

“তোমার বিয়ে ঠিক করেছি আমরা।” “তোমার ঘরে সতিন আসছে, অভিনন্দন, আম্মা।” “এগুলো কেমন বেয়াদবি কথা? কোন লজিকে এই কথা বলছ তুমি?” “যে লজিকে আমার বিয়ে তুমি ঠিক করেছ, সেই লজিকে বর সেজে তুমিই বসে যেও।” তুষার খান রাগী চোখে তার দিকে তাকালে, তার দিকে পূর্ণদৃষ্টি মেলে তৈমুর আবারও বলে, “লজিকলেস কথার উত্তরে লজিক খুঁজতে চাইছ কেন?” “কোন কথা লজিকলেস? বিয়েটা লজিকলেস কথা?” তুষার খান এবার খানিকটা হুঙ্কার দিয়ে বলে উঠলেন কথাটা। কিন্তু তৈমুর আগের মতই শান্ত থেকে ধারালো কণ্ঠে বলল, “যার বিয়ে, তার মতামত ছাড়াই তোমরা বিয়ে ঠিক করে ফেলে এক্সপেক্ট করছ, সেই বিয়েতে আমি বর সেজে বসব, আর ইউ সিরিয়াস? এটাকে তোমার লজিকলেস মনে হচ্ছে না, আব্বু?” “না, মনে হচ্ছে না। তুমি কোন হসপিটালে হবে থেকে শুরু করে কোন স্কুল, কলেজে পড়াশোনা করবে, সেসব সিদ্ধান্ত যখন আমরা নিতে পেরেছি, তবে বিয়ের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ একটা সিদ্ধান্ত কেন নিতে পারিনা?” “কোন উত্তরটা শুনতে পছন্দ করবে? যেটা মনে মনে ভাবছ, সেটা নাকি যেটা নিয়ে ভাবছ না, সেটা?” “হেয়ালি পছন্দ করিনা আমি, তৈমুর। যা বলার সরাসরি বলো।” তৈমুর এবার খানিকটা নড়েচড়ে বসলো। কণ্ঠে ধারালো ভাব বজায় রেখে বলল, “ওকে, ফাইন। তুমি মনে মনে যেটা ভাবছ, সেটাই বলি। আমি এঙ্গেজড। পাত্রী হিসেবে আমার হবু বউটা যদি সে হয়, তবে চলো এখনই ফরজ কাজটা সেরে ফেলি।” “মেয়েটা তোমাকে বিয়ে করতে চায় না, এটা বোঝো না? শুধুমাত্র তোমার জন্য ওই ছোটলোক মেয়েটা আমাদের মুখের উপর অপমান করার সাহস পেয়েছে। একমাত্র তোমার আস্কারাতে।” তৈমুর চট করে চোখ তুলে তাকাল তুষার খানের দিকে। চোখের মণি শান্ত। চোয়াল শক্ত। “শুধুমাত্র আমার বাপ বলে ছাড় পেয়ে গেলে। আমি সব সহ্য করে নেব, কিন্তু আমার বউয়ের অসম্মান না।”