

কিছু কিছু গল্প জন্ম নেয় মানুষের অন্তরের অন্ধকার থেকে—যেখানে থাকে নিঃসঙ্গতা, দুর্ভয়, প্রতিবাদহীনতা আর আকাঙ্ক্ষার দ্বন্দ্ব। ‘ভালোবাসি হয়নি বলা’ এমনই এক উপন্যাস, যেখানে মানুষের সম্পর্ক, ক্ষমতার অপব্যবহার আর ভালোবাসার অসম্পূর্ণতা ভিন্ন ভিন্ন স্রোতে এসে মিশেছে। গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে আটাশ বছরের এক সাধারণ তরুণী। কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হয়ে পরিবার-সংসার থেকে বিচ্যুত হয়ে বেঁচে থাকতে সে ঢাকা শহরে এসে চাকরি নেয় ষাটের কোঠা পেরোনো এক প্রকাশকের অফিসে। এই প্রকাশক কেবল বই প্রকাশক নন, তিনিও লেখক, এবং তার লেখা বইয়ের বিষয়বস্তুর ফাঁদে একদিন তরুণীকে জড়িয়ে ফেলেন। অস্বস্তিকর সেই অভিজ্ঞতা তরুণীটি মেনে নেয়, প্রতিবাদ করতে পারে না। কারণ, চাকরি হারানোর ভয় তার বুক চেপে ধরে। জীবন কিন্তু একপাশে থেমে থাকে না। অনলাইনে বই কেনাবেচার সূত্রে তরুণীর সাথে পরিচয় হয় এক তরুণ পাঠকের, যে বয়সে মাত্র তিরিশের। বই নিয়ে কথোপকথনের ভেতর দিয়ে গড়ে ওঠে এক অদৃশ্য সেতু—যা ধীরে ধীরে তাদের ভেতরের একাকিত্ব ভরাট করতে শুরু করে। কিন্তু জীবনের নির্মমতায় তরুণীর জীবনের গোপন ঘটনা প্রেমভাবাপন্ন তরুণের সামনে হঠাৎ উন্মোচন হয়ে যায়, তখনই সম্ভাব্য প্রেমের পথ থমকে যায়। তরুণ বিস্মিত হয়, হতভম্ব হয়ে যায়, আর তরুণীও নিজেকে হারিয়ে ফেলে গভীর বিষণ্নতায়। পরিবার-সংসার, কর্মক্ষেত্র ও সম্ভাব্য প্রেমিকের পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে বেছে নেয় আত্মহত্যার মতো কঠিন পথ। এই উপন্যাস আসলে শুধু তরুণ-তরুণীর প্রেম কিংবা বৃদ্ধ প্রকাশকের নারী-লিপ্সুতার গল্প নয়; এটি আমাদের সমাজের গল্প—যেখানে ক্ষমতা, বয়স, অর্থনৈতিক দুর্বলতা আর অব্যক্ত ভালোবাসা মানুষের জীবনকে ভেঙে দেয়, আবার নতুন করে গড়ে তোলে। ‘ভালোবাসি হয়নি বলা’ একটি অসম্পূর্ণ ভালোবাসার গল্প, যার ভেতরে পাঠক খুঁজে পাবেন নিঃসঙ্গতার নিঃশব্দ প্রতিধ্বনি, প্রতিবাদের অক্ষমতা এবং ভালোবাসার অদৃশ্য আকুলতা। আমার বিশ্বাস, উপন্যাসটি পাঠকের মনে এক প্রশ্ন জাগাবে—ভালোবাসি না বলা কি অপরাধ, না কি ভালোবাসি বলেও তাকে রক্ষা না করা আরও বড় ব্যর্থতা? — মোহাম্মদ অংকন লেখক
