

'আন্টি আছেন কী ওখানে? আপনাদের কুকুর দুটোকে একটু শান্ত করবেন? দেখেন, আমার বিড়ালদের দেখে ডাকছে।' ছোঁয়া ডাক দিলো, কিন্তু কেউ এলো না; বরং কুকুর দুইটা আরো জোরে জোরে ডাকতে লাগল। ছোঁয়া বিরক্ত হলো। সে কুকুরগুলোর দিকে চোখ মোটা মোটা করে তাকাতেই মৃন্ময় তোয়ালে হাতে, খালি গায়ে শুধু ট্রাউজার পরে বারান্দায় এলো। চুলগুলো কিছুটা এলোমেলো, চুল থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে, কিন্তু তাতে তার কোনো খেয়াল নেই; তার চোখ তো পাশের বারান্দা দাঁড়িয়ে থাকা ছোঁয়ার দিকে। এদিকে ছোঁয়া এক দৃষ্টিতে লোকটার দিকে তাকিয়ে আছে। তামাটে বর্ণের লোকটাকে নিজের অজান্তেই ভালো লাগছে তার কাছে। ছোঁয়াকে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে মৃন্ময় একটা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি মেয়েটার উপর দিল। সে ছোঁয়ার দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে বলে উঠলো, 'দেখো, তোমার বিড়াল দুটোই তো ওদের উসকাচ্ছে। ওদের ঘরে ঢুকিয়ে দাও, তাহলে আমার বাচ্চা দু'টো চুপ করে যাবে।' লোকটার কথাগুলো শুনে ছোঁয়ার চোখ-মুখ থেকে ভালো লাগা উবে গেলো। সে এবার রাগে ফুঁসে উঠল। সে গটগট করে বলে উঠলো, 'কানা নাকি? চোখে দেখেন না? আমার বিড়ালরা কী করেছে? তারা তো নিজেদের জায়গাতে আছে। আপনার কুকুর দুটোই, ও সরি, আপনার বাচ্চা দুটো অসভ্যের মতো ডাকছে। সরান ওদের।' মৃন্ময় মেয়েটার কথা শুনে হাসল, কিন্তু সে হাসিতে ব্যঙ্গ স্পষ্ট ছিল, যা ছোঁয়ার চোখেও পড়লো। সে নিজের চোখ কুঁচকে নিতে ভুললো না। সে একহাত দিয়ে নিজের চুলগুলো ছাড়তে ছাড়তে বলে উঠলো, 'অসভ্য? অসভ্য কাকে বল? জানো, আমার কুকুর দুটো প্রশিক্ষিত। তোমার বিড়াল দুটোই যত্রতত্র লাফালাফি করে ওদের নজর কাড়ছে। ওদের সরাও, মেয়ে।'