমছে, কিন্তু সে তা ঝরতে দিচ্ছে না। কারণ সে বুঝতে পারছে, তার নীরবতা, মন খারাপ ও সম্পর্ককে ঘিরে জড়ো হওয়া চিন্তাটুকু কোনো ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই পড়তে পারছে ইফরাদ। এজন্য এই ভরসাবাণী। তার কণ্ঠে কোনো নাটকীয়তা নেই। জড়তা নেই। তবে যা আছে, সেটুকু নিজের দিকের স্পষ্টতা। পদ্ম চোখ তুলে তাকিয়ে বলল, "তাহলে আপনি বলতে চান, দূরে না গেলে সম্পর্ক খাঁটি ও বিশ্বস্ত হয় না?" ইফরাদ মাথা নুইয়ে পদ্মের কাছে আরও একটু ঝুঁকে এলো। দু’হাতের আলতো স্পর্শে মায়াবী মুখটা কিঞ্চিৎ উপরে তুলে কপালের মধ্যিখানে ঠোঁট ছুঁইয়ে বলল, "তুমি যা ভাবছ, বিষয়টা তা নয়।" "তাহলে কী?" "আমি তোমাকে ছেড়ে যাচ্ছি ঠিকই। তবে এই ছেড়ে যাওয়া মানে একেবারে দূরে যাওয়া নয়। বরং আবার ফিরে আসার তাড়না নিয়েই আমি আমার হৃদয়কে তোমার কাছে গচ্ছিত রেখে যাচ্ছি। এবং তোমার হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা নিজের সাথে নিয়ে যাচ্ছি। মাত্র কয়েকটা মাসের জন্য আমরা আলাদা থাকব। কিন্তু যে দামী সম্পর্কের মাধ্যমে তোমাকে পেয়েছি, তাকে বাঁচিয়ে রাখব। বিশ্বাসে, যত্নে ও ভালোবাসায়।" পদ্ম মলিনমুখে একটুকরো হাসির আভা ফুটিয়ে তুলে বলল, "আমি অপেক্ষায় থাকব।" পিছন থেকে ঘুরে এসে পদ্মের পাশাপাশি বসল ইফরাদ। আলগোছে একহাতে তাকে আগলে নিল। অন্যহাতের মুঠোয় তার হাত টেনে নিয়ে আঙুলের ফাঁকে আঙুল মিলিয়ে বলল, "যদি খুব একা লাগে… আমায় স্মরণ করো। জেনে রেখো, তোমার গালে, কপালে, এমনকি ঠোঁটের কোণের লাজুক লাজুক হাসির ভাঁজেও আমি আছি। থাকব। সবসময়...।"
"এক কথায় অসাধারণ অসাধারণ অসাধারণ একটি লেখা। সম্পর্ক ও সংসার কে ঠিক যেভাবে উপস্থাপন করলে বাস্তবতা ঠিকরে পড়বে ঠিক সেভাবেই লেখা হয়েছে। প্রতিটি চরিত্র নিজেদের স্বকীয়তা আর আচরণ দিয়ে মন জয় করেছে তো মন থেকে ঘৃণা সৃষ্টি করেছে। যে যেমন করেছে ঠিক তেমন কর্মফল(পুরষ্কার বা পরিনতি)পেয়েছে। তবে আমাদের প্রধান চরিত্র দুজনের সেই সংসার ও সম্পর্কের প্রতীক দেখার যে খুব আক্ষেপ রয়ে গেল। শেষ হয়েও শেষ হলো না এমন অবস্থায় রয়ে গেছে। এখন বাকিটা কল্পনায় বারবার সাজাচ্ছি যে এরপর কি হল, ওরা কি সেই কাঙ্খিত জনকে পেয়েছে? কেমন চলছে ওদের সংসার? উফফ!!! এখনও রেশ থেকে গেছে। এটার দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ আসলে খুব ভালো হবে। আমাদের পাঠকদের আক্ষেপ একেবারে মিটে যাবে। তবে এটাই তো আসল আকর্ষণ যে শেষটা আমাদের তাদের ভবিষ্যৎ ভাবতে বাধ্য করছে। অসম্ভব সুন্দর একটা লেখনী আপু। তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।"
বই টি ভালো লেগেছে,,,
Read all reviews on the Boitoi app
শুধুমাত্র জুহির পরিস্থিতি ওর সাথে ঘটে যাওয়া সব কিছু পরিশেষে জুহির জীবন কে যেভাবে দেখানো হয়েছে, এতটুকুর জন্য একটা বিগ থাম্বস আপ। সত্যিই একটা মেয়ের এরকম সময়ে তার শক্তি যেমন পরিবার হয়, তার দুর্বলতাও তার পরিবারই হয়। এই পুরো পরিবারকেই ভালো লেগেছে। সবার মধ্যেই সহানুভূতি, এক অন্যের প্রতি দায়িত্ববোধ পড়তে ভালো লেগেছে। এখনকার পরিবারগুলোর ভগ্নদশা এই অনুভূতি আর সম্মানটুকু না থাকার কারণেই। ইফরাদ আর পদ্মকে নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার নেই, এই দুই চরিত্র আগে থেকেই ভালো লাগে, একেবারে আদর্শ দম্পতি। লামিয়ার বোধহয় আরেকটু অনুশোচনা বা বোধদয় দরকার ছিল, ওর আচরণ এমন ছিল কেন সব দোষ কেবল ইয়াজিদের। অথচ ইয়াজিদের দিক থেকে ভাবতে গেলে বেচারা অযথাই বাজে পরিস্থিতিতে পড়েছে, ওর জন্যই সবটা হজম করা কঠিন ছিল। সবশেষে মারজিয়া! সবগল্পে যেমন দেখায়, খারাপ লোক অনুশোচনায় মরে যাচ্ছে, আসলে কিন্তু এমনটা হয় না। ভালো মনের কেউ যখন ভুল করে বা অন্যায় করে তারাই অনুশোচনায় ভুগে, কিন্তু যে ভেতর থেকেই পঁচে যাওয়া, তার মধ্যে অনুশোচনা বোধ দূরে থাক, সে যে খারাপ কিছু করেছে এই স্বীকারোক্তি ও আসে না। মারজিয়া ও ঠিক তাই। ওর আরকটু যন্ত্রণা দেখতে পারলে শান্তি লাগতো। আপনার গল্পের চরিত্র গুলোর সমালোচনা করা যায়না, কারণ সবগুলোই ভীষণ বাস্তবিক, আমাদের চারপাশে থাকা মানুষজন যেন। কেউই সুপারহিরো না, সবাই নিজ নিজ দোষ গুণ নিয়েই এগিয়ে যায়। অনেকগুলো দিন অপেক্ষা করেছি এই গল্পটার জন্য, অবশেষে অপেক্ষা সার্থক।
গল্পটা দারুণ, অনেক দিন ধরেই পড়তে চেয়েছিলাম কিন্তু পারছিলাম না আজ পড়ে শেষ করলাম। আমার ভিষণ ভালো লেগেছে।
এক কথায় অসাধারণ অসাধারণ অসাধারণ একটি লেখা। সম্পর্ক ও সংসার কে ঠিক যেভাবে উপস্থাপন করলে বাস্তবতা ঠিকরে পড়বে ঠিক সেভাবেই লেখা হয়েছে। প্রতিটি চরিত্র নিজেদের স্বকীয়তা আর আচরণ দিয়ে মন জয় করেছে তো মন থেকে ঘৃণা সৃষ্টি করেছে। যে যেমন করেছে ঠিক তেমন কর্মফল(পুরষ্কার বা পরিনতি)পেয়েছে। তবে আমাদের প্রধান চরিত্র দুজনের সেই সংসার ও সম্পর্কের প্রতীক দেখার যে খুব আক্ষেপ রয়ে গেল। শেষ হয়েও শেষ হলো না এমন অবস্থায় রয়ে গেছে। এখন বাকিটা কল্পনায় বারবার সাজাচ্ছি যে এরপর কি হল, ওরা কি সেই কাঙ্খিত জনকে পেয়েছে? কেমন চলছে ওদের সংসার? উফফ!!! এখনও রেশ থেকে গেছে। এটার দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ আসলে খুব ভালো হবে। আমাদের পাঠকদের আক্ষেপ একেবারে মিটে যাবে। তবে এটাই তো আসল আকর্ষণ যে শেষটা আমাদের তাদের ভবিষ্যৎ ভাবতে বাধ্য করছে। অসম্ভব সুন্দর একটা লেখনী আপু। তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
গল্পটা আসলেই খুউব ভাল ছিলো